আপিলের দাবি জানাবে গণজাগরণ মঞ্চ

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরোধের মামলার রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ফাঁসি না হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আপিলের দাবি জানাবে গণজাগরণ মঞ্চ। পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ছয়দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শনিবার সকাল ১১টায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি এবং আগামী ২৬ ও ২৭ জুলাই শাহবাগে ‘ইতিহাসের পোট্রেট’ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আলোকচিত্র প্রদর্শনী। সমাবশে থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়।
ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, “রাজাকারদের শিরোমণিখ্যাত কুখ্যাত গোলাম আযমকে বয়সের যে অজুহাত দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো না, তা অপ্রত্যাশিত ছিলো। জাতি এ রায় গ্রহণ করতে পারেনি।” রাষ্ট্রপক্ষকে গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করলে সুযোগ থাকলে সংক্ষুব্ধ হিসেবে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে আমরাই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।” তিনি নির্বাচন কমিশন থেকে জামাতের নিবন্ধন বাতিল করারও দাবি জানান।
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ব্লগার মারুফ রসুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী, নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী খুশি কবীর, রোকেয়া কবীর, বীণা শিকদার, শিপ্রা বোস, ব্লগার একরামুল হক শামীম, মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুব জামান, নারী মুক্তিযোদ্ধা আমেনা সুলতানা বকুল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজ বলেন, “আদর্শের যুদ্ধে যখন আমরা নেমেছি তখন নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, নৌকাবাইচ খেলায় একজন নৌকা উল্টো দিকে বাইলে আর জেতা যায় না। নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে আমাদেরকে আদর্শের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। আমরা দেখলাম গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো এবং ঠিক একদিন পর মুজাহিদের ফাঁসির রায় হলো। এ ধরনের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার রাজনীতি আমরা দেখতে চাই না।”
মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম বলেন, “এখনও ৪ মাস সময় আছে। সময় থাকতে অন্তত ৬ জন যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিন। জনগণের ভোট পাবেন।” নিজেরা করি’র নির্বাহী পরিচালক খুশী কবীর বলেন, “রাজাকার হিসেবে গোলাম আযমের নাম ছোট্ট শিশুরাও জানে। বেশি বয়সের অজুহাতে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা সবাইকে ভীষণভাবে হতাশ করেছে।”

একই ট্রাইব্যুনাল ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে সেদিনই শাহবাগে সূচনা হয় গণজাগরণের; যা পরবর্তীতে পরিচিতি পায় গণজাগরণ মঞ্চ হিসেবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। গত ৯ মে আরেক জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইবুনাল-২। মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান শীর্ষনেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধকালীন আমির গোলাম আযমের ৯০ বছর কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল-২।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.