‘ঘন্টা দুয়েকের প্রেমিক'(শ্রমিক?), নাকি সেক্সটয়!

0

পিংকি মাইতি:

জীবন আপনার, যাপনও করবেন- আপনি। সেখানে অবশ্যই আমার কিছু বলার থাকে না।
তবে প্রশ্ন একটা উঠেই যায়, আদৌ কোনো সম্পর্কের এমন অবমূল্যায়ন, বাণিজ্যিকীকরণ বা, সরলীকরণ করা চলে কি?
প্রথাবিরোধী হতে গিয়ে আমরা বড্ড বেশি আত্মকেন্দ্রিক, যান্ত্রিক হয়ে উঠছি, না তো?

দাম্পত্য সম্পর্ক বা, শুধু দাম্পত্য সম্পর্কই বা বলি কেন, যে কোনো সম্পর্কই পাঁচটাকা দামের ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’ বলপেন নয়, যে-ব্যবহার করলাম, কাজ মিটে গেল, তারপর ছুঁড়ে ফেললাম! তর্জনী তুলে বাড়ির মেইন গেইট দেখিয়ে দিলাম-“টাইম ইজ ওভার! এবার তুমি আসতে পারো!”
শরীর ঘেমে উঠলেই রগরগে সেক্স ভিডিও, নিজের দু’হাত কিংবা, পারদর্শিতা থাকলে, মুলো-বেগুন বা, সেক্সটয় দিয়েও অর্গাজম ঘটানো যায়।
সাধ্যে পোষালে, ঘরে বসে ম্যানিকিওর, পেডিকিওর, বডি স্পা-এর মতোই ঘন্টা দুয়েকের জন্য মেইল এসকর্টের তরল উষ্ণতাও কেনা যায়!

তবে তাকে ‘প্রেমিক’ বলি কীভাবে!
“ফ্যালো কড়ি, মাখো তেল” সম্পর্ক আর যাইহোক ‘প্রেম’ নয়।
প্রেম তো তা-ই, যার জন্য শুধুমাত্র ঘন্টা-দুয়েক কেন, এক জীবনও যথেষ্ট নয়!
তা-ই আমরা মানে আমাদের মতো বোকা-সোকা মেয়েরা এখনও ‘স্বামী নামক জিনিস’টা নিয়ে ‘প্রেমে-অপ্রেমে-ঝগড়ায়-খুনসুটি’তে জীবনের সবগুলো শীত একই লেপের তলায় কাটিয়ে দিতে পারলেই, বেঁচে-বর্তে যাই!
আবার যাঁদের সে উপায় নেই,তাঁদের বিষয় ভিন্ন!

আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে, তাঁদের আমি একই লেপের তলায় তো দূর,কখনওই একই ছাদের তলায়ও থাকতে বলবো না।
সমাজকে ‘থোড়াই কেয়ার’ করে,তাঁদের একা থাকাকে আমি স্যালুট জানাই।
আত্মসম্মানের সঙ্গে, কোনো স্বার্থেই কখনো সমঝোতা নয়!
তাঁদের এই একা থেকে জীবনটাকে একহাত দেখে নেওয়ার মানসিকতাকে কুর্নিশ জানাই!
তবে শুধুমাত্র স্বাদ বদলের জন্য ‘সঙ্গীবদল’ আমি মেনে নিতে পারি না।

এইধরনের আবেগহীন-মূল্যবোধহীন-স্বার্থপর মানুষগুলোকে দেখলে বড্ড করুণা হয়!
হাজারও স্তাবক,অন্ধভক্ত,শত-শত ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’র(?) ভিড়েও, দিনশেষে-এঁরা আসলেই একা!
চেনাছকের বাইরে চলতে গিয়ে, এঁরা ভুলে যায়-‘যৌনসঙ্গী’ আর ‘প্রেমিক’ কখনোই এক নয়, স্বামী বা স্ত্রী তো নয়ই!
এই ‘স্বামী নামক জিনিস’টা বাড়ির আর দশ-বিশটা পুরোনো আসবাব পত্রের মতো নয়,যে- ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের স্বার্থে লেটেস্ট মডেল দিয়ে রিপ্লেস করতে হবে!

যদিও দীর্ঘদিনের ব্যবহারে,পুরোনো আসবাব পত্রেও প্রাণের ছোঁয়া লাগে,পরিবারের ‘একজন’ অলিখিত ‘সদস্য’ হয়ে ওঠে!
অবশ্য,সেই বোধটুকুও আবার সবার মধ্যে থাকে না!
এঁদের দেখে-পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা,আত্মত্যাগ, আবেগ- এর এমন সহজ সরলীকরণে সত্যিই হতাশ হই!
এঁরা বোধহয় ভুলে যান-‘নারীবাদ’ কখনোই পুরুষ বিদ্বেষিতার কথা বলে না বা,সম্পর্কের এমন একচেটিয়া সরলীকরণেও বিশ্বাসী নয়।
তবুও এঁরা,এঁরাই।

অটোগ্রাফের জন্য আমাকে ঘিরে ভিড় জমে না, ক্যামেরার ফ্লাশলাইটও ঝলসে ওঠে না ঠিকই, তবুও- প্রবল জ্বরে কপালে প্রিয়জনের ঠান্ডা হাতের ছোঁয়া,কিংবা প্রচন্ড গরমে হঠাৎ লোডশেডিং এ ঘুম ভেঙে, যখন দেখি-‘কেউ একজন’ ঘুমে ঢুলতে ঢুলতেও,নিজের কপালের ঘাম মুছতে মুছতে, তালপাখা খুঁজে না পেয়ে,মেয়ের অঙ্কখাতাটাকেই পাখা বানিয়ে একবার মেয়ের দিকে একবার আমাকে হাওয়া করছে-তখন ঘুমের ভান করে পড়ে থাকি, চুপচাপ। আর কেন জানি না,দু’চোখ জলে ভরে আসে-ভাবি,জীবন এতো ছোটো কেন!

সক্কাল বেলায় শাশুড়ির মুখ ঝামটা ভুলে যাই-দুপুরবেলা খাওয়ার টেবিলে, শ্বশুর মশাইয়ের আব্দারে-“সে ডাক্তার যা-ই বলুক,ওসব ডায়েট-ফায়েড থাক্। তুমি বরং আজ,আমাকে একহাতা ভাত বেশিই দাও,দেখি মা! লাউ চিংড়িটা যা রেঁধেছ!”
খুশিতে চোখের জল লুকোতে টেবিলের তলায় ঝুঁকে পড়ে যাওয়া ‘কাল্পনিক’ চামচ খুঁজি!
“কে না জানে,সুখ ভাগ করলে স্বাদে বাড়ে!”

শাড়ির কুচি সামলাতে,ব্রা’র হুকটা ঠিকঠাক আটকে দিয়ে পিঠে হঠাৎ এক আলতো চুমু,কিংবা সেজেগুজে কোথাও বেরোনোর আগে সদর দরজা পর্যন্ত এগিয়ে এসে,নিজের দাঁত দিয়ে আমার কড়ে আঙুলের নখ কেটে, গায়ে থুতু ছিটিয়ে,কপালে দু’হাত ঠেকিয়ে ‘দুগ্গা,দুগ্গা’ বলার জন্য হলেও আমার এক ‘শাশুড়ির ছেলে’ আর ‘শাশুড়ি’ চাই!

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 790
  •  
  •  
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    793
    Shares

লেখাটি ৮,২০৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.