বৃষ্টিস্নাত নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূনকে স্মরণ

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (১৯ জুলাই): বৃষ্টিকে খুব বেশি ভালবাসতেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। এক বছর আগে তাঁকে তাঁর প্রিয় স্থান নুহাশ পল্লীতে দাফনের সময়ও সঙ্গী হয়েছিল বৃষ্টি। আজও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। আজ লেখকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতেও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। তবে তা বাধা দিতে পারেনি ভক্তকুলকে। তারা এসেছেন, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন. দোয়া করেছেন প্রিয় লেখকের জন্য। অনেকটা অনাড়ম্বরভাবেই আজ তাঁকে স্মরণ করেছেন তাঁর পরিবার ও নুহাশ পল্লীর কর্মীরাও।
সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত ভক্ত ছুটে আসেন প্রিয় হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে। কবর জিয়ারতের আগে তারা কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

গতবছর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একালের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। দেশে ফেরার পর ২৪ জুলাই তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে চিরদিনের জন্য শুইয়ে দেয়া হয় সেই নুহাশ পল্লীর লিচু গাছের নিচে। লেখকের করবস্থানটিতে এখন একটি কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চলছে। দশনার্থীদের জন্য আলাদা দরজা তৈরি করা হয়েছে, যাতে মূল পল্লীতে না প্রবেশ করেই লেখকের কবরের সান্নিধ্য পান তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা। এরই মধ্যে সাদা মারবেল পাথরে বাঁধাই করা হয়েছে কবরের মূল বেদি। চারপাশে স্বচ্ছ কাচঘেরা ফলকে লেখকের বাণী ও রচনা উত্কীর্ণ করার কাজও এগিয়ে চলছে।
হুমায়ূন আহমেদের কবরে কমপ্লেক্স সৃষ্টির পরিকল্পনায় তাঁরই লেখা কাব্য-কল্পনা স্থান পেয়েছে বলে জানালেন লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।
নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বাদ জুমা আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা কোরআন খতমে অংশ নেয়। বিকালে তারা কবর জিয়ারত শেষে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। ইফতার মাহফিলে পাঁচ থেকে ছয় শ লোকের আয়োজন করা হয়। লেখকের পছন্দ অনুযায়ী মেন্যুই ছিল ইফতারির তালিকায়। তিনিও ভালবাসতেন সবাইকে নিয়ে একসাথে ইফতার খেতে। সেভাবেই সাদামাটাভাবেই আয়োজন করা হয়েছিল আজও।
দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেল হুমায়ূন নেই, কিন্তু তিনি আছেন পাঠকের হৃদয়ে-ভালবাসায়। তাইতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকও আজ ভরে গেছে হুমায়ূন বন্দনায়। তাঁর প্রিয় গান, প্রিয় উক্তি, বা প্রিয় কোন লেখা থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন অনেকেই।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.