নারীর প্রতি যৌন সহিংসতায় চতুর্থ শহর ঢাকা!

0

মুনিয়া পাখী:

ট্রাস্ট মি, আজকে সকালে এই নিউজ দেখে আমি খুবই খুশি হলাম। কারণ আমার ধারণা ছিল, ঢাকা হবে যৌন সহিংসতায় এক নাম্বার। কেন জানেন? কারণ আমি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে আশেপাশে মানুষ দেখছি, তার ৯৫% মানুষ নারী এবিউজার এবং বিদ্বেষী! সেখানে শিক্ষিত, অশিক্ষিত থেকে শুরু করে পি.এইচ.ডি ধারী মানুষও আছে! দাড়ি টুপি ওয়ালা হুজুর থেকে ক্লিন শেভড ড্যাম স্মার্ট বয়ও আছে! ক্লাস থ্রি এ পড়া ছেলে থেকে দাদা নানার বয়সী পুরুষ মানুষও আছে!

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমার ১৬ বছর বয়সী বোনটি টিজড হয়েছিল ক্লাস থ্রি এর একটা ছেলের কাছে! পাশে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সেই বাচ্চা ছেলেটা বলছিল – ওরে! মা**র কত বড় **)!! আমি অবাক হতে গিয়েও থেমে গেছিলাম। অতি শালীন ড্রেস পড়া সত্ত্বেও কিভাবে নানার বয়সী লোক লোলুপ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়, তাতে অবাক হইনা আর।

ইভ টিজিং এ ইন্ধনকারী ব্যক্তিবর্গ! ড্রেস আপ এর সাথে ইভ টিজিং এর সম্পর্ক নেই। এটা জাস্ট ইভ টিজিং কে হালাল করার একটা চাল মাত্র।অন্যকে ইচ্ছামত খাইয়ে যেমন আপনার খিদা মেটানি সম্ভব না, তেমনি আরেকজনকে ঢেকে রাখতে বলে নিজের পশুত্ব ঢাকা সম্ভব না! পশুদের জন্য জংগল, সমাজ না। বাইরের দেশেও মেয়েরা হ্যারেস হয়, কারণ খারাপ মানুষ সব দেশেই আছে। কিন্তু এভাবে গণহারে না এবং সেখানে পুরুষরা “ওই তোর পর্দা নাই কেন! বলে মেয়েদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে না। পোশাক, ড্রেস এগুলা টেনে আনে না কেউ! সুতরাং এইসব ইভ টিজিং লিগালাইজ বন্ধ করেন! নাহলে পটেনশিয়াল টিজার হিসেবে নিজের পরিচয় প্রকাশিত হবে আর কি।

হাই ক্লাস থেকে লো ক্লাস এর মেয়েরা, শিক্ষিত থেকে অশিক্ষিত মেয়ে, শিশু থেকে মায়ের বয়সী মহিলা,কেউ হ্যারেস থেকে বাঁচতে পারেনি! কাউকে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে রেপড হবার পর! রাস্তা ঘাটে চলতে গিয়ে গায়ে হাত দেয়নি এমন মেয়ে পাওয়া দুষ্কর! ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার ৮০% নারী! তাও অনেক ভায়োলেন্স রিপোর্ট ই করা হয়না।

এই অমানুষের দেশে আমি মেয়ে মানুষ হয়ে এখনো জান নিয়ে বেঁচে আছি সহিহ সালামতে, আমার আনন্দে নর্তন কুর্দন করা উচিত! ওয়েল, অত খুশি না হলেও আমি লাইফে দুজন ইভ টিজারকে পিটিয়েছি সেটা মনে করে !আরো পিটাব যদি এরকম হয় কোনদিন আবার! ইভ টিজারদের খুব সংবেদনশীল একটা জায়গা আছে যেখানে ঠিক মত আঘাত করতে পারলে ফিউচারে আর বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই! তাতে যদি পরে আমারে খাদিজার মত কুপানি হয়, প্রব্লেম নেই! মেয়ে মানুষ তো , এমনেও মার খাব, ওমনেও মার খাব! আল্টিমেট কোপ খেয়ে মরলেই কি! তাই না বলুন?

I am proud to be girl! জ্বী! এই অমানুষের দেশে হ্যারেস হয়েও আমি মেয়ে হয়ে খুব খুশি! কোনদিন আমার ছেলে হতে মন চায়নি! চাইবোও না! জীবনে অনেকগুলি দেশ ঘোরার সুযোগ হয়েছে। অবাক এবং আনন্দের সাথে দেখছি মেয়েরা কতটা স্ট্রং, ইন্ডিপেনডেন্ট এবং সাহসী। আমি একটা ভুল যায়গায় জন্মেছি বলে কেন এতো পবিত্র, মহৎ প্রজাতির অংশ হয়ে নিজেকে ছোট ভাববো? আমি চাইলে কি না করতে পারি? কী না হতে পারি? আমার মেয়েলিত্ব সেটাকে আরো গ্লোরিফাই করে!

আমি আরও ২০০ বার জন্ম নিলেও মেয়েই হতে চাইবো! আমার ২০ টা বাচ্চাকাচ্চা হলেও সবগুলা মেয়েই চাইবো! আমি মেয়ে! যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি নিজেকে ডুবিয়েছি, সমাজ বলেন, ধর্ম বলেন, মানুষ বলেন, পরিবার বলেন, ইভ টিজার বলেন., পারভার্ট বলেন…..

কোনকিছুই আমাকে বিন্দুমাত্র নিচু করবে না….. বিন্দুমাত্র না…. শুধুমাত্র একজন মেয়ে হবার কারণে!

ভালবাসা, জগতের সকল “মেয়ে” ” মানুষ” এর জন্য! মানুষ ছাপিয়ে একদিন যেন শুধু “মেয়ে” টার্মটাই জ্বলজ্বল করে….

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.2K
    Shares

লেখাটি ৩,৪১৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.