শূন্য থেকে সফলতার গল্প

0

তৃষ্ণা হোমরায়:

গল্পটা ১৬ বছর আগের। এইচএসসি পাশ করে গ্রাফিক্স ডিজাইনে জার্মানিতে পড়তে যান মাশরাকা বিনতে মোশারফ। এক বছরের কোর্স শেষে দেশে ফিরে ভর্তি হন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডিপার্টমেন্টে। পাশাপাশি চাকরি নেন একটি ফিন্যান্সিয়াল কন্সালটেন্সি ফার্মে।

পড়াশোনার ফাঁকেই কাজ করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজে কিছু করার টান অনুভব করছিলেন। তাই জমানো সামান্য কিছু টাকার পুঁজি সম্বল করেই নেমে পড়েন ব্যবসায়। বাসার বারান্দায়ই মাত্র দুটি মেশিন আর দুজন কর্মী নিয়ে দেশীয় ঐতিহ্যের জামদানি দিয়ে স্কার্ট, কুর্তি, স্কার্ফসহ নানা পণ্য তৈরি করা শুরু করেন। প্রবাসী এক বন্ধুর সাহায্যে পাঠিয়ে দেন জার্মানিতে। সাড়াও মেলে। অল্প অল্প করে অর্ডারও মিলতে থাকে। কিন্তু টান পড়ে মূলধনে। পুঁজি যোগাড় করতে ব্যবসার পাশাপাশি চাকরিও চালিয়ে যেতে থাকেন। জামদানির পাশাপাশি রেশমি, মটকা আর মসলিন দিয়েও তৈরি করতে থাকেন পণ্য।

বন্ধুদের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকেন। বাড়তে থাকে পরিচিতি। এরই মধ্যে শুরু করলেন পাট দিয়ে ব্যাগ, জুতা, পর্দাসহ রকমারি পণ্য তৈরির কাজ। বড় হতে শুরু করলো ব্যবসা।

পরিস্থিতি বলে দিল একটি ঠিকানা দরকার। ২০০৪ সালে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্রিয়েটিভ জুট নামে ইন্দিরা রোডে শুরু হলো নতুন পথচলা। যোগ হলো আরো ১৭ জন কর্মী। পণ্যেও আসলো ভিন্নতা। তবে এবারও মূলধনের সংকট দেখা দিল। চেষ্টা করলেন ব্যাংক লোনের। কিন্তু মর্টগেজ, লোনের জামিনদারসহ লোন পেতে ব্যাংকের নানা শর্তের কারণে পিছিয়ে আসলেন। শেষে লোন নিলেন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে। এবার তার পণ্য রপ্তানি হতে থাকলো যুক্তরাজ্য, জাপান, পর্তুগালসহ বিশ্বের নানা দেশে। এখন খরচ বাদে বছর শেষে নিট মুনাফাই থাকে প্রায় ৩৬ লাখের মতো।

সফলতার দেখা পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এজন্য মাশরাকাকে পার হতে হয়েছে নানা বাধা। আর এর শুরুটা হয়েছিল বাসা থেকেই। ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে একটি মেয়ে চাকরি না করে ব্যবসা করছে, এটি কোনভাবেই তাঁর বাবা-মা মেনে নিতে পারছিলেন না। তবে তার একাগ্রতা ও অদম্য মনোবল দেখে পরে সাথে থেকেছে পুরো পরিবার। করেছে নানভাবে সহযোগিতা।

দেখতে না দেখতে ব্যবসা পেল নতুন মাত্রা। এর মধ্যে বাংলাদেশ জুট রিসার্চ ইন্সটিটিউট, এসএমই ফাউন্ডেশান ও জুট ডাইভাসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার থেকে ট্রেনিংও নিয়েছেন। নানাভাবে দক্ষ করে তুলেছেন নিজেকে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পাট পণ্য প্রস্তুতকারকের পুরস্কার।

ভেতরের আগ্রহবোধ আর দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পদকে কাজে লাগানোর অদম্য ইচ্ছা থেকেই পাটশিল্পের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন মাশরাকা। সোনালী আঁশকে কাজে লাগিয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে তোলাতেই তাঁর আনন্দ। স্বপ্ন দেখেন একদিন বিশ্ব দরবারে আবারো স্থান করে নেবে পাট। ফিরে পাবে হারানো গৌরব।

মাশরাকার ফেসবুক পেইজের লিংক:

https://www.facebook.com/creativeuteoriginal/

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 4.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4.6K
    Shares

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.