পুরুষের প্রিয় না হয়ে উঠতে পারা নারীর কিছু কথা

0
চৈতী সাহা:
“যে নারী পুরুষের প্রিয় হতে পারে না,সে হয়ে ওঠে নারীবাদী” – চমৎকার এই শিরোনামে একজন নারী কিছু একটা লিখেছে! সেটা বাংলার পুরুষসোহাগী নারীসমাজ দলে দলে লাইক শেয়ারে ভাসিয়ে দিচ্ছে।
নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিন, যিনি নিজের জীবনটাকে খোলা কলামের মত পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন বলে বিতর্কিত হয়েছেন,তিনি যদি গোপনে আত্মসম্মানের সাথে সমঝোতা করে পুরুষের লেজ ধরে থাকতেন তাহলে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সতী সাধ্বী স্ত্রী হিসেবে খ্যাতি পেতেন!! তিনি পুরুষসোহাগী হওয়াটাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিতে পারেননি,তাই তিনি বিতর্কিত।  
‘নারীবাদ’ এমন একটা আন্দোলনের নাম যেখানে শুধুমাত্র শারীরিক গঠনের পার্থক্য এবং শারীরিক শক্তির অভাবের দোহাই দিয়ে যাতে নারীর প্রতি বৈষম্য না হয়, যেন শুধুমাত্র নারী বলে পৃথিবীর কোন জায়গা, কোন কাজ, কোন আনন্দকে তার জন্য নিষিদ্ধ না করা হয় তার জন্য লড়াই করা হয়। যারা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন করে তারা এজন্য আন্দোলন করে না যে তারা সাদাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে পারছে না। শুধুমাত্র গায়ের রং এর জন্যই তাদেরকে একসময় দাস বানিয়ে রাখা হত। সবরকম নাগরিক সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হত। কোন সাদা মেয়ে/ছেলে কোন কালো ছেলে/মেয়েকে ভালবেসে ফেললেও শুধুমাত্র সমাজের কারণে তাদের বিয়ে হতে পারত না। একজন কালো ব্যক্তি সৌভাগ্যক্রমে সাদা পরিবারের সাথে খাতির জমিয়ে যদি দাবি করে যারা সাদাদের সাথে খাতির জমাতে পারে না, তারাই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন করে তাহলে তাকে আমরা কি বলব?? 
ব্যাপারটা আত্মসম্মানের, বোন!! এখন তোমাকে ঠিক তুমি কতটুকু সম্মান কর এই ‘আত্মসম্মানবোধ’ শব্দটা তার উপর নির্ভর করে। তোমার নিজেকে সম্মানের যোগ্য না মনে হলে তার দায় তো নারীবাদীদের না। 
একাত্তরের পাকিস্তানপ্রেমীদেরও মনে হয়েছিল যে, যারা সহি মুসলমান না তারাই মালাউনদের সাথে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে চাইছে। তোমাদেরও নারীবাদীদেরকে পুরুষের প্রেমবঞ্চিত মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। চিরজীবনই সব সমাজে, সব দেশে, সব জাতিতে, সব গোষ্ঠীতে তোমাদের মতন অনন্যসাধারণ সুখী মানুষেরা ছিল।

লেখাটি ২,৪২৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.