হারলো তো পুঁজির প্রভু পুরুষতন্ত্র, মেয়েটি নয়

0

শেখ তাসলিমা মুন:

যেবার সুস্মিতা সেন মিস ইউনিভার্স হয়েছিল সেবার অনুষ্ঠানটি দেখেছিলাম। এরপরে আর দেখা হয়নি। ইন্টারেস্ট ছিল, কারণ প্রতিযোগী বাঙালি ছিল। আর খুব সম্ভবত সুইডিশ চ্যানেলে এরপর থেকে প্রোগ্রামটি প্রচার বন্ধ করে দেয়। আমারও আর দেখা হয়নি। এ কম্পিটিশনটি আগাগোড়া দেখেছিলাম। বারবার বলেছিলাম, মেধাবীদের এখানে অমেধাবী দেখাচ্ছে। সুস্মিতার মুখের দিকে তাকালে ভারি মিষ্টি আর মেধাবী লাগছিল। বিকিনিটা এতো চিকন ছিল যে ওদিকটা তাকালে চরম স্থুল লাগছিল। মনে হচ্ছিল মেয়েদের ঐ পার্টটি সব থেকে অথর্ব উৎকট এবং অপ্রয়োজনীয়।

যে বন্ধুদের সাথে দেখছিলাম, তারা বললো, ওটাই নাকি বেশি দরকারি। বিষয়টি খেয়াল করে দেখলাম। হ্যাঁ, বিকিনিগুলো বড় বেশি টান টান। দেহবল্লরি সব প্রায় এক রকম। স্টেজে এক ঝাঁক মেয়ে। বিশাল বিশাল ঊরু এবং নিতম্ব প্রকাশিত করে হেঁটে যাচ্ছে এবং নেমে যাচ্ছে। তাদের সেই হেঁটে যাওয়ার ভেতর অনেক পয়েন্টস রয়েছে। যার আমি কিছু বুঝছিলাম না। কেবল উন্মুক্ত জোড়া জোড়া পেশি তৈরি করা পা হেঁটে যাচ্ছে, এটুকুন ছাড়া।

এখানে বলে রাখা ভালো, আমি মোটেও ব্রীড়াবতী নই। সুইমিং স্যুটে নারী-পুরুষ উভয়ের সাথে সাঁতার কাটতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। বিষয়টি সেটি নয়। বিষয়টির গভীরতা অন্য জায়গায়।

অনেকখানি টানটান শরীর, মাপজোক, অনেকখানি বিকিনি, একটু বাচনভঙ্গি, এক্টুখানি স্ট্রিট স্মার্টনেস মিলিয়ে এ প্রতিযোগিতা। কিছু প্রশ্ন স্ট্যান্ডার্ড। তার উত্তরগুলোও প্রশ্নগুলোর মতোই তৈরি করা।

আপনি এক বিলিয়ন জিতলে কী করবেন? জাতীয় প্রশ্ন। কিংবা আপনি প্রধানমন্ত্রী হলে প্রথমে কী কাজ করবেন? উত্তরও সেরকম। আফ্রিকার ক্ষুধার্ত বাচ্চাদের জন্য আমি কিছু করবো। বা দরিদ্রদের জন্য করবো। বা ইন্ডিয়ার মেয়েদের শিক্ষার জন্য করবো। স্কোর পড়বে ফটাফট।

বিষয়টি হলো, মূল বিষয়টি মেয়েদের দৈহিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিযোগিতা। যা একটি কোটি কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রিজ। নিও ডেমোক্রাসির কনসেপশনে যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক তার নিজের ইচ্ছেয় নিজের স্বাধীনতা অনুযায়ি যা করবে সেটা তার অধিকার এবং সেটাকে সাপ্রেশন হিসেবে গণ্য করা হবে না। বলা হয়, মুক্ত পৃথিবীতে মানুষ সকল কাজ তার মুক্ত ইচ্ছেয় এবং খুশিতে করতে পারবে। বিষয়টিকে দেখতে গেলে একটু মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করা দরকার।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে পশ্চিম ইউরোপে যে বিষয়টি দেখা যায় সেটি হলো, পূর্ব ইউরোপের মেয়েরা ঝাঁকে ঝাঁকে প্যারিসের মডেল পৃথিবীতে আসার জন্য পাগল হয়ে গেল। এটা তাদের মক্কার মতো। প্যারিসে মডেল হতে পারাকে তারা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে যতটা খোলামেলা হবার দরকার, তার থেকে অনেক বেশি খোলামেলা হবার প্রতিযোগিতা শুরু করে দিলো। তারা এমন পোশাক পরে র‍্যাম্প লাইটে আসতে শুরু করলো যে, লাইটে তাদের পোশাকের ভেতর থেকে ব্রেস্টের নিপল পরিস্ফুট হতে দ্বিধা করলো না।

সাধারণত পশ্চিম মডেলরা এ বিষয়টি করেনি। কিন্তু পূর্ব ইউরোপের মেয়েরা জায়গা করে নিতে প্রতিযোগিতায় এ ধাপ থেকে আরও অগ্রগামী ধাপে অগ্রসর হলো। একজন রাশান মেয়েকে ইন্টারভিউ দিতে দেখেছিলাম। সে বলছে, “যা আমি নিজ ইচ্ছায় করছি সেটার ভেতর আমি কোন সাপ্রেশন দেখি না। বরং এটিকে আমি একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখছি। এটি আমার ফ্রিডম। যে ফ্রিডম আমার জন্মগত। সোভিয়েত ইউনিয়নের কম্যুনিস্ট সিস্টেম আমাকে সেটি থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। আমি এখন সে অপ্রেশন থেকে নিজেকে মুক্ত করেছি”।

কিন্তু এ মুক্ততার ভেতরে একটি জাল পাতা আছে। সে জালটি পুঁজির জাল। ‘মুক্ত বাজার’ বলে একটি বিষয় চালু আছে। সেখানে তুমি তোমার সব ইনভেস্ট করতে পারো। টাকা, মেধা, কমপিটেন্স, সার্ভিস, শিল্প, কবিতা, সৌন্দর্য, শরীর বা সেক্স। সবকিছু তুমি ইনভেস্ট করতে পারো। প্রফিট করতে পারো। সর্বোচ্চ প্রফিট করবে যে, সে টিকে থাকবে, বাকিরা পেছনে পড়ে যাবে। পুঁজিবাদী সিস্টেম সেটাকে বলে সফলতা। এটি একটি ক্রমাগত প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যুদ্ধে সবাই সামিল।

যতটা ‘মুক্ত’ এ বাজারকে বলা হোক না কেন, ততটা ‘মুক্ত’ এটি হতে পারেনি। ‘প্রতিযোগিতা’ এর অনেকটা অপহরণ করে নিয়েছে। প্রফিট ভাগ্যকে জিততে যা করতে হচ্ছে, সেটি আবার চুপিসারে কখন এক স্লেভারি বা দাসত্বে পরিণত হয়ে স্বাধীনতা পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে, সেটি যে কত বড় একটি অধ্যায়, সেটি লিখতে এ মজলিসে সম্ভব নয়।

প্যারিসে মডেলদের কৃশকায়া হতে যে শর্ত দেওয়া হয় এবং সেটি এচিভ করতে পর পর কিছু মডেল ক্যাটওয়াক চলাকালীন পড়ে মারা যায়। এটি পশ্চিম ইউরোপের মেয়েদের ঝাঁকুনি দেয় ভালমতো। তারা এ নিয়ম বদলানোর জন্য আন্দোলন শুরু করে।

এখানে উল্লেখ করা ভালো, মডেলিং এমন একটি পেশা যে পেশায় আটাশ বছরের মতো বয়সেও রিটায়ার্ড বয়স ধরা হয়। এ বয়সের ভেতর তাদের সর্বোচ্চ আয় করে নিতে হয়। আর সেটি করতে যা করা হয়, সেটি একটি লোমহর্ষক এক্সপ্লয়টেশন ছাড়া কিছুই নয়। এ প্রতিযোগিতায় সামিল হতে হাজার হাজার মেয়ে নিজেদের দাস করে ফেলে। তবু একটু ফেম একটু সফলতা, একটু লাইমলাইটের জন্য সব কিছু তুচ্ছ করে তোলে এইসব মেয়েরা। আর তাদের সামনে মুলোটি যারা ধরে রাখেন, তেনারা পুঁজির গুরু পুরুষতান্ত্রিক প্রভু।

আর দেখা যায় যা তার ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ সেটি হয়ে ওঠে তার দাসত্ব এবং তার উপর ইনভেস্ট করছে যে ইন্ডাস্ট্রিজগুলো, তারা যে পরিমাণ প্রফিট করছে, তার ০.৯ দশমিক ভাগও এ মেয়েদের হাতে আসছে না। বিশ্বব্যাপি ট্রেড পলিসি আজ এভাবেই চলছে। ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্ট’ সম্পর্কের কথা মুখে আওড়িয়ে বৃহৎ শক্তিগুলো দুর্বল দেশের শ্রমগুলোর চূড়ান্ত ব্যবহার করছে।

লাইম লাইটের লোভে পড়া মেয়েরা সেই চিনির আস্তরণে মুড়ানো কুইনাইন গিলছে। পুঁজির প্রতিনিধিরা তাদের সে সুগার পিলস খাওয়াচ্ছে। এই প্রফিট করা ইন্ডাস্ট্রিজগুলোই শর্তগুলো নির্ধারণ করছে। তারাই নারীর দেহের মাপ ঠিক করছে। তারাই ইঞ্চি মেপে মাপজোক ঠিক করছে তাদের ব্যবসায়ি পলিসি হিসেবে। নারীর পোশাক বানাচ্ছে তারা। আমি আমার দেহটি তাদের ধার দিচ্ছি। তারা বলছে, তুমি বেস্ট হচ্ছো। তুমি ফেমাস হচ্ছো। তুমি টাকার মালিক হচ্ছো। মেয়েরা এটিকে ‘সম্ভাবনা’ মনে করছে। কিন্তু তাদের এই ‘হওয়া’ থেকে ঐ ইন্ড্রাট্রিজগুলোর প্রফিটের পার্থক্য এতো বেশি যে, সেখানে ‘গণতন্ত্রের’ বাণী মুখ থুবড়ে পড়ে কাঁদছে।

যে ঘটনাটি আসলে ঘটছে সেটি হলো, এর প্রভাব প্রচণ্ড নেতিবাচকভাবে পড়ছে। আজকের ওয়েস্টার্ন সোসাইটির মেয়েরা ‘বিশ্ব সুন্দরীর’ বা ‘টপ মেডেল’ হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখছে। তারা ফিজিক্স ম্যাথ ফিলসফি আর্ট থেকে মেকাপ এবং ফ্যাশন ট্রেন্ড স্টাডিতে সময় বেশি দিচ্ছে।

আজ যে বিশ্বসুন্দরী বা টপমডেল তাকে সেটি বানাতে যে খরচ এই ইন্ডাস্ট্রিজগুলো করেছে, সেটির পূর্ণ ব্যবহার আমরা বাজারে দেখতে পাবো সবখানে। এমনকি শিশুদের ডলগুলোও তাদের আদলে হচ্ছে। একটি দু বছরের মেয়ের হাতে যে ডল তুলে দেওয়া হচ্ছে, তার দেহবল্লরির দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, মেয়েদের দেহকে কিভাবে খোদাই করা হয়েছে।

একচেটিয়াজাত এ সমাজে ভিন্ন ফিগারের কোনো জায়গা নেই। একটি মোটা বারবি ডল আপনি কোথাও পাবেন না। কিছুদিন আগ পর্যন্ত একটি কালো বারবি পাওয়া যেতো না। প্রতিবাদ সমালোচনার মুখে এখন কিছু কালো বারবি দেখা যায়। কিন্তু সেই ফিগার। একটি মেয়ে বুঝতে শিখেই ঝুঁকে পড়ে ফিগার ঠিক করতে। তেরো বছরের মেয়ে ডায়েট করে। নাকের অপারেশন করে। আঠারো বছর বয়সে ব্রেস্ট বড় করে। ঠোঁট বড় করে। ভিক্টোরিয়া সিক্রেটের সবপ্নে বিভোর থাকে। প্যারিসের ব্র্যান্ড কসমেটিক্স পারফিউম পাওয়ার জন্য সুখ হারাম করে। ডায়েট করতে গিয়ে এনারক্সিয়া নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা পর্যন্ত গেছে অনেক টিনেজ মেয়ে।

এর দায়িত্ব এসব ইন্ড্রাট্রিজকে নিতে হবে। যারা ‘মিস’ সুন্দরী তৈরি করছে, ‘টপ মডেল’ তৈরি করছে দায়টি তাদের। তারা একটি সোসাইটির মেয়েদেরকে যে মডেল ধরিয়ে দিচ্ছে, সেখানে তাদের ব্রেইনের কোষে কোষে যে বীজ রোপণ করা হচ্ছে, তা মেয়েদেরকে সামনে নয় পেছনে নিয়ে যাচ্ছে অনেক বেশি। এ দায়িত্ব পুঁজিপতিদের নিতে হবে। পুঁজির পোশাকে পুরুষতন্ত্রকে নিতে হবে।

‘বিশ্ব সুন্দরী’ হয়ে কাদের লাভবান করছে মেয়েরা, সেটি ভাবার সময় এসেছে মেয়েদের। কতটা কার্যকর এবং অর্থপূর্ণ এ কোয়ালিটি, সেটিও ভেবে দেখা খুব দরকারি। একটি মেয়ে তার দৈহিক মাপকাঠিতে যা পারে, সে কেবল দেহের ফাংশন। যে মেয়েটি তার প্রজ্ঞা ও মেধায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে সে ফিল্ডগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে ভূমিকা রাখা দরকার। বৈসাদৃশ্যটি সেখানে।

এ ধরনের কন্টেস্ট সমাজে ও প্রফেশনাল জীবনে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। একজন মেয়েকে নভোচারী হবার স্বপ্ন দেখানোর থেকে, পাইলট হবার স্বপ্ন দেখানোর থেকে তাকে শরীর ভিত্তিক কমপিটিশনে নিয়োজিত করা হচ্ছে। মুক্ত বাজারের নামে তার সামনে যে বিষয়ের একচ্ছত্রতা কায়েম করা হচ্ছে সেখানে তার ‘চুজ’ করার ক্ষমতাই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ‘মিস সুন্দরী’ কন্টেস্ট বাংলাদেশও ইনভলভ হয়েছে। অন্য বিষয়ে উন্নতি না হলেও এসব দিকে প্রফিট থেকে তারা পিছিয়ে থাকবে কেন? চিন্তা খারাপ না। অন্তত তেঁতুল হুজুরের থাবার ভেতর একজন ‘ বিশ্ব সুন্দরী’ হবে এটি বেশ আশাব্যাঞ্জক। কিন্তু একজন মেয়েকে ‘মিস বাংলাদেশ’ বানিয়ে তাকে তার খেতাব বাতিলও করা হয়েছে। তার অপরাধ সে তার বাল্যবিবাহের কথা এপ্লিকেশনে উল্লেখ করেনি। একটি মেয়ে যখন বাল্যবিবাহের মতো কঠিন বিষয়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে আসতে পারে, তার হারানোর কিছু নেই। হার তাদের হয়, যারা মেয়েটির ভেতরের শক্তিকে দেখতে অপরাগতা দেখালো।

এই মেয়েটি বাল্যবিবাহের শিকার অনেক মেয়ের প্রতিনিধি হতে পারতো। অন্তত আয়োজকরা সেটি ঘোষণা দিয়ে এ অথর্ব কন্টেস্টটিকে একটি আলাদা ফেইস দিতে পারতো। সে সুযোগ তারা হারালো। প্রশ্ন আসতে পারে, এ প্রতিযোগিতায় কী যোগ্যতা প্রমাণ হয়? সঠিক। আমি বলবো, মেয়েটির প্রত্যয়! সেটি কাজে লাগানোর মতো। সবার ফিল্ড এক নয়। এ সমাজের পুরুষ প্রতিনিধিরা আবারও প্রমাণ করলো প্রফিট অনেক বড় বিষয়। তারা মেয়েটিকে এ ‘ফিল্ডে’ ‘সেরা’ রেখে লস দেওয়ার রিস্ক নিলো না। একটি মেয়ে বিয়ে নামক বিষয়কে গোপন করে পৃথিবী ও বিশ্বমানবতার কোন ক্ষতি করেনি। অন্যায়ও নয়।

তাকে বাল্য বিয়ে দিয়ে তাকে যেমন অন্যায় করা হয়েছিল, যে অন্যায়ের জন্য তার কোনো দায় ছিল না। যার কোনো অপশন ছিল না সেটি পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া! সে দুঃস্বপ্নকে কবর দেওয়া ছাড়া। যাকে সে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছিল সেটাকেই অপরাধ হিসেবে তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হলো। অনেক আগে হওয়া সেই অন্যায়কেই আবারও তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হলো। আলাদা কিছু নয়। এ হার আর কারো নয়, হার হয়েছে এ সিস্টেমের। যে পদ্ধতিতে ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ মাপা হয় সে পদ্ধতির।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.5K
  •  
  •  
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.5K
    Shares

লেখাটি ৭,৯৬১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.