ফারিহাকে নিয়ে সাময়িকভাবে নিরপেক্ষ থাকাটা কি খুবই কঠিন?

0

সামিহা চৌধুরী:

নিজের পিতার হাতে যৌন, শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের ঘটনা বলে আহমেদ ফারিহা নামের একটা মেয়ে সম্প্রতি তার ভিডিও ফেসবুকে দিয়েছে। ঘটনা সত্যি নাকি মিথ্যা আমারা কেউ জানি না। আশা করি অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্যি ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং এই মেয়েটা স্বাভাবিক একটা জীবন ফিরে পাবে।

ফারিয়া মেয়েটা যেই ইউনিভার্সিটিতে পড়ে আমি সেখানে প্রভাষক হিসেবে চাকরি করি। গতকাল ইউনিভার্সিটিতে লিফটে ওঠার সময়,  আমার সাথে কয়জন ছাত্র-ছাত্রী উঠছিল একই লিফটে। শুনতে পেলাম যে তারা বলাবলি করছে এই ঘটনাটা ভুয়া। শেষমেষ না পেরে আমি জিজ্ঞেসই করে ফেললাম, “কী কারণে মনে হচ্ছে ঘটনাটা ভুয়া? আমরা কি আদৌ জানি সত্যি নাকি ভুয়া?”

উত্তর ছিলও, “মাডাম, তার ভাই আরেকটা ভিডিও দিয়েছে সব কিছু বিস্তারিত বলে।” আমি বললাম, ” ভাই এর কথা যে সত্য তারও তো কোনও প্রমাণ নাই আমাদের কাছেতার ভাইটার ভিডিও আমি দেখেছি। বোন ঝুঁকিতে আছে, তাকে রক্ষা করতে হবে, এই ব্যাপারে তার মাথাব্যাথা নাই। একবারও ভিডিওতে বোনকে ঝুঁকি থেকে বের করে এনে নিরাপদ জীবন দেয়ার গুরুত্ব সে প্রকাশ করে নাই। তার মাথাব্যাথা খালি পরিবারের মানহানি নিয়ে। তার কাছে পরিবারের মান বড়। তার বোনের জীবনের নিরাপত্তা বড় না।”

এই কথা শুনে একজন বলল, “ম্যাডাম, মেয়েটা আগে তার নিজস্ব ফেসবুক পেইজে তার বাবাকে নিয়ে অনেক লাভ ইউ, মিস ইউ স্ট্যাটাস দিয়েছে।” আমি বললাম, “দেখো সমাজে অনেক এমন স্বামী-স্ত্রী আছে, যাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো না। মারামারি করে। তবুও ফেসবুকে তারা লাভ ইউ, মিস ইউ স্ট্যাটাস দেয়। তার মানে তো এই না যে তারা নির্যাতিত না? তাহলে কয়টা স্ট্যাটাস দেখে কি আমারা বলতে পারি যে তাদের নির্যাতনের ঘটনা ভুয়া?” ছাত্র-ছাত্রীরা আর কোনও উত্তর দিলো না, মাথা নিচু করে চলে গেলো।

আমি মনে সারাদিনই খুব কষ্ট পেলাম। এতো নিকৃষ্ট মানসিকতার মানুষ কেন আমরা? একটা মেয়ের চোখে পানি নাই, ফেসবুক এ লাভ ইউ মিস ইউ স্ট্যাটাস ইত্যাদি দেখে বলা শুরু করি যে ঘটনা ভুয়া? এটা ঠিক যে মেয়েটা সত্যি নাকি মিথ্যা বলছে কোনও কিছুই আমরা জানি না। তবে মানুষ হিসাবে এই মানবিকতার প্রথম পরিচয় এটা হবে যে আমরা এতটুক বলি, 

“যে ঘটনা সত্যি কিনা জানি না, তবে যদি আসলেই হয়ে থাকে, একটা অমানবিক জীবনের মধ্য দিয়ে গেছে এই মেয়েটা। অনুসন্ধানে আসল ঘটনাটা বেড়িয়ে আসুক, মেয়েটা স্বাভাবিক একটা জীবন ফিরে পাক।”

সত্যি বা মিথ্যা সেটা বেরিয়ে আসার আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে একটা মানুষকে নিয়ে নিরপেক্ষ থাকটা এতোটাই কঠিন?

সামিহা চৌধুরী
প্রভাষক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

লেখাটি ৪,৪৪১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.