সংরক্ষিত আসনে নয়, মূল স্রোতে আসুন

0

ফারহানা আনন্দময়ী:

৪৫ বছর দীর্ঘ সময়… অনেক তো হলো। 
এতোদিনে সংরক্ষিত আসনে ‘বেছে নেয়া’ অপশন থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি নির্বাচনে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত প্রাপ্তমনস্কতা নিশ্চয়ই আমরা অর্জন করেছি। 

১৯৭২ এর সংসদে যা ছিল ১৫ জনে, তা প্রতিটি ভিন্ন সরকারের আমলেই ১০ বছর মেয়াদে বাড়তে বাড়তে ১৫ থেকে ৩০, ৩০ থেকে ৪৫ এবং ২০১১ তে শেষ মেয়াদে ৪৫জন থেকে বেড়ে ৫০জনে উন্নীত করা হয়েছে। চিত্রটি পিছিয়ে যাওয়ার, এগোনোর নয়।

দেশের মোট নাগরিকের অর্ধেক শতাংশ যখন নারী, সেখানে সংসদে ৩০০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ১৭জন নারীকে আমরা পাই নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে। এই যখন অবস্থা, সেখানে কেন এই ৫০জন নারী সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা ‘বেছে নেয়া’ অপশনে ‘অনির্বাচিত’ এবং ‘অলংকারিক’ নারী সদস্য হয়ে সংসদে বসবেন?

তাঁরা নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসলেও তাঁরা আক্ষরিক অর্থে দেশের সিংহভাগ নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না, কারণ নারীদের ভোটে তিনি নির্বাচিত নন। এবং তাঁরা অনির্বাচিত হয়েও সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের সমান পদের সুবিধা ভোগ করেন। ক্ষমতাসীন দল তাঁদেরকেও সমান সুবিধা দিতে বাধ্য থাকেন, কারণ তাঁরা সংসদে সেই দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে রয়ে যান।

তবে একটা জায়গায় সুক্ষ্ম সমস্যা দেখা দেয়-ই। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য আর যদি তিনি পুরুষ হয়ে থাকেন, স্বভাবতই তাঁদের সহকর্মী অলংকারিক নারী সদস্যদেরকে কিছুটা গুরুত্বহীন দৃষ্টিতে দেখবেন। কারণটা স্পষ্ট,  তিনি নির্বাচিত হয়ে এসেছেন আর আপনি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেননি, স্বাভাবিকভাবে এটা তাঁর মনে হতেই পারে।

শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, রওশন এরশাদ, মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী, মুন্নুজান সুফিয়ান, সিমিন হোসেন রিমি’রা যদি একাধিক আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক’রে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হতে পারেন, আমি বিশ্বাস করতে চাই রাজনীতিতে আগ্রহী অন্যান্য নারীরাও নিজ যোগ্যতায় ৩০০ আসনের নির্বাচনে জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সংসদে জনপ্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। তাঁদের সেই মানসিক শক্তি, তাঁদের সেই যোগ্যতা আছে ব’লেই আমরা আরেকটু এগিয়ে গিয়ে ভাবতে চাই।

ক্ষমতার সমতার কথা যখন আমরা বলছি, তখন এখানেও সমতা দেখতে চাই। নারী লড়ে আসুক, নারীর লড়াই করার ক্ষমতা ক্ষেত্রবিশেষে পুরুষের অধিক। রাষ্ট্র যদি প্রকৃত অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন-ই চায় তাহলে নারীকে সেইপথে বিকাশের পথটা সুগম করে দিক। সংরক্ষিত আসনে তাঁকে পুতুল বানিয়ে বসিয়ে রেখে নয়, ভোটের ময়দানের যোদ্ধা বানাক। নিজের স্বরে নিজের কথা বলার, নিজের এলাকার মানুষের কথা বলার সুযোগ দিক। লড়াই ক’রে এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ের কাজ করার মন্ত্রণা শেখাক।

আর যদি একান্তই এই ‘সংরক্ষিত আসন’ বহাল রাখতে হয় তো এখানেও আগ্রহী নারীরা জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসুন। ‘বিশেষ ছাড়’ ছেড়ে দিয়ে নিজের প্রাপ্য সম্মান বুঝে নিন। নিশ্চিন্ত থাকুন, সেই ভোটের যুদ্ধের ময়দানে আপনার সম্মান রক্ষার কাজে আমরাও লড়বো আপনার হয়ে, আপনার জন্যে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২৫০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.