আসুন, অন্তত এই প্রজন্মকে রক্ষা করি

0

সোমা দত্ত:

ঘটনা-১

ইদানিং খুব চুপচাপ হয়ে গেছে অন্তু। স্কুল আর বাসাই এখন ওর জগৎ হয়ে গেছে যেন! খেলাধুলা বা বেড়ানোর প্রতি কোন আগ্রহ নেই। ঠিক তেমনি খাওয়া দাওয়ার প্রতিও বেশ অনীহা। “অথচ ছেলেটা আমার খেতে খুব পছন্দ করে”, রান্নাঘরে ব্যস্ত সময় পার করতে করতে নিজের মনেই কথাগুলো বলছে নিশাত। কি যে হলো!? শরীরটা খারাপ হয়নি তো!? কিছু জিজ্ঞেস করেও তো লাভ নেই। কেমন যেন খিটখিটে হয়ে গেছে ছেলেটা, মা কিছু বললেই কেমন যেন তেড়ে আসে! বিশেষ করে ছেলেকে যদি পাশের বাসায় খেলতে যেতে বলে। ওখানে অন্তুর চাইতে বছর খানিকের বড় এক ছেলে আছে ওদের, ওর সাথেই খেলতো অন্তু। কিছুদিন হলো একেবারেই যেতে চায় না আর, তবু নিশাত মাঝে মাঝে জোর করে পাঠায়।

ঘটনা-২

খুব চঞ্চল আর মিষ্টি মেয়ে দোলা। ক্লাশ ফাইভে পড়ে। নাচতে পছন্দ করে আর ছবি আঁকতে। মা-বাবা মেয়ের কোন শখ অপূরণ রাখেনি। কোনকিছুর অভাব নেই বাড়িতে। মেয়ের যেন বাইরে কোন রকম বিপদ বা অসুবিধা না হয়, আর সেইসাথে পড়ালেখাতেও যেন ভালো করে তাই বাড়িতেই তিনজন মাস্টার রাখা হয়েছে। এরমধ্যে একজন কয়েকমাস হলো শুরু করেছে। সবাই খুব ভালো পড়ায়। আর দোলারও রেজাল্ট ভালো। নীলা মেয়েকে নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকলেও, মেয়ের মাস্টারদের কাছে পড়ার সময় টাই যেন একটু ফ্রি! তাই এসময় সে নিজের কাজে কিছুটা সময় নিশ্চিন্তে কাটায়!

কিন্তু এবারের হাফ ইয়ার্লির রেজাল্ট তত ভালো হয়নি দোলার, বিশেষ করে দুটো সাব্জেক্ট! তাছাড়া কিছুদিন হলো বেশ মন খারাপ থাকে মেয়েটার। জানতে চাইলে চুপ করে থাকে। নাচ, ছবি আঁকার ধারেকাছেও নেই। বিকেলের সময় হলেই চোখমুখ কালো করে বসে থাকে।
শুধু কি তাই, ওর বাবা যদি কথাও বলতে যায়, কেমন যেন ভয়ে জড়সড় হয়ে যায়। মা বলে কাছে বসিয়ে আদর করতে গেলেই কেমন দূরে যেতে থাকে, ওকে ছুঁতে গেলেই শক্ত হয়ে যায়! কি হলো মুক্তোর মত ঝরঝরে মেয়েটার!?

ঘটনা-৩

ব্যবসায়ী বাবার একমাত্র মেয়ে সারা। ওর মাও সারাদিন সমাজ সেবা নিয়ে বাইরে বাইরে ব্যস্ত থাকে। মেয়েটা বাড়ির কাজের লোকদের হাতেই মানুষ। সারাদিন স্কুলের পরে, বাড়ির বাগানে খেলে সময় কাটায়। সেই সাত আট বছর বয়স থেকে এই একই রুটিন চলছে। এখন ওর বয়স দশ। সারাদের বাড়ি বিশাল। এক প্রান্তের খবর আরেকপ্রান্তে পৌঁছায় না। গেট দিয়ে ঢোকার পর, বাড়তি লোকজন থাকার কিছু জায়গা আছে। সেখানে দূর সম্পর্কের আত্মীয়, গ্রামের লোক এমন ২/৩ জন সবসময়ই থাকে। কিছুদিন হলো নতুন এক লোক এসেছে। তার সাথে সারা খেলাচ্ছলে বেশ কিছুদিন কথাও বলেছে। এরও কিছুদিন পর লোকটি কাজ শেষ হওয়াতে গন্তব্যে চলে গেছে।

সারা এখন ২২ বছরের তরুণী। এখনো আগের মতই সারাদিন একা একা থাকে ঘরে। বাইরে বের হয় না, একদম। আর দিনের বেশীরভাগটাই কাটে বাথরুমে শাওয়ারের নিচে বা বাথটাবে গা ডুবিয়ে। পানি লাগালেই ওর শান্তি, তাছাড়া ওর গা খুব জ্বালা করে আর ঘেন্নাও লাগে। সারার মা এখন সারাদিন বাসায় থাকে, কিন্তু মেয়ে ঘরে নিজেকে বন্দী করেছে।

ঘটনা-৪

মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেকগুলো ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মুক্তা। সবাই আদরটা তাই বেশীই করে। পাড়া ঘুরে খেলা আর সবেমাত্র স্কুল শুরু করা মুক্তারো তাই আহ্লাদটাও বেশী। রান্নাঘরেই ওর মার বেশী সময় কাটে বলে, অন্যদিকে অত নজর দেয়া হয় না! মেহমানদারিতে ওনার জুড়ি নেই। তাই নিত্য নতুন মেহমান আসা নিত্যদিন কার অভ্যেসই যেন। দুই একটা কথা বলেই উনি ব্যস্ত হয়ে যান রান্নাঘরে। তখন ছেলেমেয়েদেরকে বসিয়ে যান মেহমানের সামনে। সুবিধা মত বড়গুলো সরে গেলেও, থেকে যেত শেষ দুজন। তার মধ্যে মুক্তা আদূরে আর ছোট হওয়াতে জায়গা করে নিত মেহমানের কোলে। আর শুরু হতো গল্প সাথে লজেন্স। এদানিং ঘনঘন নানু সম্পর্কে একজন বেশী আসাযাওয়া শুরু করেছে ওদের বাড়িতে। আস্লেই আম্মা একটু পরেই ডাকে, কিন্তু মুক্তার আর ভালোই লাগে না এই নানুকে, কোলে বসতে তো একদমই না! আম্মা ডাক্লেই এখন ওর কান্না আসে।

ঘটনা-৫

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাতুল। ইউনিভার্সিটিতে, বাড়িতে, বাইরে, আত্মীয়দের মধ্যে কোথাও কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে না ও। মুখে জড়তা বা তোতলামি এসে ভর করে আর চোখ চলে যায় তাদের বুকের দিকে! এজন্য কোন মেয়ে বান্ধবী নেই ওর, এমনকি ছেলে বন্ধুও ২/১ জন। যতটুকু কথা বলে, তাও চোখ নামিয়ে। মা, বোন, কাজিনেরা সবাই বিরক্ত। ডিপার্টমেন্ট এও ওকে নিয়ে হাসাহাসি হয়। এখন আর ওর এক্টুও বাঁচতে ইচ্ছা করে না। রাতুল ছোট বেলায় কিন্তু বেশ দুরন্ত ছিল। সবার সাথে মিশত। কিন্তু, সেই ১২/১৩ বছর বয়সী রাতুলের জীবনে ঘটে যাওয়া দুটি অঘটনই এসবের জন্য দায়ী। পাশের বাসার এক বড় ভাই আর তার বন্ধুরা মিলে খালি বাসায় কি যেন করছিল! বন্ধুকে খেলার জন্য ডাকতে যেয়েই, ও আটকে গেল! সবাই মিলে জোর করে, হাসাহাসি করতে করতে রাতুলকে কিসব বাজে জিনিষ দেখাল। কান্নাকাটি করেও ছাড় পায়নি। এরপর থেকেই কুঁকড়ে যেতে থাকল ও। খেতে পারতো না, বমি লাগত, ঘুম হত না, স্বপ্নে দেখত। এর কয়দিন পর বাসায় মেহমান আসায়, রাতে ঘুমের জায়গা হলো এক খালার পাশে। বিষয়টা হয়তো খুব স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু অস্বাভাবিক ছিল ওর মন আর মস্তিষ্ক। তাই ভোররাতে খালার অপ্রস্তুত ভংগিতে শোয়া দেখে ওর অসুস্থ মন ওর মধ্যে পাপবোধের জন্ম দেয়। তারপর থেকে রাতুল চোখ তুলে কথা বলতে প্রচণ্ড ভয় পায়।

ঘটনা-৬

বিয়ের কথা শুনলেই খুব রাগারাগি করে ইলা। কেমন যেন ভয় লাগে, গা ঘিনঘিন করে, দম বন্ধ হয়ে আসে, শ্বাসকষ্টও হয়। ওদের পরিবারে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেয়াটাই অলিখিত নিয়ম। ইলার বাবা কবির সাহেবের সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি। উনার ভয়ে আর হুকুমে সবাই অতিস্ট। কিন্তু মুখে কিছু বলার সাহস নেই কারু। ইলা একদম ধার ধারে না এসবের, মুখের যেটুকু উত্তর দেয়ার ওই দেয়। বদলে মারও খেতে হয় মাঝেমাঝে! ওর বাবাকে কোনদিক থেকেই বাবা মনে হয় না ইলার। সবসময়ই অত্যাচারী পুরুষ বলে মনে হয়। কোনদিন আদর বা ভালোবাসেনি কাউকে, এমনকি ওর মাকেও। সারাজীবন দুর্ব্যবহার করেছে। এখনো করে। ছোটবেলা থেকেই চারটা ভাইবোন এভাবেই চাপা কষ্টে বড় হয়েছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক, দুঃসহ, কষ্টের আর ঘৃণার ছিল ছোট বেলার সেই সময়গুলো। যখন অসুখে বা ভয়ে এক রাতের জন্যও মাকে ওরা কাছে পায়নি। ওদের অসুর বাবা প্রতিরাতে পৌরষিক জোর খাটাত ওদের মায়ের উপর। মায়ের কোন আপত্তিই টিকত না! পাশের ঘরের ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা আর শব্দ কানে হাতচাপা দিয়েও মুক্ত করতে পারেনি ওরা, বিশেষ করে ইলা! তাই আজ ও এত আগ্রাসী আর পুরুষ বা বিয়ে নিয়ে আতংকিত।

এমন হাজারো ঘটনা আছে, লিখেও শেষ করা যাবেনা। আজ আমি শুধুমাত্র গুরুত্ব আর বুঝার স্বার্থে তার কয়েকটা তুলে ধরলাম। চাইল্ড এবিউজ একটি ঘৃণ্যতম ও জঘন্য কাজ। চলুন আমরা সবাই মিলে, এই প্রজন্মকে রক্ষা করি। ওদের প্রতি সচেতন হই।

#চাইল্ড সেক্সুয়াল এবিউজের কিছু প্রয়োজনীয় তথ্যঃ

* শতকরা ২৫% মেয়ে এবং ১৪% ছেলে ১৮ বছর হওয়ার পূর্বেই, চাইল্ড এবিউজের শিকার হয়( দেশ/সমাজ/সংস্কৃতি ভেদে এর পরিমাণ কম বেশী হতে পারে)।
* যেকোন বয়সেই একটা ছেলে বা মেয়ে বাচ্চা এবিউজড হতে পারে, যদিও বেশীরভাগ ঘটনাগুলো (৭-১৩) বছর বয়সেই ঘটে থাকে।
* বাচ্চারা সাধারণত চেনাজানা ও বিশ্বাস করে এমন সব ব্যক্তি দ্বারাই মলেস্টেড হয়ে থাকে।
* শতকরা ৮০-৯০% ছেলে বাচ্চা বাইরের লোক( নন ফ্যামিলি মেম্বার) দ্বারা সেক্সুয়ালি এবিউজড হয়ে থাকে।
* ১৪ বছরের নীচে ছেলে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, ফিমেল পারফর্মার দ্বারা এবিউজ হওয়ার সংখ্যা শতকরা ২০%।
* খুবই কম সংখ্যক বাচ্চারাই তাদের এবিউজ হওয়ার কথা অন্য কাউকে বলতে পারে। কেননা, বিষয়টা গোপন রাখার জন্য তাদের উপর একধরনের চাপ দেয়া হয়ে থাকে ( যেমনঃ মেরে ফেলার হুমকি, সবাই খারাপ বলবে, কেউ বিশ্বাস করবে না, মিথ্যাবাদী ভাবা, ঘুষ হিসেবে চকলেট/খেলনা দেয়া অথবা আবারো শারীরিক নির্যাতন করা)।
* এই ধরনের ঘটনার শিকার বাচ্চারা নিজেদের কেই দোষী ভাবে এবং তাদের মধ্যে এক রকম ভীতি কাজ করে।
#কখন/কিভাবে বুঝবেন বা /সেক্সুয়াল এবিউজের কিছু লক্ষণ সমূহ (সাইন)ঃ
কারো সম্পর্কে হঠাৎ করে অভিযোগ করা বা সে এবিউজড হয়েছে, এ ধরনের স্টেটমেন্ট দেয়া টাই প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচ্য হবে। তবে, সাধারণত বাচ্চারা সহজে এ ধরনের অভিযোগ করে না বা করতে চায় না। তাই অভিভাকদেরকেই অন্যান্য সাইন বা লক্ষণ সমূহের প্রতি তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।
* ইন ডাইরেক্ট কোন মেসেজ বা হিন্টস — হঠাৎ করেই কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের বাসায় যেতে না চাওয়া, (যেমন : “ওকে/ওদেরকে আমার আর ভালো লাগে না।”)
* Seductive or Provocative behaviour — কিছুক্ষেত্রে এডাল্টদের মত আচরণ (sexual behaviou) করা বা ভাষার (sexual language) ব্যবহার করা, যা এই বাচ্চা বয়সের অনুপযোগী।
* Physical Symptoms — জেনিটাল বা এনাল অংশে চুলকানো যদি সাধারণ মাত্রার বাইরে হয়। এবং বেশকিছু দিন স্থায়ী হয়। এগুলো সবই অভিভাবক দের জন্য এক ধরনের ইংগিত, যে বাচ্চার সাথে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে এবং তার পেরেন্টাল সাপোর্ট দরকার।
* Self-destructive behaviour — কিছুক্ষেত্রে এবিউজের শিকার বাচ্চাদের মধ্যে আত্মঘাতী মূলক আচরণ দেখা যায়। যেমন : আত্মহত্যার চেষ্টা, নিজেকে আঘাত করা বা নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা, পালিয়ে যাওয়া /লুকিয়ে থাকা, ড্রাগ /এলকহোল গ্রহণ করা ছাড়াও sexual recklessness or promiscuity ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
* Unhappiness — একটা প্রধান এবং সাধারণ সমস্যা হলো খুব মন খারাপ থাকা। আগের চাইতে চুপচাপ হয়ে যাওয়া। কথায় কথায় কান্না করা। উদাস বা একা একা থাকা। অল্পতে উৎকন্ঠিত হয়ে ওঠা ও ভয় পাওয়া। এছাড়াও ঘুমের অসুবিধা ও খেতে না চাওয়া।
* Regression — একদম ছোট বাচ্চাদের মত আচরণ করা, আঙুল চোষা, বিছানা ভিছানো এর মধ্যে পরে।
* Difficulty at school — লেখাপড়ায় মন না থাকা বা মনযোগ কমে যাওয়া, রেজাল্ট খারাপ করা, স্কুলে যেতে না চাওয়া, খারাপ ব্যবহার করা।

#How does sexual abuse affect children? সেক্সুয়াল এবিউজের ক্ষতিকারক দিকসমূহ:
যে বাচ্চারা এ ধরনের এবিউজের শিকার হয়ে থাকে, তারা ধরতে গেলে আজীবন এই কষ্ট বয়ে চলতে থাকে। যেকোন ধরনের এবিউজই বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষতিই করে থাকে। শারীরিক ক্ষতিগুলো সাময়িক হলেও মানসিক ক্ষতিগুলো দীর্ঘস্থায়ী বা আজীবন থেকে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশুর মানসিক অবক্ষয়ের ক্ষতি পরিবারকেও বহন করতে হয়। আমি অতীব গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সমস্যাজনিত কয়েকটি আচরণের কথা নিচে তুলে ধরলামঃ

#Confusion: সব বয়সী মানুষের কাছেই এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে তা আরো কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে, যখন তারা নিজেদের ফিলিংস আর আচরণের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না। শিশুটির সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তার মনে। কি হলো /হয়েছে তার সাথে আর কি হবে তার সাথে যদি পরিবার বা বন্ধুরা জেনে যায়। এমনকি পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়েও শিশুটির মনে এক ধরনের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

#Guilt: তাদের মধ্যে প্রচণ্ড পরিমাণে পাপবোধ কাজ করে। পুরো ঘটনার জন্য অর্থাৎ এবিউজড হওয়ার জন্য সে নিজেকেই দায়ী করতে থাকে।

#Shame: পাপবোধ বা গিলটি ফিলিংস থেকে এক প্রকার ঘৃণার জন্ম হয়, তখন বাচ্চাটি নিজেকে মূল্যহীন মনে করে।

#Fear : সবসময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। অযথা ভয়বোধ কাজ করে। অনেক সময় এবিউজারের কথিত বাক্য বা হুমকি এর পিছনে দায়ী। যেমন : কেউ যদি জানে, তবে তোমার সাথে খারাপ কিছু হবে।

#Grief: শোকাচ্ছন্ন বা দুঃখী হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। পৃথিবীকে অনিরাপদ আর বন্ধুহীন চোখে দেখতে থাকা। প্রায়শই তাদের মধ্যে স্বাধীনতা বা স্বাভাবিকতা হারানোর দুঃখ প্রকাশ করা লক্ষ্য করা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে, চেনাজানা বা পূর্বে ভালো সম্পর্ক ছিল এমন এবিউজারের সাথে সম্পর্ক আগের মত না থাকার জন্য দুঃখী হতেও দেখা যায়।

#Anger: বাচ্চাদের মধ্যে হঠাৎ করেই অনিয়ন্ত্রিত রাগ দেখা যায়। প্রচণ্ড শক্তি প্র‍য়োগেও পিছপা হয় না। যার ফলে প্রায়শই মারামারি বা কাউকে আঘাত করার ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ, বাচ্চাটা যখন এবিউজারকে কিছু বলতে পারে না তখন সেই রাগটা সে অন্যের উপর ছাড়ে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সাথে( সেইক্ষেত্রে মা বা বাবা যে না জেনে বুঝে এবিউজারের কাছে দেয় বা পাঠায়/ নয়ত মনে করে সন্তানকে প্রটেক্ট করতে পারে না)। এছারাও নিজেদেরকেও আঘাত করে বা কষ্ট দিয়ে থাকে।

#Helplessness: এবিউজড হওয়ার সময় থেকে পরবর্তী প্রতিটি মুহুর্তে বাচ্চাটা নিজেকে প্রচণ্ড রকমের অসহায় ভাবতে থাকে। যার ফলে, ভবিষ্যৎ এর প্রতি মুহুর্তেই সে সেক্সুয়ালি এবিউজড হওয়ার আতংকে ভুগতে থাকে।

#Depression: খুব অল্প সময়ের ভিতরেই এবিউজড বাচ্চারা বিষণ্ণতায় ভুগতে থাকে। সকল বিষয় থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, যেমন : স্কুল, বন্ধু, অন্যান্য কাজ, খেলাধুলা, বেড়ানো ইত্যাদি।

উপরে উল্লেখিত লক্ষণ সমূহ, এবিউজের ধরণ, বাচ্চার স্বভাব, বয়স, তাদের ফিলিংস ইত্যাদি ভেদে ভিন্নতর হতে পারে। যেমন: ঘুমের সমস্যা, শারীরিক অভিযোগ, ক্ষুধামন্দা, বিরক্তি, ভয়-ভীতি, স্কুলে ও পড়ালেখায় অমনযোগী, sexual aggression and/or Seductive behaviour. এমনকি, অনেক সময় কোনপ্রকার লক্ষণ নাও থাকতে পারে বা ২/১ টাও থাকতে পারে। তবে তার মানে কিন্তু এই না যে, বাচ্চাটির কোন সাহায্য বা ভরসার দরকার নেই। বরং এটার মানে হলো, এইক্ষেত্রে এবিউজের বাহ্যিক লক্ষণ সমূহ অনুপস্থিত রয়েছে।

#সোমাদত্ত
মনোবিজ্ঞানী।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

লেখাটি ১২,৬৩০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.