সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ও স্বামীর শর্টটার্ম পরকীয়া

0

ঈহিতা জলিল:

আজকাল ফেসবুকে নারীর সন্তানধারণ থেকে শুরু করে জন্মদেয়ার পুরো প্রক্রিয়ার খুব সুন্দর সুন্দর কিছু ভিডিও, স্টিল ছবি দেখা যায়। ভীষণ ভালো লাগে দেখতে। কিন্তু এর উল্টো চিত্রও আছে। স্ত্রী যখন সন্তানধারনের সময় ও তার পরবর্তী নানান জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন স্বামীটি অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। সে সময় কাটানো যেমনই হোক না কেন! কারো সেটা ফেসবুক চ্যাটিং-এ সীমাবদ্ধ, কারও বা আরো অনেক বেশীদূর মনোজগৎ ছাড়িয়ে শারীরিক জগতেও যার বিচরণ।

আমার আসলে এখনও তথাকথিত আধুনিক মানুষ হয়ে ওঠা হয়নি। অবশ্য আধুনিকতার সংজ্ঞা যে কী সেটাই আমার জানা হয়নি। তাই আমি একই সঙ্গে দুটো সম্পর্ক রাখাকে মেনে নিতে পারি না। একজন মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতেই পারেন, স্ত্রী/স্বামী ছাড়া অন্য কাউকে ভালো লাগতেই পারে। এটি দোষ না। মানুষের মন বড় বিচিত্র এখানে কখন কী ঘটে, কেউ বলতে পারে না। তবে দ্বিতীয় বিয়েটিও সমমানের হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। স্ত্রী বা স্বামীকে যদি ভালো না লাগে, তাহলে ডিভোর্স দেয়ার ব্যবস্থা তো আছে। তবে কেন সংসার চালিয়েও আবার অন্য প্রেমিক/প্রেমিকা রাখা!

এখানে অবশ্য কিছু কথা থেকে যায়। বের হয়ে আসাটা কি এতোই সহজ? আমি নিজেকে সমাজের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা একজন নারীই মনে করি। এই আমিই কি বেরিয়ে আসতে পারবো? পারবো না তো! যদি কখনও এমন কিছু ঘটে, তখন আমি কী করবো! আজকের দিনে আমি যে টাকা রোজগার করি তাতে আমি আমার ও আমার সন্তানের খরচ চালানোর যোগ্যতা রাখি। বিলাসিতা না হোক প্রয়োজনটুকু মিটেই যাবে, কিন্তু বাবার অংশের ভালোবাসা তো আমি তাকে দিতে পারবো না। একজন নারী হিসাবে আমি যতটা শক্তিশালী, মা হিসাবে ঠিক ততটাই দুর্বল মনে হয় নিজেকে।

একজন মায়ের খুব সহজে আরেকটা সম্পর্কে জড়ানো তাই এতো সহজ হয় না। মা যখন নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে যান, তখনই সন্তানের চেহারাটা ভেসে ওঠে, আগে ভাবেন এই মানুষটি কি আমার সন্তানের বাবা হয়ে উঠতে পারবেন? বাবারা কি এমন করে ভাবেন? আমি জানি না। কারণ একজন নারী হয়ে একজন পুরুষের মনস্তত্ত্ব বোঝা সহজ না। তাই আমি যা দেখেছি, অনুভব করেছি তাই লিখছি।

যে কোনো সম্পর্ক গড়তেই দুটো পক্ষ লাগে তাই দায়টাও দুই পক্ষকেই নিতে হবে। পরকীয়াও কোনো একপাক্ষিক বিষয় না। আমরা জেনে শুনে কেনো এমন সম্পর্কে জড়াবো যে সম্পর্ক অন্য আরেকটা সম্পর্ককে ধ্বংস করে দেয়। কোনো ধ্বংস স্তুপের উপর কি দালান বানানো সম্ভব! একটা পশুর সাথে তাহলে মানুষের কী পার্থক্য থাকলো!

যে কথা বলতে যেয়ে এতো কথা বলা। হবু বাবাদের বলছি, যে সন্তানটি আসছে সে কিন্তু আপনাদের দুজনের সন্তান। এই সন্তানকে জন্ম দিতে যেয়ে আপনার সঙ্গীটি যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করছে, তা কিন্তু প্রকৃতিগতভাবেই আপনাকে করতে হয়নি। তাই প্রকৃতি আপনাকে যে সুবিধা দিয়েছে, আপনার কি উচিত না আপনার সঙ্গীকে তার অসুবিধাগুলো থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করা? সে তার শরীর নষ্ট করছে, রাতের ঘুম, স্বাস্থ্য সব! অপরদিকে সন্তান জন্মদানে স্পার্ম দেয়া ছাড়া আপনার আর কী ভূমিকা হতে পারে?? একবার ভাববেন!

আমি একটু বলি! হবু বাবাদের জন্য আরও কিছু কথা।

কী আনন্দ তাই না! আপনার শরীরের একটা অংশ, আপনার ছায়া, আপনার ছেলেবেলা ফিরে আসছে!!
যার মাধ্যমে ফিরে আসছে, তাকে কেমন করে আনন্দে রাখা যায় সেটার খেয়াল করুন। যতোটা সম্ভব তাকে সময় দিন। এসময়টায় হবু মায়েদের নানানরকম জটিলতা থাকে। স্বাস্থ্য খারাপ থাকায় মেজাজও ঠিক থাকে না। অনেকরকম আতঙ্ক কাজ করে। আপনাকে তাঁর পাশে থেকে শুধু বলতে হবে, “তুমি ভেবো না আমি আছি”। জানি অনেক সময় বিষয়টা খুব সহজ হয় না। তবুও চেষ্টা করতে ক্ষতি কী!

এখনকার বাবারা অনেক সচেতন, অনেক দায়িত্বও নিচ্ছে, এটা খুবই আনন্দের বিষয়। তবু যারা অনেকসময় খেই হারিয়ে ফেলেন তাদের জন্য বলা। আপনারা স্ত্রী-পরিবার ছাড়তে পারবেন না এটা আপনারা ভালোভাবেই জানেন হয়তো কখনও অশোভন কোন কাজ করেনওনি তবে কেন এই সাময়িক ভুলে জড়ানো!! যে ভুল সারাজীবন আপনাকে নিজের মুখোমুখি চোখ তুলে তাকাতে দিবে না। যে সন্তান আসবে তার দিকে তাকিয়ে কি আপনার একবারও মনে হবে না, তাকে জন্ম দেয়ার জন্য তার মা যখন শরীর-মন নিয়ে যুদ্ধ করছিলেন, বাবা তখন অন্য নারীতে সাময়িক সুখ খুঁজছিলেন।

কারো কাছে স্বীকার করতে হবে না, কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না। শুধু একান্তে নিজেকে প্রশ্ন করুন। আসুন আমরা এমন কোনো কাজ না করি যে কাজ আমাদের বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়াতে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 3.2K
  •  
  •  
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.2K
    Shares

লেখাটি ১৯,১৫৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.