সেক্স, ধর্ষণ, মানসিক বৈকল্য ও যা জানা প্রয়োজন

0
কাশফী জামান শ্যামা:
কিছুদিন আগে অফিসের প্রয়োজনে উত্তরার দিকে যেতে হয়েছিল, শাহবাগে বাস কাউন্টার থেকে একদল উচ্ছল উজ্জ্বল ছেলের দল হাতে গিটার নিয়ে হই হই করে উঠে বসলো। হাসি, ঠাট্টা আর তাদের পরিচিত -চলিত ভাষার বিনিময়ের মাঝে একটা শব্দ খট করে কানে বেজে গেলো, রেপ!
এক বন্ধু অপর বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলছে- কী সুরের মাঝে কী সুর ঢুকাইলি মামা, পুরা গান’টাই রেপ হয়ে গেলো!
(মনে পড়ে গেলো ওপার বাংলার এক লেখক ঠিক এই কথাটার যথেচ্ছা ব্যবহার নিয়ে খুব কড়া একটা লেখা লিখেছিলেন।) হাওয়া এখানেও বেজে উঠেছে, রেপ কথাটাই আজ যেন বড্ড খেলো!)
রেপ আর এর ভয়াবহতা সম্বন্ধে অশ্লীলতার অংশটুকু বাদে অনেকেরই সম্ভবত ন্যুনতম ধারণাটুকুও নাই।
“unlawful sexual activity and usually sexual intercourse carried out forcibly or under threat of injury against the will usually of a female or with a person who is beneath a certain age or incapable of valid consent—compare sexual assault, statutory rape.”
অর্থাৎ,
ধর্ষণ একপ্রকার যৌন অত্যাচার। সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা অনুমতি ব্যতিরেকে যৌনাঙ্গের মিলন ঘটিয়ে বা না ঘটিয়ে যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয়। #উইকিপিডিয়া। 
এখানে নভেম্বর ২৫, ২০১৬ এ ‘ঢাকা ট্রিবিউনের একটা রিপোর্টে ২০১৬ সালের প্রথম ৭ মাসেই ৩২৫ জন শিশু ধর্ষণের কথা বলা হয়’। পুরো বছর জুড়ে ৫২১ জন বাচ্চা এই ঘৃণ্য অপরাধের শিকার হয়!  পরিসংখ্যানে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত শিশু ধর্ষণ কী পরিমাণে বেড়েছে; ৮৬-৫২১  জন। ধর্ষিতদের মধ্যে ৭-১২ বছর বয়সের আছে শতকের কোঠায়। এবং সব থেকে ভয়ঙ্কর খবর – মাত্র ৬ বছরের নিচেই আছে ৭০ জন। ৯৩ জনকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলা হয়েছে। ১৭৯ জনকে দলবল সহ ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৩২ জন আক্রান্ত হওয়ার পর আত্যহত্যা করেছে। অন্তত ৩১ জন প্রতিবন্ধী শিশু এবং ১৫ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে যার ১৫ জনকে সাথে সাথে হত্যা করা হয়েছে। এবং আরেকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য করার মতন বিষয় হল এটা ঘটেছে মাত্র ৬ মাস সময় সীমার মধ্যে।
 
কিন্তু এই পরিসংখ্যান যেটা বলছে না তা হলো আন-রিপোর্টেড ভিক্টিমের সংখ্যা কত? রেপ হওয়ার পরও সামাজিক মান-সম্মান, লজ্জা এবং পুনরায় নির্যাতিত হওয়ার ভয়ে প্রকৃত ভিক্টিমদের বেশ বড় অংশই এই পরিসংখ্যানের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
 
জুলাই ২০০৭ – জুন ২০১০ পর্যন্ত, “নিরাপদ স্থান নেই: বাংলাদেশের গ্রামে শিশু যৌন হয়রানি” শিরোনামে “ব্র্যাকের” করা এক রিপোর্টে বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে ৭১৩টি শিশু ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, এমন বলা হয়েছে। আরও উল্লেখ করা হয় যে এই ঘটনার বেশিরভাগই (৮৩%) পরিবারের সদস্য নয় এমন মানুষের দ্বারা ঘটেছে। তাহলে বাকি ১৭% কিন্তু পরিবারের সদস্যদের দিকেই ইঙ্গিত করে। 
 
এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট উদ্বেগজনক নয় কি? শিশু রেপ একটা ভয়ংকরতম অপরাধ, সুস্থ মস্তিষ্কজাত মানব সন্তানের চিন্তার বাইরে। কিন্তু শিশু রেপ কি আদৌ বন্ধ হয়েছে? 
 
রেপ বা অস্বাভাবিক যৌন চাহিদা নামক মানসিক বিকারগ্রস্ততার সাইকোলজির ভাষায়  একটা নাম আছে, “বিকৃত যৌন জীবন (Paraphilia)”। জীবন, যৌনতা, সমাজে মানুষের আচার-আচরণ, এগুলো যেহেতু পুরোপুরি শুধুমাত্র বায়োলজিক্যাল বিষয় না, এগুলোর সাথে সামাজিক এবং মানসিক ব্যাপারও যুক্ত থাকে, তাই সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাইকোলজির উপর ভিত্তি করেই বিকৃত যৌনাচার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
আমেরিকান মনোবিজ্ঞান সংস্থার (সাইকিয়াট্রিক সোসাইটির) মতানুসারে, বিকৃত যৌনাচার বা প্যারাফিলিয়া হল সমাজের প্রচলিত সংস্কৃতি বা নিয়মের সাথে মেলে না এমন যৌন আচরণ। যেমন- শিশু, বৃদ্ধ, পশু/প্রাণী, মৃত মানুষ, বস্তু, গাছ ইত্যাদির প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করা।
অনেক ধরনের প্যারাফেলিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –
 
 
#পেডোফেলিয়া (Pedophilia): এই অসম্ভব বিকৃত রুচিতে যারা আক্রান্ত তারা তাদের যৌন আকাঙ্খা পূরণের জন্য বাচ্চাদেরকে পছন্দ করে।
 
#ফেটিশিজম (Fetishism): এই ধরনের রুচিতে যারা অভ্যস্ত, তারা সাধারণত জড় বস্তুর প্রতি যৌন আকৃষ্ট হয়। যেমন- আন্ডারওয়ার, মেয়েদের পোশাক নিয়ে খেলা(!) করা ইত্যাদি। এটা বিকৃত আচরণ হলেও সমাজের জন্য তেমন ক্ষতিকর না।
 
#ফ্রটারিজম (Frotteurism): এটা লোকজন পূর্ণ এলাকায় বেশি হয়। এই ঘৃণ্য রুচিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত অপরিচিত মানুষের প্রতি যৌন আকৃষ্ট হয়ে মানুষের শরীরে অনুমতি ছাড়াই অশ্লীল ও ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে থাকা, গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়ানো, প্রভৃতি ঘটনার সাথে জড়িত থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রেই এটা বেশি দেখা যায়।
 
 
এছাড়াও অন্যন্য ধরনের প্যারাফিলিয়ার মধ্যে রয়েছে সেক্সুয়াল স্যাডিজম (অন্যকে শারীরিক কষ্ট দিয়ে আনন্দ লাভ), ভয়েরিজম (পিপিং টম-লুকিয়ে অন্যের যৌন সঙ্গম দেখা), নেক্রফিলিয়া (মৃত দেহের বা কঙ্কালের প্রতি যৌন আকর্ষণ), এলগোলাগনিয়া (নিজের শারীরিক কষ্টে মস্তিষ্কে যৌন সুখ পাওয়া, কিছু মানুষ আছে যারা নিজের কোন ব্যথা পাওয়া অঙ্গে চাপ দিয়ে আরও বেশি ব্যথা পেয়ে আনন্দ পেয়ে থাকে), সেলিব্রিফিলিয়া (সেলিব্রেটি নায়ক নায়িকার প্রতি যৌন কল্পনা) সহ ইত্যাদি।
 
 
উল্লেখ্য যে, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৫ এর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি সংবাদে বলা হয় “পার্থ দে নামক এক ভদ্রলোক তার বোন দেবযানীর কঙ্কাল দীর্ঘদিন যাবত নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে এবং বর্তমানে পার্থ দে পাভলভ হসপিটাল নামক একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। যার সাথে ‘নেক্রফিলিয়া’ এর সম্পর্ক খুঁজে দেখা হচ্ছে।
 
 
এছাড়াও ২০০৬ নইডা (noida) সিরিয়াল মার্ডার নামে ভারতে একটা অপরাধ সংঘটিত হয়। বলা হয় এটা নাকি ইন্ডিয়ার ইতিহাসে সব থেকে বড় বিকৃত রুচির অপরাধ। এই কেসে সুরিন্দার কলি (Surinder Koli) নামক এক ব্যক্তি ১৯টির বেশি সিরিয়াল কিলিং ঘটায়, এবং এখানে একজন বাদে ভিক্টিমদের সবাই ছিল শিশু, যার মধ্যে ১১ জনই মেয়ে। সুরিন্দার কলিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তার সহযোগী কেয়ারটেকারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এবং এটা সেক্সুয়াল স্যাডিজমের সাথে সম্পর্কিত।
 
 
এবার #প্যারাফিলিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণ নিয়ে কথা বলা যাক। অধিকাংশ প্যারাফিলিয়াই বেশ অপ্রতুল (পেডোফেলিয়া এবং ফ্রটারিজম ব্যতিত) এবং এটা পুরুষদের ভিতরে মেয়েদের তুলনায় বেশি প্রতিয়মান। যাইহোক প্যারাফিলিয়ার অভ্যাস বা কল্পনা (ফ্যান্টাসি) থাকা মানেই কিন্তু মানসিক অসুস্থ থাকা না। যদিও মানসিক অসুস্থতা একটা কারণ হতে পারে। কম মাত্রায় প্যারাফিলিয়া আক্রান্তরা সাধারণত মাস্টারবেশন বা যৌন মিলনের সময় শুধু একটা বিকৃত ভাবনার (ফ্যান্টাসির) ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকে যেটা খুব একটা ক্ষতিকর না। কিন্তু একটা জনসংখ্যায় যখন ক্রমাগত অপরাধের ঘটনা ঘটতে থাকে তখন সেটা সত্যি ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যেটা এখন বর্তমান বাংলাদেশে হচ্ছে। 
 
“The Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (DSM), published by the American Psychiatric Association “এর কাজের ধারা অনুযায়ী প্যারাফিলিয়ার জন্য আরও কয়েকটি কারণ দায়ী হতে পারেঃ
 
 
#.নিউরোট্রান্সমিটার নামে পরিচিত মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক উপাদান (যেমন, ডোপামিন (dopamine), সেরোটোনিন (serotonin), নরেপিনফ্রিন (norepinephrine) এর ভারসাম্যহীনতা যা বিকৃত যৌন আচরণের কারণ হয়ে থাকতে পারে। এগুলো সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী রাসায়নিক পদার্থ এবং আমাদের মন মানসিকতা নিয়ন্ত্রণ করে।
 
#.পুরুষ এবং নারীদের দেহে থাকা এন্ড্রজেন নামের সেক্স হরমোন সেক্সুয়াল আকর্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে, প্যারাফিলিয়ায় এর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা চলছে।
 
#. দীর্ঘদিন ধরে বার বার আনন্দদায়ক কোনো কিছু করার ফলে তা মস্তিস্কের স্নায়ুতন্ত্রের গঠনে পরিবর্তন আনে এবং এটা এক সময় অভ্যাসে পরিণত হয় যা বার বার মানুষকে একই কাজ করতে প্ররোচিত করে।
 
 
প্যারাফিলিয়া যেহেতু একটি বিকারগ্রস্ত রোগ তাই এর চিকিৎসা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যারাফিলিয়ার চিকিৎসা সম্বন্ধে এবার কথা বলি-
 
১. প্যারাফিলিয়ার চিকিৎসায় সাইকোথ্যারাপি, ওষুধ এবং কাউন্সিলিং এক সাথে ব্যবহৃত হয়। 
 
২. হতাশা, বিষণ্ণতা, এলকোহল, এবং ড্রাগের প্রভাবও বিবেচনায় রেখে এগুলোর চিকিৎসা করা হয়।
 
৩. পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে গ্রুপ তৈরি করে নিজেদের জীবনের গল্প বিনিময় এবং কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করার মাধ্যমেও এর চিকিৎসা করা হয়।
 
৪. ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে হতাশা-নিরোধক ঔষধ, এন্টি-এন্ড্রজেন্স (যা অতিরিক্ত যৌন চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করে)। মানসিক স্থিতিশীলতা তৈরির জন্য মুড-স্ট্যাবিলাইজার যেমন লিথিয়াম ও নাল্ট্রেক্সন (naltrexone) ব্যবহার করা হয়।
 
 
#আমাদের জন্য প্রয়োজন –
 
১. রক্ষণশীল বাংলাদেশের অধিকাংশ কিশোরই বেড়ে ওঠার সময় সুস্থ পরিবেশ পায় না। তাই বাবা-মা’কে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে তার সন্তানের মানসিক বিকাশ ঠিকমতন হচ্ছে কিনা। তার সন্তান কিশোর বয়সে কী ধরনের আচরণ করছে। কার সাথে মেলামেশা করছে। এবং তার সাথে সঠিক যৌন শিক্ষার ব্যাপারে খোলাখুলি বন্ধু সুলভ কথা বলা।
 
২. একদম বাচ্চা বয়সে শিশুদের যৌন শিক্ষা দেওয়াটা উচিৎ নয়, কিন্তু কিছু ব্যাপারে তাদেরকে সচেতন করে দিতে হবে, যেমন- নিকট আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের কেউ তাদের সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো আচরণ করছে কিনা। তাদেরকে চকলেটের লোভে ভুলিয়ে গায়ের স্পর্শকাতর যায়গায় কেউ হাত দিচ্ছে কিনা। এবং এ ধরনের কিছু হলে সে যেন সেখান থেকে দ্রুত চলে আসে এবং বাবা-মাকে জানায়। এবং আপনার সন্তান এধরনের কোনো কিছু জানালে কখনই অবহেলা করবেন না। 
 
৩. যৌন শিক্ষা এখনো বাংলাদেশে খুবই অপ্রতুল। স্কুল কলেজ গুলোতো অনেক দূরে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত সঠিক যৌন শিক্ষার ব্যাপারে জানে না, এ ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলা অনেকটা যেন অলিখিত নিষেধ। এই বাধা কাটিয়ে উঠতে হবে, স্কুল কলেজের শিক্ষক দের কে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। যৌন শিক্ষার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত সময় নিয়ে কথা বলতে হবে।
 
৪. নৈতিক মূল্যবোধ এবং প্রাথমিক যৌন শিক্ষা দিতে সরকারি  এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে একসাথে হয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে সকল শিক্ষার্থী তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
 
৫. সরকারী ভাবে পাঠ্য বইয়ে ক্লাস ৬-৭ থেকে যৌন শিক্ষার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে অধ্যায় যোগ করা যেতে পারে কিংবা এর জন্য আলাদা একটা পাঠ্য বইও যোগ করা যেতে পারে।
 
৬. সমাজে ধর্ষণ, নারীর শ্লীলতাহানি রোধ করার জন্য এবং সুস্থ সমাজ গড়ার জন্য প্যারাফিলিয়া আক্রান্তদের কে চিহ্নিত করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
৭. শিশু ধর্ষণ, নারী ও শিশু হয়রানি সংক্রান্ত আইনের সংস্করণ করা এবং মামলা সত্য প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচারের আওতায় জামিন অযোগ্য যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা।
 
 
মৃত্যুদণ্ডও কি এই পৈশাচিকতাকে ভুলতে দিবে?—- #মেয়েসহ বাবার আত্মহত্যা: শিশুকন্যাসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা সিটপাড়া এলাকার হযরত আলী (৪৫) ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তার (৮)। 
               #পাবর্তীপুরের প্রতিবেশী কর্তৃক ধর্ষিত পাঁচ বছরের শিশু পূজা ধর্ষণ ও ঢামেকে আইসিওতে ভর্তি।
                #সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যা।
 
একটু সংযোজন করি, ইদানীং খবরের কাগজ খুললেই গৃহবধূ নির্যাতন এবং হত্যা, কাজের ছেলে/মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের মতন ঘটনার খবর খুব বেশি বেশি চোখে পড়ে। 
সেই সাথে এই ধরনের সব থেকে ভয়াবহ ঘটনা দুটি ঘটে বিগত বছরেই,
 
১.# সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যা, এবং খুলনায় কমপ্রেসর মেশিনের হাওয়া পায়ু পথ দিয়ে প্রবেশ করিয়ে শিশু রাকিবকে (১৪) হত্যা। হত্যা মামলার রায়ও হয়ে গেছে। 
 
২.#এর পরে আসি আরেকটি মামলায় – ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ‘ভোরের কাগজে প্রকাশিত’ ‘টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে ছেলেকে দিয়ে মাকে ধর্ষণ করানোর চেষ্টা এবং পরে মাকে ধর্ষণ। 
 
 
কিন্তু আমার আলোচ্য বিষয় হলো – এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সংখ্যা কিন্তু বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে সেক্সুয়াল স্যাডিজমের উপরে তেমন কোনো কাজ হয়েছে কিনা আমি জানি না। উপরের ঘটনাগুলোও ‘সেক্সুয়াল স্যাডিজমের’ বা ‘স্যাডিজমের’ আওতাভুক্ত কিনা আমি নিশ্চিত না। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা যখন বার বার ঘটে তখন এগুলো নিয়ে শীঘ্রই বিস্তর কাজ হওয়া এখন খুবই আবশ্যক।
 
 
পরিশেষ,
একটু ভেবে দেখি, এই সকল যন্ত্রণাভোগী বাচ্চাদের কথা, যাদের শৈশব ফুরিয়ে গেছে স্বজাতীয় কিছু ইনহিউম্যান এর কাছে! একটু কল্পনা করি নিজের ফুটফুটে সন্তানটাকে ওর জায়গায়! 
 
৫ বছরের ছোট্ট পূজাকে আমি দেখেছি, অবর্ণনীয় অত্যাচারের শিকার মেয়েটির আশেপাশে থাকলেও যেন আমি মানুষ এটা ভেবে কষ্ট বোধ হয়। সেই অনুভূতি বড় লজ্জার।
 
ভেবে দেখি এই মাসুম বাচ্চাগুলো আদৌ কি সেক্স বা ফিজিক্যাল এট্রাকশন সমন্ধে জানে বা বুঝে কিনা, তাদের পোশাক এক্ষত্রে নিশ্চই কামাতুর পিশাচের যৌন ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়নি, পিশাচের তো রক্ত হলেই চলে!
 
মেনে নিতেই হবে, রেপ একটা সামাজিক ব্যাধি, মানসিক বৈকল্য- কোন যুক্তিই খাটে না এমন হীনতর অপরাধের স্বপক্ষে। 
আসুন সচেতন হই, আসুন পরিবার-মুখি হই। নিজে আগে জানি, তারপর নিজ পরিবারকে জানাই। সচেতনতাই হোক আমাদের ঢাল!!
 
তথ্যসূত্র –
13.Hypersexual Disorder: A Proposed Diagnosis for DSM-V
14. দৈনিক ভোরের কাগজ।

লেখাটি ৫,৯৫২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.