ধর্ষণের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি

0

উইমেন চ্যাপ্টার:

দেশজুড়ে ধর্ষণের মহামারী বন্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুততার সাথে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন নারী আন্দোলন কর্মীরা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তারা। বক্তারা বলেন, নারীসহ প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজকে নারী যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তার জন্য রাষ্ট্রই দায়ী। আর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এর দায় এড়াতে পারেন না। তিনি চাইলে ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া কঠিন কিছু না।

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা একথা বলেন। রূপা প্রামাণিকসহ হত্যা-ধর্ষণের শিকার সব নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

আন্দোলন কর্মীরা বলেন, ‘আর কতো মেয়ে ধর্ষিত হলে, আর কতো মেয়ে হত্যার শিকার হলে সরকারের টনক নড়বে? নারীরাও যে মানুষ, সাধারণ নাগরিক, এটা রাষ্ট্রের মাথায় কখন ঢুকবে? রাষ্ট্রের কাছে আজকে কেন নিরাপত্তা চাইতে হচ্ছে, বিচারই বা চাইতে হচ্ছে কেন? এটা তো নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রাপ্য।’

‘আমাদের আইন পুরুষতান্ত্রিক আর ধর্ষকবান্ধব বলেই ধর্ষকরা জামিন পেয়ে যায়। ধর্ষণের মনস্তত্ত্ব কিভাবে গড়ে ওঠে, তা নিয়ে কথা বলা জরুরি।’ প্রতিটি মানুষকে নিজের ইস্যু ভেবে এই আন্দোলনে যোগ দিতে হবে, তবেই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।

‘নারীরা আজ অস্তিত্বহীন হওয়ার পথে। একটি স্বাধীন দেশে নারীকে কেন অধিকারের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে? রাষ্ট্রকে প্রতিটি ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনও ধর্ষক যেন নিস্তার না পায়। ধর্ষণকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।’

সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বাঙালীর ইতিহাসের সব কয়টা আন্দোলনের সূতিকাগার। এমন ঐতিহ্যপূর্ণ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ প্রতিবাদ সমাবেশ করা হলে ১০টা শিক্ষার্থীও যোগ দেয় না।

‘ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সরব নয়, নারী সংগঠনগুলোও তেমন সরব নয়। ক্ষমতাসীনদের লোকজনরাই ধর্ষণগুলো করছে। বিচারব্যবস্থা রাষ্ট্রচালকদের সাফাই গাইছে।’ যে বাসে রূপা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, তার রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানানো হয়।

‘সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ১০ শতাংশ ধর্ষণ মামলারও বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এ সংস্কৃতির কারণে ধর্ষকরা আস্কারা পাচ্ছে।’ ধর্ষণের বিচার না করে উল্টো নারীদের চলাফেরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে রাষ্ট্র ভুল করছে বলে মত দেন বক্তারা। নারী অধিকারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার বলেও তারা অভিমত দেন।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফৌজিয়া খন্দকার, উন্নয়নকর্মী ফারহানা হাফিজ, উন্নয়নকর্মী তাহমিনা ইয়াসমিন, অ্যাক্টিভিস্ট নাহিদ সুলতানা, সাদিয়া নাসরিন, ফেরদৌসী রুমি, লীনা পারভীন, লীনা ফেরদৌস, সাংবাদিক ইসরাত জাহান ঊর্মি, উন্নয়ন কর্মী শশাঙ্ক সাদী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, শ্রাবণ প্রকাশনীর কর্ণধার রবিন আহসান প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাকটিভিস্ট আকরামুল হক।

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সঙ্গীতা ঘোষ, এবং এর আহ্বায়ক ছিলেন উইমেন চ্যাপ্টারের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর। সবশেষে সুপ্রীতি ধর বলেন, রূপা ধর্ষণ এবং হত্যা মামলাটি যাতে কোনভাবেই দীর্ঘসূত্রিতার প্যাঁচে না পড়ে অন্য মামলাগুলোর মতোন, সেদিকে সবার কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। টাঙ্গাইলের কোনো আইনজীবী যাতে আসামীদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ায়, সেজন্য প্রয়োজনে টাঙ্গাইলে গিয়ে সমাবেশ করতে হবে। অন্তত একটি ধর্ষণের বিচার আমরা নিশ্চিত করতে চাই বলেও জোরারোপ করেন তিনি।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

লেখাটি ২৯৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.