একজন নারীও যেন আর নির্যাতনের শিকার না হয়

সেলিনা শাহনাজ শিল্পী:

পরিবার ও সমাজে নারী কখনও কন্যাশিশু, কখনও কিশোরী, কিশোরী থেকে তারুণ্যে, তারুণ্য থেকে পূর্ণ যৌবনা হয়ে একদিন হয়ে পড়ে কারও স্ত্রী, তারপর একদিন মা। জীবনের বিভিন্ন কালপর্বে যখন যে ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হোক না কেন, নারীকে ঐ বিশেষ ভূমিকার জন্য বিশেষ কিছু মূল্য দিতে হয়।

নারীর জীবনের বিভিন্ন কালপর্বের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে আছে নানা বঞ্চনা ও অবহেলার কাহিনী। হোক সে শহরের চারদেয়ালের মধ্যে বাস করা নারী, কিংবা গ্রামের মুক্ত আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা নারী, হোক সে কর্মজীবী নারী কিংবা গৃহিণী, হোক সে ধনী পরিবারের কিংবা দরিদ্র পরিবারের – প্রত্যেক নারীর জীবন কাহিনীগুলো অনেকটা একই ধরনের।
জন্ম থেকেই ধরা যাক। আবহমানকালের বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে প্রমাণ করেছে যে, শহর কিংবা গ্রাম যেখানেই হোক না কেন, পরিবার কন্যাশিশু চায় না। এখানে পুত্রশিশু যতটা আদরের, কন্যাশিশু ততটাই অবহেলার পাত্রী। শুধু কন্যাশিশু হয়ে জন্মগ্রহণ করার কারণেই অবহেলা, নির্যাতন, বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে হাজারো শিশু। এসব বৈষম্য, অবহেলা ও কুসংস্কারের চর্চা গর্ভাবস্থা থেকে শুরু হয় এবং সারা জীবন ধরে চলতে থাকে।

এদেশে নারী গর্ভবতী হওয়ার পর পরিবারের সবাই পুত্রসন্তানের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর পরিবারের সবাই মনঃক্ষুন্ন হয়ে থাকেন এবং মা ও সন্তান দুজনের উপরই নেমে আসে চরম অনাদর ও অবহেলা। এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে গর্ভাবস্থায় কন্যাশিশুর ভ্রুণ চিহ্নিত করে মেরে ফেলা হয়। বেঁচে যাওয়া কন্যাশিশুদের পরবর্তী সময়ে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।

আইসিডিডিআরবি-র এক জরিপে দেখা গেছে, ০-৪ বছর বয়সী মেয়েশিশুর ক্যালরির ভাগ ছেলে শিশুর চাইতে ১৬ শতাংশ কম এবং প্রোটিনের ভাগ ১২ শতাংশ কম। এসব কারণে মেয়েশিশু ঠিকমতো বেড়ে ওঠে না। বয়স অনুযায়ী যে উচ্চতা থাকা দরকার সে উচ্চতা তাদের থাকে না। তাদের জীবন সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হতে পারে না।

অপুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য অধিকার থেকে বিচ্যুত হয়ে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়ে কন্যাশিশু একদিন কিশোরী হয়। কিশোরী বয়সের এক চরম বেদনাদায়ক অনুভূতির নাম যৌন হয়রানি।
চারদিকের রঙ্গীন স্বপ্নময় জীবন যখন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, একটু আধটু ডানা মেলতে ইচ্ছে করে, ঠিক তখনই তাকে লড়তে হয় সবচেয়ে বড় বাধা-বিপত্তিগুলোর সঙ্গে। ঘরে কিংবা বাইরে সর্বত্র শত শত রাক্ষুসে চোখ তাকে গিলে ফেলতে চায় প্রতিনিয়ত। খারাপ চাহনি, অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশংসা, অশালীন রসিকতা, গায়ে হাত দেওয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

শুধু বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে নয়, লড়াই চলে কাছের মানুষের সঙ্গে। খালাতো ভাই, চাচাতো ভাই, এমনকি নানা, দাদা বয়সী আপনজনেরাও সুযোগ বুঝে সম্পর্কের হিসেব চুকে দিয়ে হাত বাড়ায় তার পানে। লজ্জায়, অপমানে কিশোরী আত্মহননের পথ বেছে নেয়। আবার কেউবা এই দু:স্বপ্ন সারা জীবন নীরবে বয়ে বেড়ায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) -এর ভায়োল্যান্স অ্যাগেইস্ট উইমেন সার্ভে ২০১৫-র তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে ৩৪.২ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার। মনের গভীরে ক্ষত নিয়ে বড় হয় শত সহস্র কিশোরী। কিশোরী থেকে তরুণী, তরুণী থেকে কর্মজীবী নারী, কর্মজীবী নারী থেকে স্ত্রী-মা যাই হোক না কেন কিশোরী বয়সে যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি ঘটেনি কোনো নারীর।

কিশোরীর ভবিষ্যতকে নিরাপদ করতে, হাজারও রাক্ষুসে চোখ থেকে কন্যাকে বাঁচাতে, পরিবারের সম্মান রক্ষা করতে অভিভাবক তড়িঘড়ি করে কন্যার বিয়ের আয়োজন করে। কিশোরী বয়সে রঙীন স্বপ্নময় জীবন যখন তার ছোট্ট মনের কুঠুরে বাসা বাঁধতে শুরু করে, ঠিক তখনই বাল্যবিয়ে নামক অভিশাপ তার জীবনের সবকিছু ওলট-পালট করে দেয়। এই বিয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমত মেয়েশিশুর অধিকার লংঘন করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত তার প্রতি নির্যাতন করা হচ্ছে। সর্বোপরি এটি একটি সামাজিক ও আইনগত অপরাধ। অথচ আমরা কতজনই বা এর তোয়াক্কা করি। শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত, ধনী কিংবা দরিদ্র, শহর কিংবা গ্রাম অধিকাংশ বাঙালি পুরুষই চলনে-বলনে যতই আধুনিক হোন না কেন, বিয়েতে তাদের পাত্রীর বয়স কম হওয়া চাই।

প্রতিটি কিশোর কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণতা লাভের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। বিজ্ঞানসম্মতভাবে ১৮ বছরের আগে একটি মেয়ে কখনই পরিপূর্ণ বিকাশ লাভ করে না। বাল্যবিয়ের কারণে একজন মেয়েশিশু যেমন পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে পারে না, তেমনি যোগ্য, দক্ষ ও কর্মক্ষম নারী হিসেবে পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে না। অথচ বাল্যবিয়ের মাধ্যমে দেশের অর্ধেকেরও বেশি কন্যাশিশুর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

কালপর্বে এবার নারী জীবনের গল্প। নারী শব্দটি যেন নির্যাতন ও শোষণের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। ঘরে, বাইরে, কর্মস্থলে, ধনী-দরিদ্র, গ্রাম-শহর সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে এর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনের নতুন নতুন ধরন যুক্ত হচ্ছে। এমন কোনদিন পাওয়া যাবে না, যেদিন পত্রিকার পাতায় নারী নির্যাতনের দু’একটি সংবাদ চোখে না পড়ে। অবাক হলেও সত্যি প্রতি তিনজন বাংলাদেশী নারীর দুইজন জীবনের কখনও না কখনও কোনো না কোনো সহিংসতার শিকার হয়েছেন। হতে পারে এটা কোন শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ, অ্যাসিড সন্ত্রাস কিংবা যৌন নির্যাতন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি দেশের ৫৬টি জেলা থেকে নির্যাতনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে একটি রিপোর্ট তৈরি করে। রিপোর্টের ২০১৬ ও ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলছে। প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০১৬ সালে অক্টোবর মাস পর্যন্ত নারী নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৫,৮২৫টি, যা ২০১৭ সালের একই সময়ে ৫৮% বেড়ে দাঁড়ায় ৯,১৯৬টি।

রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৭ সালের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫,৫৮৩ জন, আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ৭৫৭ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৩৬ জন, অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ৩৪ জন, খুন ৩৭০ জন, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২৮ জন ও অন্যান্য ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৮৮ জন। হয়ত বাস্তবে এ সংখ্যাটা আরও বেশি, কারণ নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকাশ করেন না। ব্র্যাক ও ইউএনডিপি-র উদ্যোগে দেশের ৪৪টি ইউনিয়নে পরিচালিত অন্য এক মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখা গেছে, নারীর প্রতি সহিংস ঘটনার ৬৮ শতাংশই নথিভুক্ত হয় না।

বাংলাদেশে যেসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে অন্যতম হলো হত্যা। একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হত্যাকাণ্ড ঘটে যৌতুকের কারণে। যৌতুক প্রদানে ব্যর্থ হয়ে স্বামীর হাতে বা স্বামীর স্বজনদের হাতে হত্যার শিকার হয়ে থাকেন এসব নারী। ২০১৭ সালে ব্র্যাক ৩৭০টি হত্যার ঘটনা রেকর্ড করে। নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এছাড়াও ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কিংবা ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার জন্য খুনের আশ্রয় নেওয়া হয়। ছোটখাটো পারিবারিক কলহের কারণেও নারীকে প্রাণ দিতে হচ্ছে।

নারীকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। ২০১৭ সালে ৫,৫৮৩টি শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পারিবারিক ছোটখাটো কারণসহ প্রধানত যৌতুকের কারণে স্বামী তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে থাকে। স্বামীর হাতে তো বটেই এমনকি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের হাতেও নারীকে অত্যাচারিত হতে হচ্ছে। নির্যাতন সইতে না পেরে অনেক নারী মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন।

ধর্ষণ বর্তমানে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছর অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৯৩৬ জন। উদ্বেগের বিষয় হলো, বাদ যাচ্ছে না এর মূল ভুক্তভোগী শিশুরাও। ধর্ষণের শিকার মোট ভুক্তভোগীর ৭৫ শতাংশ শিশু। কেউ প্রতিশোধের নেশায়, কেউবা যৌনাকাঙ্খা মিটানোর বিকৃত বাসনা থেকে এরকম ধর্ষণের আশ্রয় নিয়েছে। সম্প্রতি শুধু ধর্ষণ নয়, ধর্ষণ শেষে বা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা, হত্যার প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়ছে দিন দিন। ২০১৭ সালে ৭৫৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আত্মহত্যার বিভিন্ন কারণের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিশেষ মুহুর্তের গোপন ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করা নারীর আত্মহননের নতুন কারণ হিসেবে সামনে চলে আসছে।

নারীর উপর নেমে আসা শারীরিক নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র নিয়ে অনেক আলোচনা, সভা, সিম্পোজিয়াম হলেও নারীর মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি আড়ালে থেকে যায়। মানসিক নির্যাতনের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে স্বামীর ঘরেই। স্বামী ছাড়াও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দ্বারা অবজ্ঞা, অবহেলা, অপমান ও অবমাননা একটি নারীর জীবনকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এ বছর ব্র্যাক এ ধরনের ৬২৮টি ঘটনার তথ্য রেকর্ড করেছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীর উপর এই নির্যাতন হয় পুরুষের দ্বারা। রিপোর্টে দেখা যায়, নারী নির্যাতনকারীর ৯৩ শতাংশই পুরুষ অর্থ্যাৎ প্রতি ১০ জনের নয় জন পুরুষ। তাই নারী নির্যাতন বন্ধে বড় ভূমিকা নিতে পারে পুরুষরা। নারী নির্যাতন বন্ধে সবার আগে এগিয়ে আসা দরকার পুরুষদেরই।

নারী নির্যাতন বন্ধে একজন পুরুষ যা করতে পারেন:
একজন পুরুষ হিসেবে নারী নির্যাতন বিষয়ে সচেতন হবো। নারী নির্যাতনের ধরন, এর কুফল এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দেশে যে আইন আছে তা জানবো। কোনো অবস্থাতেই কোনো নারীর প্রতি নির্যাতনমূলক আচরণ করবো না। সবার আগে নিজ পরিবারকেই নারী নির্যাতনমমুক্ত করে তুলবো।

নারী নির্যাতনের কুফল, প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা এবং এ সংক্রান্ত আইন বিষয়ে আশেপাশের সবাইকে সচেতন করে তুলবো। আমার কোনো ভাই, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মী কোনো নারীর প্রতি নির্যাতনমূলক আচরণ করলে বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবো এবং বুঝিয়ে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত রাখবো।

চুপ করে থাকবো না; প্রতিবাদ করবো। কোনো নারীকে নির্যাতনের শিকার হতে দেখলে চুপ করে থাকবো না। নির্যাতনকারীকে বাধা দেবো। প্রয়োজনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং পুলিশের সহায়তা নেবো। এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সবাই মিলে একজোট হয়ে তার প্রতিবাদ করবো।

অন্যদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে উঠবো। আমার আচরণ কিংবা কাজ যেন কোনো নারীকে হেয় না করে বা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবো। নারীর প্রতি বৈষম্যহীন ও সম্মানজনক আচরণ করে অন্যদের, বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো এবং তাদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে উঠবো।

নারী নির্যাতনবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেবো। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যারা কাজ করছেন তাদের পাশে দাঁড়াবো। নারী নির্যাতনবিরোধী কার্যক্রমকে সমর্থন দেবো এবং তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবো।

আজ ২৫শে নভেম্বর, ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’। একই সঙ্গে আজ থেকে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষেরও। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পর্যন্ত পৃথিবীর দেশে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই পক্ষ পালিত হবে এই বার্তা নিয়ে যে, নারী নির্যাতন নারীর কোনো একার বিষয় নয়। নারীর উপর নির্যাতনের ফলে নির্যাতিত নারী যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবারের অন্য সদস্যরাও। আর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে পুরো সমাজের উপর। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের সব মানুষের যৌথ প্রচেষ্টাতেই সম্ভব নির্যাতনমুক্ত একটি সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। তাই এবারের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষে আমাদের অঙ্গীকার হোক, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে সোচ্চার হই, নারীর উপর সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে, ঘরে-বাইরে আর একজন নারীও যেন নির্যাতনের শিকার না হয়।’

লেখক পরিচিতি:
ম্যানেজার, কমিউনিকেশন্স
সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, ব্র্যাক

শেয়ার করুন:
  • 277
  •  
  •  
  •  
  •  
    277
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.