Not “Me too”, but with #Metoo

0

তামান্না ইসলাম:

অল্প কয়েকদিন আগে ফেসবুক জুড়ে চলছিল #Metoo মুভমেন্ট। নারী, পুরুষ সবাই একাত্মতা ঘোষণা করছে এর সাথে আর নিজের স্ট্যাটাসে হ্যাশ ট্যাগ করছে “Metoo”। এর উদ্দেশ্য খুব মহৎ, মেয়েরা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। বেশিরভাগ মেয়েই মুখ ফুটে সে কথা বলতে পারে না, বা চায় না। সামাজিক অনুশাসন এর জন্য এক বিরাট অন্তরায়।

এই মুভমেন্টের মাধ্যমে সেই সব মেয়েদেরকে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে এই অনুশাসন ভেঙ্গে একসাথে আওয়াজ দিতে, সেইসব মেয়েদেরকে সাহস দেওয়া হচ্ছে একসাথে বলতে, যে আমিও তাদের একজন। আমার জীবনেও আছে এমন কোন নির্যাতনের স্মৃতি, যেটা আমার জন্য অপমানজনক, কষ্টদায়ক, কিন্তু এটা আসলে আমার জন্য লজ্জাজনক নয়, এটা আমার সমাজের জন্য লজ্জাজনক এবং সেই সব মানুষরুপী জানোয়ারগুলোর জন্য লজ্জাজনক। এসো একসাথে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই, প্রতিবাদ করি। আমার খুব ভালো লাগলো এই প্রচেষ্টা।

তারপর শুরু হলো, আমার চিন্তা। নিজেকে নিয়ে ভাবনা। আমি ভাবছি, আমি কী এমন কোন ঘটনার শিকার হয়েছি যে আমি এই স্ট্যাটাস দিতে পারি বা আমার দেওয়া দরকার। অনেক ভাবলাম। ঘুরে ফিরে মনে এলো আজকাল প্রায়ই পড়ি চাইল্ড অ্যাবিউসের কথা, নাহ, এরকম কোন ঘটনা আমার সাথে হয় নি। আত্মীয় স্বজন, পরিবারের কেউ কখনো খারাপ ভাবে স্পর্শ করেছে বলে মনে পড়ে না।

হয়তো আমি অনেক ভাগ্যবান ছিলাম বা আমার বাবা, মা অনেক সতর্ক ছিলেন, আমি নিজেও সতর্ক ছিলাম, সব মিলিয়ে খারাপ কোনো ঘটনা ঘটেনি। উঠতি বয়সে কেউ কখনো ফিরে তাকায়নি, বা আকৃষ্ট হয়নি, তা নয়, তবে সেগুলো নিতান্তই প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরি হওয়া আকর্ষণ, আমি এটাতে দোষের কিছু দেখি না, বা বিব্রত হওয়ারও কোনো কারণ দেখি না।

এরকম অনেক চিন্তা, ভাবনা করে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি “Metoo” এর দলে পড়ি না, এই স্ট্যাটাস দিলে সেটা আমার জন্য মিথ্যাচার হবে। কিন্তু, আমি অবশ্যই সেই সব মেয়েদের কষ্টও, ব্যথা, অপমান বুঝি এবং আমি এই সব অন্যায়ের কঠোর প্রতিবাদ করি, আর এর অবসানও চাই। তাই আমি ভেবে চিন্তে স্ট্যাটাস দিলাম “Not Me too, but with #Metoo”।

এর কিছুক্ষণ পরেই আমার এক বন্ধু মন্তব্য করলো, ঢাকা শহরের গাওসিয়া মার্কেটে একবার গেলে সবারই অভিজ্ঞতা হবে। ওর কথাটা আমাকে বেশ বড় ধরনের একটা নাড়া দিয়েছে। আমি চিন্তা করলাম, তাই তো, ঢাকার গাওসিয়া মার্কেট বা যে কোনো ভিড় বহুল জায়গায় গেলে, হোক সেটা বই মেলা বা পহেলা বৈশাখ, ভিড়ের সুযোগে কোন না কোন অসভ্য লোক খারাপ উদ্দেশ্যে মেয়েদের গায়ে হাত দেবেই, আর মেয়েরা খুব সহজেই টের পায় কোনটা অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ আর কোনটা নয়। এটা অবশ্যই একটা যৌন নির্যাতন।

এই সব ঘটনার পরে যে কোনো মেয়েরই ঘিনঘিনে একটা অনুভূতি হয় এবং গা ডলে গোসল করেও সেই অনুভূতি যেতে চায় না শরীর, মন কোথাও থেকেই। যদিও আমার মার্কেটে আসা, যাওয়াও খুব সীমিত ছিল, কিন্তু তাই বলে এই অভিজ্ঞতাও আমার হয়নি, তা নয়। সত্যি কথা বলতে কী ছোটবেলা থেকেই বই মেলা, পহেলা বৈশাখে নিয়মিত গেলেও বড় হওয়ার পর এই একটি কারণে মেলায় যাওয়া অনেক কমে গিয়েছিল। সুতরাং নিঃসন্দেহে আমিও “metoo” দলেই পড়ি।

আরও আছে। কিছু কিছু ছেলে দৃষ্টি দিয়েও মেয়েদের ধর্ষণ করতে পারে। পথে ঘাটে এমন দৃষ্টির সম্মুখীনও তো হয়েছি, দৌড়ে যাদের সামনে থেকে পালিয়ে বেঁচেছি। পথে ঘাটে উটকো কমেন্ট, বা পথের মোড়ে দাড়িয়ে থেকে উত্যক্ত করা, ভয় দেখানো এসব সমস্যাও তো ফেস করেছি।

তবে আমার কেন মনে হলো, আমার জীবনে কোনো নির্যাতন হয়নি? শুধুমাত্র শারীরিক নির্যাতনই একমাত্র নির্যাতন, যেটার স্মৃতি আমার নেই। আমি ভেবে দেখলাম, আমার ব্রেইনকে সেভাবে ছোটবেলা থেকে ট্রেইন করা হয়েছে। এগুলো বাঙ্গালি মেয়ে জীবনের স্বাভাবিক অংশ। ভালো মেয়ে হতে চেষ্টা করো। পোশাক আশাক দিয়ে যতটা সম্ভব ঢেকে ঢুকে চলো, নম্র, ভদ্র, নিরীহভাবে চলো, তাহলে আর কারও চোখ পড়বে না তোমার উপরে। তারপরেও পথে-ঘাটে কিছু অশিক্ষিত, ছোটলোক বা অভদ্র যদি কিছু করে, সেটা তেমন কোনো ব্যাপার না।

পথে হাঁটতে গেলে যেমন ধুলো লাগে পায়ে, বা নোংরা কাদা, বাড়ি এসে আমরা সেগুলো ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যাই, এগুলো তেমনই ব্যাপার, মনে দাগ কাটার মতো বড় ব্যাপার নয়। আমি দুঃখিত আমার এই তৈরি করা মনোভাবের জন্য। আমি দুঃখিত আমার নিজের জন্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, আমি দেখতে চাই তারা যেন সামান্য কদর্য স্পর্শ, বাক্য, দৃষ্টি সব কিছু রুখে দাঁড়িয়ে বলতে পারে “#Metoo, and zero tolerance to any abuse “

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 154
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    154
    Shares

লেখাটি ১,১২৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.