আপনাদের আল্লাহ কি আলাদা নাকি?

0

ঈশিতা বিনতে শিরিন নজরুল:

’Eai malaun ami tor ma bon er dud dektam chai’ অথবা ‘মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া পতিতালয়ের বুড়িরাই “উইমেন চ্যাপ্টারে” লেখালেখি করে!’-এগুলো ‘মুমিন’ পাঠকদের মন্তব্য! যত্তসব ‘অশিক্ষিত বেশ্যারা’ সব একত্রিত হয়েছে বলে তাদের থেকে জাতিকে বাঁচাতে, বিশেষ করে অন্যান্য ‘ভাল’ নারীদের বাঁচাতে আপনারা বদ্ধপরিকর। এগুলো আমি বলছি না, আপনাদের মন্তব্যের সিকোয়েন্স বলছে!

শুধু যে এই পোর্টালে এ ধরনের মন্তব্য হয়, তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন পোর্টাল বা পেইজে; যেমন-ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবালের পেইজে তাঁর লেখাতেও প্রতিনিয়ত এধরনের মন্তব্য দেখতে পাই।

অবস্থা এমনিই ভয়াবহ যে, ধরুন তসলিমা নাসরিন কোন শাড়ির ছবি দিয়ে ব্যক্তিগত উপলব্ধি লিখেছেন,‘কী সুন্দর শাড়ি’; সেখানে অবধারিতভাবে দেখবেন কোনো না কোনো ’শুভাকাঙ্খী’ লিখেছেন, ‘ঐ কুত্তি বেশ্যা মাগী, তুই শাড়ি পরলে শরীর দেখাবি কেমনে?’

বিষয়টা এমন যে, কারও লেখা বা কাজ পছন্দ হচ্ছে না দিলাম গালি ভাণ্ডারের সব গালি উজাড় করে!! তাদের মন্তব্যের ভঙ্গিমা অত্যন্ত জিহাদী, যেমনঃ ‘এই চোদানী মাগী, তোগো বিচার আল্লাহ নিজে করবে!!’ অথবা ‘ঐ খানকির পোলা তোর মতো নাজায়েজ মানুষের শাস্তি হাশরেই হবে!!’ আমরা না হয় ‘অশিক্ষিত বোকাচোদা পথভ্রষ্টের দল’, আপনারা তো ভাই শিক্ষিত, জ্ঞানী; তো আপনারা কেন আপনাদের জ্ঞান ও শিক্ষার আলোয় ‘পথভ্রষ্ট’দের আলোকিত না করে অশ্লীলতা করেন? মৌখিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন করেন? ধর্ষণ শুধু শরীরেই করা যায় তা না রে ভাই, ভাষা ,/কথা দিয়েও ধর্ষণ করা যায়, যেটা আপনারা প্রতিদিন করছেন!!

আপনাদের কথামতো আমি স্বীকার করছি, আমার জ্ঞান কম। তো ভাই আপনারা একটু জ্ঞান দেন যে, কুরআনের কোন জায়গাতে বলা আছে যে, আপনার কাছে খারাপ মনে হলেই সে খারাপ এবং তাকে অশ্লীলভাবে এমন কিছু কথা বা কাজ করতে হবে যেন সে জীবনের মতো ‘ভাল’ হয়ে যায়? অামি জানতাম আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় কিন্তু অাপনাদের জিহাদী গালি খেতে খেতে মনে হচ্ছে বোধকরি অাপনাদের আল্লাহ ভিন্ন।

কারণ, আমার আল্লাহ তাঁর কুরআনে বলেছেন, জিহবা বা জবানে লাগাম দেবার প্রসঙ্গে। “মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার সাথেই রয়েছে।” [সূরা কাফ : ১৮]। আমার নবী বলেছেন, তুমি তোমার জবানকে হেফাজত করো [তিরমিজি]। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো, আপনারা কাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন? কাদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করছেন?

ধর্ম নিয়ে কাউকে বোঝাতে যাওয়া আমার পছন্দের বিষয় নয়। কিন্তু যেহেতু আপনারা মনে করেন যে, আপনারা অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ তাই বলছি, ইসলামে বাকসংযমের গুরুত্ব জিহবা হচ্ছে আল্লাহর নিয়ামতসমূহের একটি। আল্লাহ জিহ্বাকে বিভিন্ন বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করা ও মনের ভাব প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে দান করেছেন।
পবিত্র কোরানে আছে, আমি কি তার জন্য দুটি চোখ বানাইনি? আর একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট! [সুরা আল-বালাদ: ৮-৯]। জিহ্বা বা মুখের ব্যবহার থেকেই বুঝে নেয়া যায়, কোন ব্যক্তি কতটা বুদ্ধিমান অথবা নির্বোধ! কে কতটা সভ্য অথবা অসভ্য! এই জিহ্বার অযাচিত ব্যবহারের ফলেই অনেককে হতে হয় বিপন্ন অথবা লাঞ্ছিত।

অন্য একটি সহীহ হাদীসে রয়েছে, “মুসলিমের জন্য গালিগালাজ করাই হলো কুফ্‌র।” তাই নয় কি? হে মুমিন ভাইয়েরা, যা ইচ্ছে তাই বলে ফেলা একজন মুমিনের আচরণ হতে পারে না; বরং প্রতিটি কথাই হিসাব করে বলা উচিত। আপনারা পর্নোসাইটের লিঙ্ক দিয়ে বলেছেন যে, এসব পর্নে অভিনয় করা নারীরাই নাকি নারীবাদী আর আমরা সবাই নাকি একই, এবং আমাদের শাস্তি নাকি হবেই; তো ভাই আপনারে জিগাই যে, আপনাদের তৈরি ইসলাম ধর্মে তো পর্নো মুভি দেখা জায়েজ নাকি? নইলে এতো সাইটের উল্লেখ কেমনে করলেন রে ভাই? আর নবী-রাসূলের জীবনী পড়ে শিক্ষা নিতে বলেছেন যারা, তারাও একটু আধটু শিক্ষা নেন, অামাদের কোন নবীই এমন অশ্লীল বৗবহার বা ভাষার প্রয়োগ করেছেন বলে অন্তত আমি জানি না!

জানি এই লেখার পর আপনারা বলবেন যে, আমার মতো একজন বেশ্যা মাগীর মুখে আপনারা ধর্মের কথা শুনতে চান না। শুইনেন না। শুধু শোনেন যে, আপনারা যা করছেন সেটা এক কথায় হ্যারাসমেন্ট, নির্যাতন এবং এধরনের কাজের ফলে যদি মামলা হয়, তবে আইপি দিয়ে কিন্তু খুব সহজেই সনাক্ত করাও সম্ভব। তবে ভয় নাই, এসব কথাকে পাত্তা নয়, বরং শুধু অসুস্থবোধ করি আপনাদের অসুস্থ মানসিকতায়।

এসব কথাকে পাত্তা দিলে তো আর পথ চলাই হবে না।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 407
  •  
  •  
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    409
    Shares

লেখাটি ২,২৬৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.