অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের অসুবিধাসমূহ

0

লুবনা ইয়াসমিন:

চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি হয়েছে অনেক।
মানুষের জীবন বাচাঁনো,দীর্ঘায়ুতে ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় অবদান রেখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অকারণে সিজারিয়ান অপারেশন এই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে প্রতিনিয়ত। যেই সমস্ত নারীদের সিজারিয়ান প্রয়োজন তারা বঞ্চিত হচ্ছে এই সুবিধাপ্রাপ্তি থেকে বিভিন্ন কারণে। মাতৃমৃত্যু রোধে সিজারিয়ান অপারেশন যে ভূমিকা রাখার কথা তা কতখানি রাখতে পারছে, সেই নিয়ে প্রচুর গবেষণা রয়েছে।
বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু হার এখনো যথেষ্ট আশংকাজনক।

যে সমস্ত নারী স্বাভাবিক প্রসব করার জন্য উপযুক্ত, তাদেরকে সিজারিয়ান অপারেশন করালে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন তারা হয়, বা হতে পারে, সেই সম্পর্কে ছোট্ট করে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।

যে নারী ঘরে এবং বাইরে সমানভাবে অবদান রাখছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশীই রাখছে, তাদের শরীরে এই সি সেকশন মারাত্মকভাবে তাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

নতুন প্রজন্মের মেয়েরা তাদের মা এবং নানীদের চেয়ে কাজে-কর্মে অনেক শ্লথ হয়ে আসছে।

বিয়ের পর একটি মেয়ের জীবনে বেশ পরিবর্তন আসে। তারপর মেয়েটি যদি পড়াশোনা করে এবং পরবর্তীতে যদি চাকরিতে যোগ দেয়, এবং সেই অবস্হায় যদি সি সেকশন করে বাচ্চা নেয়, তখন কিছুদিন এবং বেশ কয়েক মাসের জন্য তাঁকে মোটামুটি পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

সি সেকশন করার কারণে যে অসুবিধাগুলো হয় তা মোটামুটি নিম্নরূপ:

১। বাচ্চাকে ঠিকমতোন বসে বা শুয়ে বুকের দুধ খাওয়ানো যায় না। অনেক কসরত করতে হয়।

২। ৭ দিনের জন্য উঠা-বসা চলা-ফেরা করা কষ্টকর হয়ে যায়।

৩। বাচ্চার জন্য নিজের থেকে কোনো কিছুই করা সম্ভব হয় না। (সাহায্যকারী বা নিকট আত্মীয় ছাড়া চলা একবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে।)।

৪। বাচ্চা সার্বক্ষণিক ধরার জন্য মরিয়া হয়ে একটি মায়ের অন্য কারো সাহায্যের জন্য তাকিয়ে থাকতে হয়। এই সময় বাচ্চার একটু অনিয়ম হলে বুক ফেটে কান্না আসে। কাউকে বলতেও পারা যায় না, আবার সহ্য করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এইভাবে চলতে চলতে একটি মা মানসিক কষ্টে নিপতিত হয়। ঘুমের এবং পর্যাপ্ত রেস্ট এর কথা না হয় নাই বললাম।

৫। সি সেকশন হওয়ার কারণে এন্টিবায়োটিক খেতে হয় ফলশ্রুতিতে মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে আসে, বাচ্চা ঠিক মতন দুধ পায় না। যেখানে একটি শিশু জন্মের পর শুধু মায়ের বুকের দুধ ছয় মাস পর্যন্ত খাওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে।

৬। স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, ভারী কাজ করা যায় না। ধনী পরিবারের সদস্যরা হয়তো অন্য কাউকে দিয়ে ভারী কাজগুলো করিয়ে নিতে পারে, কিন্তুু অধিকাংশ নারীর নিজেদের কাজ নিজেই করতে হয়।

৭। কোমর ব্যথা/মাজা ব্যথা এবং সাথে মাথা ব্যথা নিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়।

স্বাভাবিক প্রসব হওয়ার সুবিধা।

১। বাচ্চা হওয়ার পর থেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা যায়। একবেলা পরেই স্বাবলম্বী হয়ে নিজের কাজ করতে পারা যায়।
বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না।

২। দুই-তিন দিন রেস্ট এ থেকে সেলাই শুকালেই (অনেকের যোনিপথ এর মুখ সেলাই করতে হয়) স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ফিরে আসা যায়।

৩। নতুন বাচ্চার আগমনে যে আনন্দ তা তৃপ্তির সাথে উপভোগ করা যায়।

৪। টাকাপয়সা অনেক কম খরচ হয়।

কারো সাহায্যের জন্য দিনের পর দিন, মাসের পর মাস চেয়ে থাকতে হয় না।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 906
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    906
    Shares

লেখাটি ২,৯৮৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.