ধর্ষকদের উল্লাস বন্ধে প্রতিবাদটা জরুরি

0

সাবিরা শাওন:

ভুল আর অনেক ভুলের মাঝখানে যদি আপনাকে কোনোটা বেছে নিতে বলা হয়, আপনি কোনটা বেছে নিবেন? অনেক সময়ই আমরা বলি, ভুল/অনেক ভুলের মাঝে ভুলটাকেই বেছে নিবো। কিন্তু না বাস্তবে আমরা অনেক ভুলটাকেই বেছে নেই।
হুম, চারপাশে যা হচ্ছে তার অনেক কিছুই হয়তো ভুল হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ভুল হচ্ছে আমরা সবাই যার যার জায়গাতে নিরব আছি। এটা অনেক বড় ভুল। সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে একবারও প্রতিবাদ করছি না।

প্রতিদিন খবরের কাগজে যে নতুন নতুন ধর্ষণের খবরগুলো আমাদের মানবিকতাকে বার বার গলাটিপে মারছে, আমরা তার তিলমাত্র প্রতিবাদ না করে কী সুন্দরভাবে নিজেদেরকে মানবিক বোধহীন একটা মানুষে পরিণত করছি। এর জন্য কারো কোনো কষ্ট নেই, কারো কোনো দায় নেই, এটাই আমাদের অনেক বড় ভুল।

দায় কীভাবে থাকবে? তারা আমাদের কে হয়? রূপারা তো আমাদের কেউ না। এই ভাবনার বিভেদটুকুই অপরাধীদের সুযোগ করে দেয় আরো অপরাধ করার। এখনো আমরা এক হয়ে প্রতিবাদ করছি না, এটাই আজকের দিনে আমাদের বড় ভুল।

নির্ভয়ার কাহিনীটা এখনো ভুলিনি। আজো শিঊরে উঠি। তবু একটা প্রশান্তি থাকে তার ধর্ষকদের বিচার হয়েছে।
কিন্তু কে জানতো আরেক নির্ভয়ার গল্প আজ আমাদের এভাবে তাড়া করবে? নিজের স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছাটাই যদি রূপার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আরো অনেক রূপা শুধু নিরাপত্তার ভয়ে নিজের স্বপ্নগুলোকে চার দেয়ালের মাঝে নিশ্চিহ্ন করতে বাধ্য হবে। খুব কষ্ট হচ্ছে এটা ভেবে যে আমরা আজ কোথাও নিরাপদ না। দিনের প্রতিটি পদক্ষেপে ভাবতে হয় দিনশেষে ঘরে ফিরতে পারবো তো? তবু আমরা রূপাদের জন্য কিছুই করতে পারি না। আমাদের নিরবতার ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় নরপশুরা।

আর কত এভাবে চলবে? এই ধর্ষণ আর ধর্ষকদের জয়-জয়কার কবে বন্ধ হবে?
প্রতিটি রুপা ধর্ষিত হয়ে যে শাস্তি সারাজীবন ভোগ করে, সেই তুলনায় একজন ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও নেহায়েত কম হয়ে যায়। আমার মতে প্রতিটি ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিৎ মৃত্যুদণ্ড নয়, মৃত্যুভোগ। কারণ যে রূপা থেকে যাবে, আমাদের সমাজ তাকে আরো অনেক বার ধর্ষণ করে। বেঁচে থেকেও মরে যায় প্রতিটি দিন। ধর্ষিত হওয়ার দোষটা যে শুধু রূপা, তনুদেরই। কারণ তারা যে মেয়ে।

এতো বড় একটা ঘটনার পরও যদি আমরা চুপ করে থাকি, তবে তা খুব অন্যায় হবে নিজের সাথে। এমনিতেই প্রতিদিন কর্মজীবী নারীদের যে পরিমাণ হয়রানির শিকার হতে হয় রাস্তা-ঘাটে, এই ঘটনার পর তা আরো এক ধাপ বাড়বে বৈ কমবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো একজন মেয়ে, সব চেয়ে বড় কথা আপনি একজন মা। আপনি তো আমাদের আশ্রয়। প্লিজ একবার অন্তত: আপনি নিজের মানবিকতাকে প্রকাশ করুন। এই ধর্ষকদের শাস্তির আবেদন গ্রহণ করুন। এই স্বাধীন ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপদ ভাবার, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দিন।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২৭৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.