মিলা, চাঁদনী, বাঁধন, তোমাদের অভিবাদন।।

0

শামীমা জামান:

‘ও একটা কলগার্ল, ওর সুখ ঘরে নয়, পাড়ায় পাড়ায়, ওর মতো মেয়ের দ্বারা স্বামীকে মারধর স্বাভাবিক, ওর স্বামীর দোষ আছে সে বাজারী মেয়ে মিলাকে বিয়ে করলো কেন?’ -জনৈক আবাল।

সংগীতশিল্পী মিলা শুধু হু কেয়ারস টাইপের টম বয়ই নয় বেশ জাঁদরেল মেয়েই বটে। তাই বলে মিলাকে সৃষ্টিকর্তা এতোটাও শারীরিক শক্তি দেননি যে, সে তার পাইলট স্বামীকে মারধর করতে পারে। আর মারধরের চিহ্ন, সিগারেট এর ছ্যাঁকা এগুলো মিলার শরীরেই পাওয়া গেছে, তার পাইলট স্বামীর শরীরে নয়।

দশ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর মাত্র পাঁচ মাস হল মিলার বিবাহিত জীবন। অনেকেই বলছেন দশ বছর যাকে চিনতে পারেননি মিলা, মাত্র পাঁচ মাসেই তাকে চিনে ফেললেন! একদম। মাত্র পাঁচ মাসেই তাকে চিনতে হয়েছে, দেখতে হয়েছে ভালবাসার মানুষের কুৎসিত, কদর্য রূপ।

এখানেই বিয়ে নামক প্রথাটির কেরামতি। প্রেম তো এক ছাদের নিচে বাস করে হয় না। দূর থেকে মুখোশ এটে চলাই যায়। কিন্তু ঘরবন্দী হলে, জীবনবন্দী হলে সে মুখোশ আর এটে রাখা যায় না। আপনা থেকেই খসে পড়ে। যে মেয়েটি পরবর্তীতে স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয় বোধ করি সে মেয়েটিও বিয়ের প্রথম পাঁচ মাস স্বামীর আদর সোহাগ, প্রেম প্রীতি থেকে বঞ্চিত হয় না।

কিন্তু মিলার ক্ষেত্রে হয়েছে। তার স্বামী নতুন বিবাহিত সম্পর্কের পাশাপাশি তার নিয়মিত চলতে থাকা একাধিক সম্পর্ক মেইনটেইন করেছেন। মিলা সেসব মেনে নিতে পারেননি। স্বীয় সাহস দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। মামলা করে জেলে পাঠিয়েছেন ঘাতক, দুশ্চরিত্র স্বামীকে। এখানে যৌতুক বিষয়টি যদি মিথ্যে কৌতুকও হয় মামলাকে শক্তিশালী করতে তাতে অসুবিধা দেখি না। সত্যি বলে আদালতে কে কবে জিতেছে? আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় আদালত মানুষকে প্রতিনিয়ত ধর্মগ্রন্থ শপথ করে মিথ্যাই বলতে শেখায়।

অভিনেত্রী বাঁধনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তার সম্পর্কে নানা সময় টুকটাক নেতিবাচক কথা শোনা গেছে। কিন্তু তা দিয়ে তার সংসার জীবনের অশান্তির পরিমাপ করা যাবে না। তার স্বামীর অভিযোগ বাঁধন লোভী। তাকে বিরাট বড় শিল্পপতি মনে করেছিলো সে। ধরে নিলাম তাই-ই। কিন্তু এতোলোক থাকতে বাঁধন তাকেই কেন বিরাট বড় শিল্পপতি মনে করলেন? তার মানে তিনি বিয়ের আগে বাঁধনের সামনে সেই ভাবেই পেশ হয়েছেন। যা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। বিয়ের পর সংসারকেই প্রাধান্য দিতে চেয়েছেন বাঁধন তাই নাটকে কাজও করতে চাননি। অথচ তার স্বামী তাকে টাকা উপার্জন করতে সেদিকেই ঠেলতে চেয়েছে। বাঁধনের স্বামীকে বিরাট কাভারেজ দিয়েছে মিডিয়া। কারণ পুরুষ শাসিত মিডিয়া আসলে দিন শেষে একজন নারী চরিত্রের মলমূত্র ঘাঁটতেই পছন্দ করে। পাবলিক খাবে বলে। কখনোই মিডিয়াকে দেখা যায় না নারীর চরম দুঃসময়ে তার পাশে থেকে ইতিবাচক ভাবে বিষয়গুলিকে উপস্থাপন করতে।

নোভা চাননি তার বিচ্ছেদ নিয়ে নোংরামি করতে। চেয়েছিলেন তাহসান মিথিলার মতো ভদ্রভাবে বিষয়টা হ্যান্ডেল করতে। এবং সেটা করতে গিয়েই ঋত্বিক সুজান এর মতো বললেন, ‘আমরা এখনো ভাল বন্ধু!’ এইরকম আধুনিক কথা সাংবাদিকরা নেবেন কেন? ভাল বন্ধু, তাহলে একসঙ্গে থাকছেন না কেন? এসব কথার উত্তর দিতেই যা বলেছেন তাতে বোঝা যায় অর্থজনিত কষ্ট আর অপমান তাকে সইতে হয়েছে। অবশ্য শুধুমাত্র এই কারণে বিচ্ছেদ করা সমীচীন কিনা মানে এমন হলেতো প্রতিটি নিম্নবিত্ত বা যারা অভাবী তাদের সংসার ও সব ভেঙ্গে যেতো। হয়ত যায় ও। কিন্তু ওরা ভীষণ লড়াকু। আপনার বাড়ির গৃহকর্মীটির জীবনেও এমন কাহিনী আছে। হয়তো সে তার মধ্যেই তার দু হাত দিয়ে যুদ্ধটি একাই চালিয়ে যাচ্ছে। তবু কারো জায়গায় না থেকে তার বিচ্ছেদের কারণ মামুলী বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না। শুধু তার পাশে থেকে বলতে পারি ভাল থাকো মেয়ে ,অসহ্য হলে চলে যাও।

চলে গেছে চাঁদনীও। কী দুঃখ, কী যন্ত্রণা সয়ে সয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে তার সে খবর চাপা থেকে যাবে গীটারের সুরে। আজ তার মন খারাপ বলে কেউ হয়ত এনে দেবে না বৃষ্টির ঝিরিঝিরি হাওয়া। যে সরলীকরণ লোকে এক মুহূর্তেই করে ফেলবে তাতে ক্ষত-বিক্ষত হবে শুধু মেয়েটি। কারণ সে মিডিয়ার মেয়ে। খারাপ মেয়ে। তাদের ঘর সহ্য হয় না। এক স্বামীতে হয় না। গাড়ী বদলানোর মত তারা স্বামী বদলায়। আবালেরা জানেনা দিন শেষে ওরাও কেবলই মেয়েমানুষ। আর কোন মেয়েই তার নিজের সংসার ভাঙ্গতে চায় না। এই নষ্ট সমাজের চোখ চেয়ে হলেও। যে লোকগুলো তাদের সেই পথে ঠেলে দেয় গালিগালাজগুলো তাদের করুন। মেয়েগুলোর দুঃসময়ে ওদের পাশে দাঁড়ান, নয়তো ছেড়ে দেন ওদের। এভাবে রক্তাক্ত করবেন না।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 2.1K
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2.1K
    Shares

লেখাটি ১৫,৬৬০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.