প্রকাশ পাক যৌন নির্যাতকের পরিচয়

0

গোলাম কিবরিয়া:

#MeToo হ্যাশ ট্যাগ নিয়ে দুনিয়া তোলপাড়। খুলে গেছে প্যানডোরা বাক্স। খুলে গেছে অনেকের মুখোশ।
তবে আমি সন্তর্পণে নিজেকে লুকিয়ে রাখছি এই লেখনযজ্ঞ থেকে। প্রতিটি অভিজ্ঞতার প্রথম কয়েকটি লাইন পড়ার পর আর এগুতে পারি না। কখনো কখনো শুধু শিরোনাম দেখেই দ্রুত পালাই। এর ফাঁকেই যে দু-একটি ছত্র বা শব্দ চোখে পড়ে তাকে শিউড়ে উঠি, ভয়ে কুঁকড়ে যাই…চোখের সামনে দেখতে পাই সদ্য কৈশোরে পা দেয়া আমার মেয়েটির মুখ। তাকে কোন পৃথিবীতে ছেড়ে দিচ্ছি!

গত কয়েক বছর ধরেই সচেতনভাবে তাকে কদর্য এই সমাজে টিকে থাকার জন্য মানসিকভাবে তৈরি করার চেষ্টা করছি। নিজেকে রক্ষার জন্য আমার সাধ্যমতো টিপস্‌ দিচ্ছি। এতো কিছুর পরও আজ অনুভব করছি, কোনো কিছুই যথেষ্ট নয়। উপর থেকে পরিস্থিতি যতোটা ভয়াবহ মনে হচ্ছে, বাস্তবে এই আঁধার আরো অনেক বেশি গভীর।

নানাভাবে, নানা সময় ভাসা ভাসা শুনেছি–এমন একটি মেয়েও নেই যে জীবনে এসব কুৎসিত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়নি। মাত্রা কম-বেশি হতে পারে, তবে যৌন হয়রানির শিকার হওয়াটা যেন তার ভবিতব্য। কথাগুলো আগেও নানাভাবে শুনেছি, কিন্তু এতো নগ্নভাবে, জোড়ালোভাবে এই কঠিন সত্যটি সামনে এদে দাঁড়ায়নি।

এ থেকে যে বোধ আমার জেগেছে, তাতে আবারো লজ্জায় নত হয়ে আসছে মুখ। আমাদের চারাপাশের আপাত: ভালো মানুষের মুখোশের আড়ালে কতো কুৎসিত রূপ! মুখে প্রগতির কথা বলা, নারী স্বাধীনতা নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলা, সংস্কৃতিমনা কিংবা আড্ডায়-অনুষ্ঠানে প্রাণ চঞ্চল-উচ্ছল লোকগুলোই সুযোগ পেলে হয়ে উঠে এক একটি হিংস্র নেকড়ে। চারদিকে মুখ ফেরালেই এখন আমার চোখে মুখোশ ফুঁড়ে ভেসে উঠে সেই হায়েনা আর নেকড়েগুলোর মুখ। আয়নার সামনে দাড়িয়ে লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেই, দিনশেষে আমিও একজন পুরুষ।

“মি টু’ হ্যাশ ট্যাগে যারা নিজের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া যৌন অপরাধের ঘটনাগুলো তুলে ধরছেন, তাদের কাছে অনুরোধ, যতোদূর সম্ভব সেই কীটগুলোর বিস্তারিত পরিচয়, নাম-ধাম, এখন কী করছে, কোথায় আছে সব অকপটে প্রকাশ করুন। পথে-ঘাটে যৌন হেনস্তার শিকার হন প্রায় শতভাগ নারী। কখনো অনাকাঙ্খিত স্পর্শ, ধাক্কা, শরীরে হাত দেয়া—এমন অভিজ্ঞতা নিয়েই চলতে হয় নারীদের।

এই জানোয়রগুলোকে চিহ্নিত করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বা শুভাকাঙ্খীর আড়ালে যারা বিকৃত লালসার হাত বাড়িয়েছে আপনার দিকে তাকে সবার সামনে নগ্ন করে দিন। আপনার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়; অন্তত যেন সেই জঘন্য অপরাধী সামাজিকভাবে কিছুটা চাপে পড়ে, মানুষের সামনে যেন তার মুখোশটা খুলে যায়, সেই ব্যবস্থাটা অন্তত করে রাখুন।

লেখক: সিনিয়র নিউজ এডিটর

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.6K
    Shares

লেখাটি ৫,৯৫৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.