মেয়াদের শেষসময়ে এসে দুদেশই মরীয়া

Dipu-moniউইমেন চ্যাপ্টার: স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে এবার ভারতের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার তিনদিনের সফরে ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপির সঙ্গে দীপু মনির আলোচনায় বসার এ তথ্য বুধবার প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকার বিরোধী দলকে নিয়ে একাধিককার বৈঠক করলেও কোন সমাধানে আসতে পারেননি। এ অবস্থায় মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিরোধী দলের বিরোধিতায় শেষ পর্যায়ে আটকে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তির জট ছাড়াতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এবার সরাসরি বিজেপির সঙ্গে আলোচনায় বসছেন।

১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আওতায় এই ছিটমহল এবং সীমান্তের ‘অপদখলীয়’ ভূমি বিনিময়ের জন্য ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় প্রয়োজনীয় প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ওই প্রটোকল বাস্তবায়নে ভারতীয় মন্ত্রিসভা গত ফেব্রুয়ারিতে সংবিধান সংশোধনের অনুমতিও দেয়। রাজ্যসভার গত অধিবেশনে এ বিলগুলো উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও বিজেপি ও আসাম গণ পরিষদের হুমকির কারণে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস।

কোনো বিল পাস করতে হলে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয়কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় অন্তত দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের যা নেই। আর সেজন্য বিরোধী দলের সমর্থনের অপেক্ষায় রয়েছে ভারত সরকার।

ভারতীয় কংগ্রেস নেতাদের আশঙ্কা, রাজ্যসভার আগামী অধিবেশনে এ বিলটি পাস করা না গেলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা স্থলসীমান্ত চুক্তি আরো অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে যাবে। কেননা সামনে দুই দেশেই জাতীয় নির্বাচন।

এদিকে অমীমাংসিত এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই তিনদিনের সফরে নয়াদিল্লী যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সফরে আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সূত্র মতে, ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর বিষয়ে ভারতকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হবে। এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাজোট সরকারের শেষ সময় হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মূহূর্তে ভারত সফরটি অনেক গুরুত্ব বহন করছে। পাশাপাশি ভারতের কংগ্রেস সরকারেরও এটা শেষ বছর। এই অবস্থায় বাংলাদেশকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসন্ন বর্ষাকালীন পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল আবারও তুলতে চাইছে কংগ্রেস সরকার। এ লক্ষ্যে বিরোধী দলের সমর্থন পেতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, এর আগে ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ দফায় দফায় বৈঠক করে স্থলসীমান্ত চুক্তি বিষয়ে জট অনেকখানি ছাড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে একাধিকবার সেদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলো। আশা করা হয়েছিলো, শীতকালীন পার্লামেন্টে তা পাস করা যাবে। তবে শেষ মুহুর্তে বিরোধী দলের বিরোধিতার কারণে তা পার্লামেন্টে পাস হয়নি।

বিরোধী দলের দাবি, স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ভারতের লোকসান হবে। ভারতে বাংলাদেশী ছিটমহল রয়েছে ৫১টি, যার এলাকা প্রায় ৭ হাজার একর। আর বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে, যার জমির পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার একর। ফলে এই ছিটমহল হস্তান্তর হলে ভারত পাবে ৭ হাজার একর, কিন্তু দিতে হবে ১৭ হাজার একর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২৫-২৭ জুলাই পর্যন্ত দিল্লি সফরকালে দীপু মনি ভারতের থিঙ্কট্যাক সংস্থা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) এক সেমিনারে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তৃতা করবেন। এছাড়াও তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাত করতে পারেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের ওপরই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরবর্তী ভারত সফরটি। গত এপ্রিলে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। জবাবে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরে তিস্তা চুক্তি বা স্থল সীমান্ত প্রটোকল নিয়ে কোন সম্ভাবনা থাকলে ওই সফরে যাবেন তিনি। কিন্তু গত মাসে জেআরসি বৈঠকটি না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরটি এখনো নিশ্চিত হয়নি। আর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য তিস্তা নিয়ে অগ্রগতি করতে হলে ঢাকায় জেআরসি’র বৈঠকটি হতে হবে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.