হলিউডের নায়িকা রেখা , আমাদের রেখাদি ও জলরঙ

আকাশলীনা:

রেখা বলিউডের নায়িকা। একসময় তার রুপপাগল ছিলাম। বিয়ে করেননি। বিগবি’র সাথে একটি মধুর রিলেশন ছিল শোনা যায়। যোগ ব্যায়াম করেন। নিরামিশভোজী। ওড়িয়া নাচ ভালো জানেন। তাকে নিয়ে অনেক কিছু জানি। কারণ তার ফ্যান ছিলাম একসময়।

ফ্যান ছিলাম আরেক রেখা’র। রেখাদি। রেখা সেন। রানাঘাটের রেখাদির কথা বলছি। সেই রেখাদির রুপপাগল নয় শুধু, গুণপাগলও ছিলাম। ৮০ দশকে জিনস/ ফতোয়া পরতেন। হাতে বালা। চুড়ি নয়। আমরা তখন ইশকুলের শেষ ধাপে। তিনি ফ্যাশনেবল ছিলেন। তার হাতেই দেখি সিমন দ্য বিভোয়ারের বই। তখন বুঝিনি। পরে বুঝেছি সিমন যারা পড়ে তারা কেমন। একদিন চুরুট খেতেও দেখেছিলাম। বড়ো হতে হতে আরও দেখি রেখাদিকে। অনেক জনের সাথে প্রেম ছিল। একদিন নাকি কাকে বলেছিলেন , আমার কাছে সব প্রেমই প্রথম। সিরিয়েলের তকমা আটি না। বেশ নারীবাদী।

মোহিত তাকে নিয়ে। তারপর একদিন তার বিয়ে হয়। তিনি বরসহ চলে যান পাটনায়। বেশ কয়েক বছর দেখিনি তাকে। আমরা যারা তাকে দেখে বড়ো হয়েছিলাম, তাদের জলসায় তার কথা হতো। আহা আমাদের রেখাদি, এক রোল মডেল।

খবরাখবর পেতাম তার। এক ছেলে/এক মেয়ের (টুইন) মা তিনি। তার পিসতুতো ভাই জহর আমাদের এসব খবর দিত।
যাক, তার মেয়েকে কখনো কিচেনে ঢুকাননি। খুব আদরে বড়ো করেছেন। ছেলেকেও। তার ছেলের সাথে গত বছর বিয়ে হলো আমাদের পাড়ার এক মেয়ের। এই মেয়েটির নাম বলছি না। মেয়েটি বিয়ের সাতমাস পর বাপের বাড়ি বেড়াতে এলো। তখন সে তার শাশুড়ি আর আমাদের রেখাদি নিয়ে অনেক কথা শোনালো।
রেখাদি তাকে সবসময় শাড়ি পরতে বাধ্য করেন। কিচেন সামলানো , পূজার ঘর সামলানো সবই করতে হয় মেয়েটিকে। বাপের বাড়ি আসতেই দিতে চান না।
ওদিকে নিজের মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে এনে রাখেন ঘন ঘন।

মানেই যা বোঝলাম, সেটি হলো রেখাদি মা হিসেবে তার মেয়ের সাথে একরকম রোল প্লে করছেন, আর শাশুড়ি হিসেবে ছেলের বউয়ের সাথে আরেকরকম। শুধু তাই নয়, বরকে নজরে রাখেন, কারও সাথে ইটিসপিটিস করেন কি-না সেটি দেখার জন্য রেখাদির সাথে আমার কখনও কথা হয়নি। কৈশোরে দূর থেকে দেখতাম। এখনও দেখতে সাধ জাগে। আমাদের রেখাদি , যার হাতে সিমন দেখেছিলাম, তিনি কেমন বদলে গেলেন!

জগতের সব শিশুর মুখই একই রকম। বড়ো হতে হতে বদলে যায় অবয়ব। কথাটি বলেছিলেন ফিলোসফার হেগেল। বলিউড নায়িকা রেখার অবয়ব দেখি। হায় আমাদের রেখাদির অবয়ব দেখতে পাই না।

তবে আঁকি খুব সহজেই। কলকাতা শহরের যেসব শাশুড়িরা বউদের সাথে একরকম আরেক নিজ মেয়ের সাথে আরেকরকম ব্যবহার করেন, তাদের দেখলেই রেখাদির মুখও দেখি। আপনারাও রেখাদিকে দেখছেন অহরহ , আমার ধারণা।

তবে রেখাদির মেয়েটির মুখ আঁকতে পারি না। কারণ সে যে আহলাদে বেড়ে উঠেছে পরে যদি গিয়ে দেখি ‘রেখাদি’ কিসিমের শাশুড়ির ঘেরাটোপে সে, তখন তার অবয়ব কী কেবলই জলরঙ হবে? জলরঙে আঁকা নারীমুখের দিকে তাকিয়ে আমি রেখাদির মুখে অনেক কাটাকুটির দাগ দেখতে পাই।

বলিরেখা এগুলো?

লেখক পরিচিতি: লেখক ও সাংবাদিক

শেয়ার করুন:
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.