‘শোভাকে এখনো পাওয়া যায়নি’

0

ফাহমি ইলা:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী শোভাকে অপহরণ করা হয়েছে। হলের সামনে থেকে মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, শোভার ‘আর একমাস পরেই প্রাক্তন হবে’ স্বামী সাথে আরো চার-পাঁচজন সমেত নাকি শোভাকে তুলে নিয়ে গেছে।

খবরটি কাল পড়েছি। রাবি’র এক শিক্ষার্থীর পোস্টে দেখলাম, রাবি’র ভিসি বলেছেন যে, যেহেতু স্বামী নিয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে নাকি এটি পারিবারিক ইস্যু! কিন্তু তথ্যসূত্রে জানা যায়, তালাক দেয়া হয় গত অক্টোবরের ৮ তারিখ, যেটা ডিসেম্বরের ৮ তারিখ তিন মাসে কার্যকর হবার কথা। এর আগেই তাকে অপহরণ করা হলো। কথা হলো, স্বামী হলেই জোর করে, ইচ্ছের বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে যাওয়া কি বৈধ?

স্বামী লোকটি পেশায় উকিল। ওকালতির পেশায় তিনি আইনকে কদ্দূর ধারণ করেন তা বলার জায়গা নাই। দিনের পর দিন শোভাকে নির্যাতন করতেন যৌতুকের জন্য। শেষমেশ আর কিছুদিন পর কার্যকর হওয়া তালাকের আগেই তুলে নিয়ে গেলেন গুণ্ডাপাণ্ডা সহ। কেনো?

উত্তরটা শোভাকে উদ্ধার করতে পারলে জানা যাবে। বাস্তবিক এটা ‘উনা’দের সমাজ। উনারা যা খুশি করতে পারেন এবং ভিসি’র মত ‘উনা’রা আবার হাওয়া দিতে পারেন ‘পারিবারিক ইস্যু’র তকমা দিয়ে। আবার আরেক ‘উনি’ পুলিশের ওসি’র বক্তব্য-‘তার স্বামীই নাকি তাকে তুলে নিয়ে গেছে। তারপরেও আমরা ব্যাপারটা দেখছি।’ এখানেও স্বামীকে সামনে এনে ব্যাপারটাকে একধরণের হালকা করার প্রক্রিয়া। অথচ স্বামী হোক আর বাপ হোক জোর করে একজন মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়াটা কী বৈধ?

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতো জায়গায়ও একজন নারী নিরাপদ না। রাবি’র প্রতিটা শিক্ষার্থীর উচিত ভিসিসাহেবের কাছে এর জবাব চাওয়া। আরেকটু বড় পরিসরে বললে বাংলাদেশের প্রতিটা নারীর নিজের নিরাপত্তাহীনতার জন্য একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রসাহেবের কাছে জবাব চাওয়া উচিত।

কবে এ জাতি বুঝবে যে ‘না মানে না! না মানে না! না মানে না!’

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 149
  •  
  •  
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    152
    Shares

লেখাটি ৯৮৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.