জন্মদাতা মানেই বাবা-মা নয়

0

সুচরিতা। ভীষণ সাধারণ একটি মেয়ে। যে শহরে ওর জন্ম, সেই শহরে ওর পরিবারের অনেক নামডাক। ওর ঠাকুমা ওই শহরের প্রথম গ্র‍্যাজুয়েট মহিলা। তাই নারী শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে ঐ শহরে ওদের পরিবারের অনেক অবদান। সেইরকম একটি পরিবারে জন্মে ওর তো নিজেকে ভাগ্যবতী ভাবার কথা।

কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্যরকম।

জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ওকে বোঝানো হয়েছে ও মেয়ে, ও আর ওর দাদা সমান নয়। সেটা বুঝিয়েছে ওর মা ওর বাবা।
জন্মের সময় ওর গায়ের রঙ ছিল কালো। বড় হয়ে ও জানতে পারে যে জন্মের পর ওর বাবার অফিস কলিগরা যখন ওকে দেখতে আসে, ওর মা খুব লজ্জা পেয়েছিল ওকে দেখাতে। সুচরিতা অবাক হয়ে সে কথা শোনে আর ভাবে, মা কি কখনো হয় এমন? কী জানি, হয় হয়তো!

‘ছেলেদের সাথে শোয়া’ কী জিনিস তা যখন সে বুঝতো না, তখন তাকে শুনতে হয়েছে- “এই মেয়ে বড় হয়ে আর কী হবে,কলেজে ছেলেদের সাথে গিয়ে শুয়ে থাকবে”- এই সব কথাই সুচরিতা বড় হয়ে জেনেছে, অবাক হয়েছে আর নিজেকে সে নিজেই জড়িয়ে ধরেছে। একদিকে ওর দাদা স্নেহ, ভালোবাসা আর আদরে বড় হচ্ছে, আর একদিকে ও লোক দেখানো ভালোবাসায় বড় হচ্ছে।

জীবনের চরম দুঃসময়েও ও ওর পাশে কাউকে পায়নি। সেই সময় ও আর ওর দাদা যে সমান সমান নয়, সেই পার্থক্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ওর পরিবার। পড়াশুনায় ভালো হওয়াটাই যে ‘ভালো’র মাপকাঠি, সেটা সুচরিতা বুঝতে পারলো। কিন্তু সুচরিতা যে পড়াশুনায় মাঝারি মানের, তাই পরীক্ষার ফল মনোমত না হলেই ওর বাবা অবলীলাক্রমে সবার সামনে বলে দিতে পারতো -“ও আমার মেয়ে নয়।” একবারো ভাবতো না যে ঐ কথা সুচরিতাকে কোথায় ধাক্কা দেবে!

সেই ছোট্টবেলা থেকে আজ অবধি সুচরিতা আছে ওর বাবা, মা,পরিবার পরিবেষ্টিত হয়েই, কিন্তু সবার মাঝে থেকেও ও একা। একদম একা। আর সেই তফাত বুঝিয়ে দেবার নোংরা খেলা এখনো চলছে।

শুধু সুচরিতা আর চোখ ভর্তি জল নিয়ে মা’কে জিজ্ঞেস করে না- “মা, দাদা’কে দিলে, আমাকে দিলে নাতো?”

তবু সুচরিতারা বাঁচে। কোন একদিন সব ঠিক হয়ে এই লোভেই বাঁচে।

শেয়ার করুন:
  • 451
  •  
  •  
  •  
  •  
    451
    Shares

লেখাটি ২,০০২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.