ভোলায় বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল এক কিশোরী

0

আদিল হোসেন তপু:

ভোলায় এবার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করা হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে কোস্ট ট্রাস্ট এর কিছু কিশোরী সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক এবং প্রশাসনের সহায়তায়। মালা বেগম (১৫) এর গায়ে হলুদ মঙ্গলবার দুপুরে ও রাতে রাজাপুর ইউনিয়নের প্রবাসী সবুজ এর সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

খবর পেয়ে কোস্ট ট্রাস্ট (আইইসিএম) প্রকল্পের পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের “জবা ক্লাবের” সদস্য সুমি ও চৈতি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মি এবং প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে এই বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হয়।
পরে স্থানীয় প্রশাসন এসে ১৮ বছরের আগে মালার বিয়ে নয় এই মর্মে মুচলেকা নেয় মালার অভিভাবকের কাছ থেকে।
ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চর ছিপলী গ্রামের কৃষক মো: হাছান ও ফুল রানী বেগম এর তিন মেয়ের মধ্যে মেজো হচ্ছে মালা।

এবছর মনেজা খাতুন মাধ্যমিক গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছে। এর একদিন পরেই তাকে বিয়ে দিতে চাইছিল তার পরিবার। কিন্তুু স্কুলের সহপাঠীরা ও কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা মনেজা খাতুন মাধ্যমিক গার্লস স্কুল এর সহকারি শিক্ষক শচীন চন্দ্র দাশের সহায়তায় কোস্ট ট্রাস্ট ও ইউনিসেফের (আইইসিএম) প্রকল্পের মিডিয়া ও এডভোকেসি অফিসার, চ্যানেল-২৪ ভোলা প্রতিনিধি আদিল হোসেন তপু, স্থানীয় সাংবাদিক শাওন,এনজিও কর্মী সোহেল মাহামুদ এর সহায়তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেয়া হয়। পরে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এর প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভোলা সদর এর কর্মকর্তা রুহুল অমিন ঘটনাস্থল মালাদের বাড়িতে উপস্থিত হয়। খবর পেয়ে বাড়ির সবাই পালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাদেরকে সামনে আনা হয়।

এসময় বিয়ের জন্য তৈরি প্যান্ডেল প্রশাসনের লোকজন ভেঙে ফেলে। পরিবারের লোকজনকে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝানো হয়। তারাও তাদের ভুল বুঝতে পেরে প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চায়।

ভোলা সদর এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা রুহুল অামিন বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়াতে বিয়েটা বন্ধ করা হয়। এবং মেয়ের পরিবারের মুচলেকা নেই যে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না । এবং যদি কোনো নকল কাগজ বানিয়ে বিয়ে দেয়া হয়, কিংবা চেষ্টা করা হয় তাহলে বাল্য বিবাহের আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে।
এদিকে মালার সহপাঠীরা ও স্থানীয়রা জানায়, মালা খুব ভালো ছাত্রী। এবারে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। আমরা চাই মালা পড়াশোনা করুক এবং প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পর যেন মালার বিয়ে দেয় তার পরিবার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগে শতকরা ৩৯ শতাংশ ও ১৮ বছরের মধ্যে ৭৪ শতাংশ মেয়ে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আর ভোলাতে এর হার শতকরা ৫৯ শংতাংশ।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 78
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    78
    Shares

লেখাটি ১২৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.