বে-তাল বিয়ে মানেও একাকি জীবন, জাগরণ এবং শূন্যতা

শিল্পী জলি:

সম্প্রতি এক স্বামী ঘোষণা দিয়েছেন বৌয়ের সাথে আর কোনদিন ঘুমাবেন না।
বিয়ের এই এক জ্বালা। স্বামী/স্ত্রী একটু ঝুট-ঝামেলা হলেই একসাথে আর না ঘুমাবার হুমকি দেন। আর আরেকজনের সাধারণ জীবনযাপনে বিঘ্ন ঘটায়, বিনিদ্র রজনী কাটে হা-হুতাশ করে। অথচ ঘুমাবার লাইসেন্স নেবার সময় তাদের মনে থাকে না কোনো শর্ত আরোপ করার কথা –কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না, যে সময়ে বুঝে শুনে কবুল বলার পথ থাকে। তাই এক পার্টনারের অপকর্মে হয়তো আরেক পার্টনারকে ভুগতে হয়।

কিছুদিন আগে আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশী এক শিক্ষিত/লেখক পরিবারের খবর শুনেছিলাম। ঐ পরিবারের একটি বউ বলছিলেন, এদের পরিবারে কোনো বউ যদি একটু গাঁইগুঁই করে স্বামীরা আর কোনদিন ফিরেও চায় না, আলাদা ঘরে ঘুমানো শুরু করে দেয়– বউরা যদি হাত-পা ধরে মাফ-টাফ চেয়ে ঘুমাও ঘুমাও করে গতি করে নেয়, সে অন্য কথা। তবে বেশীরভাগ বউই বার বার ঐ পথে না যেয়ে একবার অন্য পথও ধরে–ভেগে যায়।

প্রেম বা বিয়ের জ্বালা এখানেই। ঘটনা ঘটিয়ে ফেলার পর অনেকেই পেয়ে বসে যেনো সে ছাড়া জগৎ শূন্য। এমনও দম্পতি দেখেছি যেখানে পুরুষটি রাত চারটা পর্যন্ত ঘুমায় না– লাইট জ্বালিয়ে রাখে, ঘরময় খুটখাট করে, এটা-ওটা খায় বছরের পর বছর ধরে। দিনের পর দিন একই ঘটনা। সময়মতো ঘুমাতে না পেরে অন্য পার্টনারের হালুয়া টাইট, শরীর বলে কথা! ওদিকে বাসায় রুমও হাতে গোণা যে অন্য কোন উপায় করে নেবে।

বিয়ের আগে লোকে যত রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়, বিয়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই স্বপ্নগুলো হয়তো আর স্বপ্ন থাকে না, ঘোলা-পানি হয়ে যায়। বিবাহিত জীবনে অনেকেই হয়তো একাই থাকে, একা ঘুমায়, আবার কথা বলারও কেউ থাকে না। দিনের পর দিন বোঝাসম একটি জীবন বয়ে বেড়াতে হয়, অথচ বলার পথ থাকে না। আবার ভবিষ্যতও অন্ধকার। দিন দিন বিবর্ণ হয় জীবন–জীবনে ব্লাড প্রেশার, ডিপ্রেশন, খিটমিটি জেকে ধরে। আনন্দের খবর বলতে থাকে, তবুও বিবাহিত! শিকলে বাঁধা জীবন। অথচ প্রেম করলেই হবে পরকীয়ায় আক্রান্ত। লোকে কইবে, ছি ছি ছি!’

তবে স্বামী-স্ত্রী আলাদা ঘরে ঘুমালেই যে খারাপ জীবন তাও সব সময় সত্যি নয়। জীবনের প্রয়োজনে যদি তেমন ঘটে, সে অন্য কথা। আমেরিকায় প্রতি চারজন দম্পতিতে এক দম্পতি আলাদা ঘুমায়। কারও হয়তো কাকডাকা ভোরে উঠতে হয় কাজের খাতিরে, কারও হয়তো রাত জেগে কাজ করে ডেডলাইন মিট করার তাড়া থাকে, কারও ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো কারণ।

সম্পর্ক ভালো থাকলেও উপায় থাকে না একজনের পরিস্হিতিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার; যেহেতু শরীরেরও বিশ্রাম, রিপেয়ার, এবং ছন্দ রাখা জরুরি। তাই কথা বলে দু’জন যদি ঠিকমতো জীবনকে বুঝে নেয়, তাহলে তেমন ক্ষতি হয়তো নেই। তবুও যেহেতু বেডরুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে, একান্তে হ্যাঁ-গো, না-গো, বা একটু পিঠ চুলকে দাও বলার পথ থাকে না, রাতের আট/দশ ঘন্টা সময় কমে যাচ্ছে তাই বাড়তি মনোযোগ দিয়ে, অন্য সময়ে এসব পুষিয়ে নেবার পরিকল্পনা থাকা দরকার যেনো আলাদা রুমের কারণে জীবন সংযোগহীন হয়ে না পড়ে।

আর ঝগড়াঝাঁটির কারণে অথবা বউ/স্বামীকে শিক্ষা দিতে দেশীয় কায়দায় যারা আলাদা ঘর বেছে নেন, তাদের জন্যে কিছু কথা।

দুনিয়াতে আপনিই একা পুরুষ বা নারী নন। আর পরকীয়া বলেও একটি কথা আছে। তদুপরি স্বামীরা যেখানে পরকীয়ায় জড়ায় বিয়ে টিকিয়ে রাখতে, সেখানে স্ত্রী’রা পরকীয়ায় জড়ায় ঘর ছাড়তে। কথায় আছে, সেক্স ছাড়া বিয়ে চালানো সম্ভব হলেও ট্যাচ, হ্যাগিং, আদর, কদর, কেয়ার, হৃদ্যতা ছাড়া বিয়ে টেকে না বেশী দিন। তাছাড়া মূল সেক্স পর্বটিও তেমন দীর্ঘ সময় নয়, হয়তো মিনিট দুয়েক। বিবাহিত জীবনের বাকি তেইশ ঘন্টা আটান্ন মিনিটই নির্ভর করে স্বামী/স্ত্রী দু’জন দু’জনকে কীভাবে ট্রিট করছেন।

কথায় কথায় ঝগড়া, টিটকারি, তুই-তোকারি, পরিবার তুলে কথা বলা, হেয় করা, …
অথবা নীরব ট্রিটমেন্ট যেমন দিনের পর দিন কথা বলা বন্ধ রাখা, সব কিছুতেই নীরব থেকে নিরালা ঝুম খেলা, দায়িত্ব পালন না করা, ডিফেনসিভ মুডে চলে যাওয়া, এবং সমস্যা সমাধানের পথে না গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা বিয়েকে ধংসের মুখে ঠেলে দেয়। আর যারা হেলাফেলায় এই পথ ধরে হাঁটেন তাদের জন্যে একটি রিমাইন্ডার, ডিভোর্স মূলত নো রিটার্ন পলিসি।

শেয়ার করুন:
  • 1K
  •  
  •  
  •  
  •  
    1K
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.