‘নিষিদ্ধের বেড়াজালে বন্দি নারী’

0

মামুন অর রশিদ:

নারী যেন এক অন্য বস্তু। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে নানা রকম নিষিদ্ধের বেনোজালে আটকে রাখা হয়েছে। মধ্যযুগে আরবে মেয়ে তথা কন্যা সন্তান হওয়া মানে পাপ মনে করা হতো। কন্যা শিশুকে জীবন্ত কবর দেয় হতো। একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে এসেও পরিস্থিতি কি কিছুটা পাল্টেছে?

না। একদম তা পাল্টায়নি।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষত বাংলাদেশ এবং ভারতে এখনো হরহামেশা এই ঘটনা ঘটেই চলেছে। ভারতে সরকার রীতিমতো ভ্রুণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি এই পদক্ষেপ ঠেকাতে কোনো কোনো রাজ্য সরকার কন্যা সন্তান হলে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে।

“লিঙ্গ সমতা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত” বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, গত দুই দশক ধরে ভারতে প্রায় আড়াই লাখ কন্যাভ্রুণ হত্যা করা হয়েছে। সেই তুলনায় আমরা কিছুটা হলেও ভালো অবসথানে আছি। আবার তাই বা বলি কী করে!

আমাদের দেশে মূলত নারী-পুরুষ বিভাজন সেই ছোট্টবেলাতেই শিখিয়ে দেয়া হয়। তুমি মেয়ে, তোমাকে আস্তে কথা বলা শিখতে হবে। বেশি জোরে হাসাহাসি করা যাবে না। দৌড়ানো যাবে না। সমবয়সী ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা করা যাবে না। কারণ তুমি যে মেয়ে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদের  (১) বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷ ’ এবং ৩ নং এ বলা আছে, ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ এছাড়া ২৭  নং অনুচ্ছেদে আছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’

অনুচ্ছেদ ২৮ নং এ আরও বলা হয়েছে,

(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।

(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।

(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।

(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদে আছে,

(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

(২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

কিন্তু আসলে কী মানা হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রে, আমাদেরই সমাজে? শুধু নারী বলে এখনো অনেক জায়গায় তার প্রবেশ নিষিদ্ধ আছে। এছাড়া আমাদের সমাজে নানা রকম ট্যাবুও (নিষিদ্ধ বিষয়) প্রচলিত রয়েছে। সেরকমই কিছু ট্যাবু তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো নিচে:

ট্যাবু-১

পরিবারে ছোটবেলাতে খাওয়ার সময় মাছের মাথা তুলে দেয়া হয় ছেলের প্লেটে। কারণ বাপের বাড়িতে মেয়েদের মাছের মাথা খেতে নেই। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তো মাথা খেতে পারবেই। এবার মেয়েটির বিয়ে হলো। এখন মেয়েকে মাছের মাথা তুলে দিতে হয় শ্বশুরের প্লেটে, কিংবা স্বামীর প্লেটে। বাচ্চা হলে এবার শুরু তাদের লালন পালনের পালা। মেয়ের আর মাছের মাথা খাওয়া হয় না।

ট্যাবু-২

এটি যেন বিধাতার অমোঘ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ির সবার খাওয়া-দাওয়া শেষ করার পর নারীদের খেতে হয়। নারী-পুরুষ একসাথে খেতে নেই। স্বামী যত দেরি করেই ফিরুক না কেন স্ত্রীকে না খেয়ে অপেক্ষা করতে হবে। স্বামীর পাশে বসে তাকে বাতাস করতে হবে। ভালো ভালো সব খাবার বাড়ির কর্তাদের প্লেটে ঠাঁই মেলে। আর শেষবেলাতে হাঁড়ির তলাতে যা থাকে সেটাই জোটে মেয়েদের প্লেটে। এঁটো-কুটে খেয়েই তাদের দিন পার করে দিতে হয়।

ট্যাবু-৩

মেয়ে হলে তাদের খেলার উপকরণ হবে পুতুল, হাড়ি-কুড়ি, থালা-বাটি ইত্যাদি। আর ছেলে হলে তাদের খেলার উপকরণ হবে ব্যাট, বল, লাটিম, খেলনা পিস্তল, ঘুড়ি, গাড়ি ইত্যাদি। ছেলেদের কিনে দেওয়া হয় বাইসাইকেল। তারা সারা দিন সেটা চালিয়ে বেড়াতে পারে। কিন্তু মেয়েকে সাইকেল কিনে দেওয়া তো দূরের কথা, তাদের সাইকেল চালানো শিখতেই দেওয়া হয় না। কোনো মেয়ে যদি সেটা করে তাহলে সে অবাধ্য মেয়ে, সমাজ তাকে আড়চোখে দেখে।

ট্যাবু-৪

বিয়ের পাত্র-পাত্রী দেখার বেলায় মেয়ের গায়ের ফর্সা হতেই হবে। খাটো বা বেঁটে হওয়া চলবে না। মেয়ের কোনো খুঁত থাকা চলে না। ছেলের হাজারো খুঁত থাকতে পারে, তাতে কোনো সমস্যা নাই। শুধু মেয়েদের বেলায় যত নিয়মকানুন। ছেলে কালো হলে বাবার কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু যদি একটি মেয়ের গায়ের রং কালো হয়, তাহলে চিন্তার কোনো অন্ত নেই। ছেলের বাড়ি থেকে একগাদা পণ (যৌতুক) দাবি করা হয়। যেন কালো হওয়াটাই আজন্ম পাপ। এছাড়া যদি একবার কোনো রকম অপবাদ গায়ে লেগে যায়, তাহলে মেয়েকে সম্প্রদান করতে গিয়ে পরিবার নিঃস্ব হয়ে যান।

এরপর কারও স্বামী মারা গেলে, তাকে সমাজ তাকে অন্য চোখে দেখে। তাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে দিতে গেলে নানান রকম ঝামেলা পোহাতে হয়। মেয়ের ডিভোর্স হলে শুরু হয় নানা গঞ্জনা। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে পুরো উল্টো। বরং দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে তার পোয়াবারো হয়। এছাড়া হিন্দু সমাজে একসময়ে প্রচলিত সতীদাহ বা সহমরণ ব্যবস্থা যেখানে স্বামী মারা গলে সতীত্ব রক্ষার্থে স্ত্রীকেও সেই স্বামীর চিতার আগুনে পুড়ে সহমরণে যেতে হতো। কী অমানবিক! কতটা পাশবিক নিয়ম! সতী শুধু নারীদের বেলায় প্রযোজ্য। সতী শব্দের পুরুষবাচক কোনো শব্দই নেই । ছেলে বা পুরুষদের সতীত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না।

ট্যাবু-৫

গ্রাম্য বিচার-আচার শালিসে সব সময়ই মেয়েপক্ষকে বা নারীদের একটু বেশি দোষ বা অপবাদ দেয়া হয়। যেন ছেলে বা পুরুষ মানুষটি তেমন কিছু করেনি। অপবাদ বা নিন্দা যা নিতে হয় সব মেয়েকেই নিতে হয়। মেয়েটির অসম্মতি থাকা সত্ত্বেও তাকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষত পাকিস্তানে রয়েছে ‘অনার কিলিং’ প্রথা অর্থাৎ পবিারের সম্মান রক্ষার জন্য মেয়ে হত্যা করা। এটিকে তারা মর্যাদার সাথে গ্রহণ করে।

ট্যাবু-৬

বাবা -মায়ের নির্দেশ সন্ধ্যার আগেই মেয়েকে ঘরে ফিরতে হবে। সন্ধ্যার পর আর বাইরে বের হওয়া যাবে না। কিন্তু ছেলের বেলা কোনো নিয়ম কানুন নেই ছেলে মানুষ একটু-আধটু বাইরে তো যাবেই। সন্ধ্যার পর বের হলে সমস্যা নেই। রাত করে বাসায় ফিরলে জিজ্ঞাসার মুখোমুখি হতে হয় না। মেয়েদের বাজারঘাটে যেতে নেই। বাজারঘাট ছেলেদের কাজ। যদি কোনো মেয়ে বাজারে যায়, সমাজ তাকে বাজারী মেয়ে নামে একটি সিল লাগিয়ে দেয়। বেছে বেছে ভাল স্কুলটাতেই ছেলেকে পাঠানো হয়। আর বাড়ির কাছে নড়বড়ে স্কুলে পাঠানো হয় মেয়েকে। কারণ মেয়েকে অত ভাল স্কুলে পড়িয়ে লাভ কী! দু’দিন পর বিয়ে দিয়ে পরের বাড়িতেই তো পাঠিয়ে দিতে হবে।

ট্যাবু-৬

সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সব সময়ই পরিবারে পুরুষের প্রাধান্য থাকে।সিদ্ধান্তটি যেন বাড়ির পুরুষ কর্তার কাছ থেকে আসতেই হবে। ছেলেমেয়েদের কোন স্কুলে ভর্তি করা হবে, আজ বাড়িতে কী রান্না হবে, বাড়িতে কয়জন গৃহশিক্ষক থাকবে, বাড়ির ভবন কয় তলা হবে, ভবনের রং কী হবে, ছেলেমেয়ের বিয়ের সময় কোথায় কোন পাত্র-পাত্রীর সাথে বিয়ে দেয়া হবে, এরকম আরো নানা সিদ্ধান্তগুলো আসে বাড়ির কর্তা তথা পুরুষের কাছ থেকে। এসব ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা একেবারে যেন স্ট্যাচু তথা মূর্তির মতো, তাকে যেখানে, যেভাবে খুশি রাখা যায়। সে কোনো প্রতিবাদ করে না। অথচ নারীকে বলা হয় অর্ধাঙ্গী। অর্থাৎ পুরুষের অর্ধেক। নারীদের নিয়ে কত কবি সাহিত্যিক রচনা করেছেন অমর সব কবিতা, গল্প, উপন্যাস, গান সহ কত কিছু।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘নারী’ কবিতায় লিখেছেন-

“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”

ট্যাবু-৭

মেয়ে তথা নারীদের কোনো বাড়িই নেই। মেয়ে যখন পিতার বাড়িতে থাকে তখন তাকে বলা হয় এটা তো তোমার বাপের বাড়ি, তোমার নিজের বাড়ি হলো তোমার স্বামীর বাড়ি, অর্থ্যাৎ বিয়ের পর তোমার আসল বাড়ির ঠিকানা খুঁজে পাবে। কিন্তু ফলটা ঘটে উল্টা। মেয়ে যখন শ্বশুর বাড়ি যায় তখন বলা হয়, এটা তোমার ঘর নয়, এটা তোমার স্বামীর ঘর। আসলে তোমার তো নিজেরই কোন ঘর নেই। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনরকম ভুল বুঝাবুঝি হলে কথায় কথায় স্বামী তাকে তার বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য বলে। হায়রে কপাল এই হলো নারীর অবস্থা।

ট্যাবু-৮

পুরুষই সব পুরুষই সর্বজনীন। বিয়ের প্রথম রাত থেকেই স্ত্রী/মেয়েদেরকে আমাদের মুরুব্বীজনেররা জানিয়ে দেন আজ থেকে তুমি চলবে তোমার স্বামীর নির্দেশ মতো। কীভাবে চলবে, কীভাবে সবার সাথে মিশবে, এমনকি কীভাবে কথা বলবে, সেটাও স্বামীর নির্দেশ অনুযায়ী মানতে হবে। এর হেরফের হলে মেয়ের নানারকম গঞ্জনা শুনতে হয়। বাপের বাড়িতে মেয়ে কোন আদব কায়দা শেখেনি। বাচ্চা-গাচ্চা কয়টা নিবে সেটাও স্বামীর কথা মতো হবে। স্ত্রীরও যে চাওয়া-পাওয়া আছে বা থাকতে পারে সেটা মাথায় নেই-ই।

ট্যাবু-৯

সমাজে ভীষণ রকম ভাবে যে বিষয়টা প্রচলিত আছে, তা হলো, যদি কোন নারী ছেলেমেয়ে জন্ম দিতে না পারেন, তাহলে সব দোষই নারীর। হয় তার কোন সমস্যা আছে, সে হয় অল²ী, অপায়া, বন্ধ্যা সমাজে তাকে বাঁকা চোখে দেখা হয়। স্বামী তাকে চিকিৎসার কথা বলে, ডাক্তার-কবিরাজের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু স্বামীরও তো সমস্যা থাকতে পারে, তার সমস্যার জন্যই হয়তো বা তাদের ছেলেমেয়ে হচ্ছে না। সমাজে সে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাড়া-পড়শিদের কাছে শুনতে হয় না তোমন কোন গঞ্জনা। ইচ্ছে করলে সে তার স্ত্রী তালাক দিতে পারে, আবার সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিয়েও করেন অনেকে। এটার বা¯Íব প্রমাণ সম্প্রতি ভারতে এক নারী ক্রীড়াবিদ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়াতে তালাক দিয়েছেন তার স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। ঐ নারীর নাম শুমায়লা জাভেদ, যিনি কিনা ভারতে নেট বলে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন (উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ এপ্রিল,২০১৭)।  যত দোষ সব নারীরই।

ট্যাবু-১০

পথে-ঘাটে,বাজার-কমপ্লেক্স কিংবা শপিংমলে কোন নারী ইভ টিজিংয়ের শিকার বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হলে দোষ চলে যায় নারীটির ঘাড়ে যে তার এমন বেমানান পোশাকের জন্য এসব ঘটেছে। প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলে দেখা যায় সব দোষই ছিল প্রেমিকার, তার জন্যই বিচ্ছেদের রাগিনী বেজে ওঠেছে। প্রেমিকটি নিষ্পাপ, নিরাপরাধ।

সুপারিশমালা:

বৈষম্য রাষ্ট্র-সমাজেরই সৃষ্টি। সমাজ-রাষ্ট্রই পারে এমন অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে। তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরই দায়-দায়িত্বটা বেশিই নিতে হবে। ভাঙতে হবে যতসব জীর্ণ কুসংস্কার।

* প্রথমত: নারী সমাজকেই সচেতন হতে হবে।তাদের অধিকার তাদেরই বুঝে নিতে হবে।

*দ্বিতীয়ত: নারী-পুরুষ সকলরেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষার আলো সর্বত্র জ্বালিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার মশালই পারে সমাজের জীর্ণ কুসংস্কার ভাঙতে।

*তৃতীয়ত: এমন অসমতা দূরীকরণে পুরুষকেই এগিয়ে আসতে হবে।পুরুষতান্ত্রিকতার মন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

পরিশেষে বলা যায় যে, আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমন হাজারো সব নিষিদ্ধের বেড়াজালে বন্দি নারী। আর এই বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নারী সমাজকেই জেগে ওঠতে হবে। শিক্ষিত হতে হবে। পুরুষেরও মনোভাবের বিকাশ ঘটাতে হবে। নারীদের পাশাপাশি চলার জন্য সাহায্য করতে হবে।

বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, “দ্বি-যানের একটি শকট বড়, আরেকটি ছোট হলে সেটি ঠিকভাবে চলতে পারে না।” ঠিক তেমনিভাবে নারী পুরুষে অসমতা থাকলে সমাজের বিকাশ, উন্নয়ন ঘটতে পারে না। নারী-পুরুষে সমতা না থাকলে অসমতল দ্বিচক্র যানের মতো চলতে থাকবে। রাষ্ট্র-সমাজকে এই অসমতা দূরকরণে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।তবেই সম্ভব হবে নারীর জন্য এই বেড়া জাল ভাঙা।

লেখক: প্রভাষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 405
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    406
    Shares

লেখাটি ৭৮৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.