সচেতনতা শুরু হোক শিকড় থেকে!

0

গিয়াস উদ্দিন:

• ঘটনা-১
কোনও একটি স্কুলে একটি বছর চারেকের ছেলে তারই সহপাঠী বান্ধবীর রেচনাঙ্গে (কারণ যৌনাঙ্গ তৈরি হতে মিনিমাম ১০ বছর বয়স হতে হয়) আঙুল এবং পেনসিল ঢুকিয়ে অত্যাচার করেছে। যেহেতু, মেয়েরা শারীরিকভাবে একটু দুর্বল হয়, তাই বাচ্চা মেয়েটি বাধা দিতে পারেনি; স্কুলে কেউ ওর কথাও শোনেনি। এমনকি বাড়িতে এসে যন্ত্রণা হচ্ছে বললেও তার মা গুরুত্ব দেয়নি ব্যাপারটায়। পরে যন্ত্রণা বাড়লে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি বলেন, যৌনাঙ্গ থুড়ি রেচনাঙ্গে ইন্টারনাল কিছু ক্ষতি হয়েছে।

• ঘটনা-২

মফস্বলে আমার বাড়ির কাছের একটা ঘটনা এটা, মায়ের কাছে শুনলাম। বছর চারেকের বাচ্চা ছেলেটাকে তারই পাড়ার চাচীমা নিজের পাঁচ বছরের মেয়েটির সঙ্গে টিউশন পড়াবেন বলে ডেকে নিয়ে যান রোজ। এদিকে ছেলেটির মা বেশ নিশ্চিন্ত, ছেলের বেশ ভালোই পড়াশুনা হচ্ছে। একদিন মায়ের নজরে আসে, বছর চারেকের ছেলেটি নিজের রেচনাঙ্গ নিয়ে বেশ আপত্তিজনকভাবে নাড়াচাড়া করছে। মা’টি বেশ সচেতন হওয়ায় বাচ্চাটিকে বলে, এটা করতে নেই। সে উত্তর দেয়, চাচীমা তো প্রতিদিনই আমাকে এরকম করে দেয়।

প্রসঙ্গত বলে রাখি, প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে ছেলেটিকে কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কী শাস্তি হতে পারে ভেবে সবাই জেরবার। দ্বিতীয় ঘটনার ক্ষেত্রে ছেলেটিকে ওই বাড়িতে আর পড়তে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভেবে দেখুন, যেখানে যৌনাঙ্গ তৈরি হতেই এখনও বেশ কয়েকবছর দেরি আছে, সেখানে বাচ্চাগুলো এরকম কাণ্ড কিভাবে ঘটালো? এর জন্যে দায়ী তো আসলে আমরা। অসচেতনভাবে ওদের সামনেই আমাদের সেক্স-লাইফ জাহির করা।

রাতে হয়তো পাশে শুইয়ে রেখেই আমরা মত্ত হই, ভেবে নিই, ঘুমোচ্ছে ঘুমাক; কোনও অসুবিধা নেই। বাচ্চাটি এদিকে সবটা অনুভব করছে, দেখছে। হতে পারে, ফোনে আপনি পর্ন দেখেছেন আগের রাতেই, কিংবা নিজেদের ব্যাপারটা ভিডিও রেকর্ড করেছেন। সকালে গেম খেলার নামে বাচ্চাটি ফোন হাতে পেয়ে সেগুলোও দেখলো। এবং কৌতূহল বশেই বন্ধু বা বান্ধবীর ওপর তা প্রয়োগ করলো, না জেনেই যে এটা একপ্রকার শ্লীলতাহানি। একটু বড় হওয়ার পর ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ওর মধ্যে অবসাদ জন্মাবে না, কে বলতে পারে! কিংবা ভেবে বলুন তো, ওই বছর চারেকের বাচ্চা ছেলেটির এই মুহূর্তের ভবিষ্যৎই বা কী? মেয়েটির যৌনাঙ্গ তৈরি হওয়ার আগেই যদি সেটি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়ে থাকে?

দ্বিতীয় ঘটনাটিকেও ছোটো বলে ভেবে নেবেন না। এগুলোই আর একটু বড় বয়সে বড় আকার নেয়। যেহেতু, ওরা সত্যিই কিছু বোঝে না; কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার বছর বয়সে কোনও বোধ তৈরি হয় না এসবের। তাই, আপনাকে সচেতন হতে হবে। আপনার আশপাশের বাচ্চাদের খেয়াল রাখুন। নিজের বাচ্চাটিকে সঠিকভাবে বড় করে তুলুন। তবেই না ধর্ষণমুক্ত সমাজ পাবো আমরা…

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 248
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    249
    Shares

লেখাটি ১,২৭৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.