লজ্জা আমি পাবো কেন??

0

পপি শারমিন:

আমি তো কিছু করিনি। তাহলে লজ্জা আমাকে পেতে হবে কেন? আমি তো ছিলাম হিজাব পরা মেয়ে। তাও দেখানোর মতন করে হিজাব পরিনি। শালিনভাবেই হিজাব পরতাম। তাহলে আমার সাথে এমন হলো কেন?? মানুষ বলেছে নিশ্চয়ই মেয়ের ড্রেসের কোন প্রবলেম ছিল।

কই আমার তো ড্রেসের কোনো প্রবলেম ছিল না। তাও কি আমি রক্ষা পেয়েছি ওই নরপশুদের হাত থেকে? তারা তো আমার দেহটাকে ছিঁড়ে খেল। তারপর শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেললো। তাহলে কি আমারই লজ্জা পাবার কথা??

আমি তো ছিলাম পাঁচ বছরের মেয়ে। গ্রামে থাকি। পুকুর পার দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলাম। হঠাৎ, পিছন থেকে কয়েকজন আমাকে চেপে ধরলো। আমি কত চিৎকার করলাম, কতবার মা মা বলে ডাকলাম। আমাকে ছেড়ে দেয়ার কতো অনুরোধ করলাম। আমি তো বাচ্চা ছিলাম। আমার কি বা ছিল যার জন্য ওরা আমাকেও রেহাই দেয়নি। তার জন্য কি আমার বা আমার মা বাবার লজ্জা পাবার কথা?

আমি তো অফিস শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম। ঘরে আমার বাচ্চা আমার জন্য অপেক্ষা করছে কখন মাকে কাছে পাবে সে। আমিও আমার বাচ্চার মুখতা কখন দেখব তার জন্য অস্থির হয়ে আছি। কখন বাসায় ফিরব? বার বার ঘড়ি দেখছি। কিন্তু সেই দিন আমি আর বাসায় ফিরতে পারিনি। ওই শুকুনের চোখগুলা আমকে আমার মেয়ের কাছে ফিরতে দেয়নি। চলন্ত বাসে ওরা আমার দেহ নিয়ে মরণ খেলায় মেতে উঠেছিল। ওদের কাম ওরা কন্ট্রোল করতে পারে নি। তারপরও কি আমারই লজ্জা পাবার কথা?

আমার দাদা তো তার নাতনিকেই ছাড় দেয়নি। আমাকে রোজ চকলেট এনে দিত। আমাকে কাছে নিয়ে আদর করতো। আমাকে সব সময় আগলে রাখতো। কে জানতো ঐ ভালবাসার পিছনে নর পিশাচ তা লুকিয়ে ছিল। বাসায় সেদিন কেউ ছিল না শুধু উনি র আমি ছাড়া। সেই দিন আমি বুঝে গেয়েছিলাম আজকের আদর অন্যদিনের থেকে অনেক আলাদা। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। উনি আমাকে বলল কাওকে বললে আমাকে মেরেই ফেলবে। সেই আমি আজ পর্যন্ত কোন সুস্থ সম্পর্ক চিন্তা করতে পারি নি। এর জন্য কি আমার লজ্জা পাবার কথা?

বাবা মার স্বপ্ন মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। তার জন্য তাকে এখন থেকেই অনেক পড়াশুনা করতে হবে। ভাল রেজাল্ট করতে হবে। তার জন্যই তো আমার ওপর এত পড়ালেখার চাপ। আমাকে বিভিন্ন ছব্জেট এর জন্য স্যারদের বাসায় যেতে হয়। সবাই বলে শিক্ষকরা গুরুজন। তাদের কথা মতন চলতে হয়। আমাদের ধর্মেও আছে বাবা মার পর শিক্ষকের স্থান। তাহলে তারা কি করে পারে তাদের মেয়ের মতন বয়সের বাচ্চাদের প্রতি এত আনাচার করতে?

এতো কিছু শুনে হয়ত আপনি বলবেন যে মেয়েদের আসলে বাইরেই বের হতে দেয়া উচিত না। এরা বের হওয়া মানে বিপদ। কে কখন কোনদিক থেকে হামলা করবে কে জানে। পরে কিছু একটা হয়ে গেলে তারজন্য লজ্জা পেতে হবে।

বলি, কেন আপনি আমি লজ্জা পাবো? আমি কি আসামি? আমি কি নোংরা চোখে তার দিকে তাকিয়েছিলাম? আমি কি তার সাড়া দেহতে চোখ বুলিয়ে ছিলাম? আমি কি রেপ করেসিলাম? তাহলে আমি লজ্জা পাব কেন? আমি তো আমার ইজ্জত অদের হাতে তুলে দেই নি। ওরা জোর করে কেঁড়ে নিয়েছে। তারপরও আমাকেই লজ্জা পেতে হবে? কেন?

এটাই তো বলবেন যে, আমরা মেয়ে। আজকে মেয়ে বলেই আমাদের এতো প্রব্লেম হইতেছে। যদি শুধু এটাই প্রব্লেম হতো তাহলে যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি আমাদের সৃষ্টি করতেন না। পৃথিবী জুড়ে শুধু ছেলে জাতিই থাকত।

সমস্যাটা আসলে মানুষের চিন্তা ধারায়। যে অন্যায় করে সমাজ তার দিকে না তাকিয়ে যার ওপর অন্যায় করল সমাজ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন অন্যায়টা সেই করেছে। কেন রে ভাই?

এখনই সঠিক সময়, সত্যটাকে সত্যি বলে মেনে নেয়ার। যে অন্যায় করে সেই সমাজে ঘৃণিত । তার দিকে তাকিয়ে লোকজন ছি ছি করবে। তার পশুর মুখ্টাকে সমাজের সামনে তুলে আনতে হবে। হোক বাবা, হোক ভাই, হোক দাদা বা নানা। যা খারাপ তা সব সময়ই খারাপ। এসব মানুষ আপনার বা আমার খুব দুরে বাস করে না। আমাদের মাঝেই এসব মানুষের বসবাস।

কথায় আছে, charity begins at home. সেই কথার সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, আপনার ঘর থেকেই, আপনার থেকেই শুরু হোক সেই সূচনা। যখন কোনখানেই কিছু চোখে পরে “RAISE UR VOICE”। ছেলেটা মেয়ের দেহ তাকে খুঁটিয়ে দেখছে “RAISE UR VOICE”। বাধা দিন।

জোর করে তার সাথে কথা বলুন। ভয়েস শক্ত করে কথা বলুন। দেখবন এরা কাবু হয়ে যাবে। এরা মনের দিক থেকে অনেক ভিতু থাকে। কিন্তু এরা যখন বুঝে যাবে যে আপনি ভয় পাছেন তখন ওদের ভয় ভেঙ্গে যাবে। আমন ্টা করতে দেয়া যাবে না। ভয় আপনি পাবেন কেন? আপনি ্তো কিছু করেন নি। ভয় তাদের পাইয়ে দিন। এরা লোকলজ্জা খুব ভয় পায়। তাই এদের ্লোকজনের সামনেই লজ্জা দিতে হবে। আর একটা কথা, আপনার হেফাজত আপ্নাকেই করতে হবে। এখনকার সময়ে এটাই বাস্তবতা। সুতরাং আপনার সাথে ছোট ছুরি আর পেপার স্প্রে সাথে রাখুন।

ভাল থাকুক প্রতিটি নারী।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 533
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    534
    Shares

লেখাটি ১,৮৭৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.