৫৭ ধারা একদিন সবাইকেই ছুঁয়ে যাবে

0

শিল্পী জলি:

শুনেছিলাম, গ্রামের কিছু লোক থাকে যারা কথায় কথায় মামলা ঠুকে দেয়। তারা এতোই মামলা ঠুকে যে মামলাবাজ হিসেবে তাদের নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। লোকে ভয়ে থাকে এসব লোকদের নিয়ে। কেননা তারা মামলা করতে করতে জমিদারি হারিয়ে ফেলে, ভিটেমাটি বিক্রি করে, জিনিসপত্র বন্ধক দেয় তবুও থামে না। এরা সচরাচর দুষ্টু প্রকৃতির লোক হয় এবং এদের অন্তর থাকে কূটকৌশলে ভরা, আর নেশা-মামলার। এটাকে গ্রামের চইড়া কালচারও বলা যায়।

সম্প্রতি, দেশে দু’টি মামলার খবর পড়ে মনে হচ্ছে দেশের লোক এবার চইড়া হবার পথে হাঁটা দিল নাকি? কোনো এক ইউএনওকে নাকি গ্রেফতার করা হয়েছে একটি বাচ্চার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি কার্ডে ছাপার দায়ে। অভিযোগ হলো, ছবি বিকৃতির। 

একটি বাচ্চার আঁকা ছবি দেখে যদি অনুমানও করা যায় যে ওটি বঙ্গবন্ধুর ছবি সেইতো বিশাল ব্যাপার। আমেরিকাতে অনেক বাচ্চা এটা-ওটা এঁকে বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিশিষ্টজনকে দেখিয়ে বলে, এটা তোমার ছবি। আবার উপহারও দেয়। কখনও বা ছবিতে শুধু দু-একটি দাগের হাজারও গল্প শোনায় তারা। যা তারা কল্পনা করেছে কিন্তু আঁকতে পারেনি। ছবি আঁকা ঠিক না হলেও এতে তাদের চিন্তাশক্তি বাড়ে, ছবি আঁকাতে উৎসাহী হয়, এবং সৃজনশীলতা বাড়ে। ইউএনও বাচ্চাটিকে উৎসাহিত করলেও মামলাবাজ তাঁকে মামলায় ফাঁদিয়ে দিল। একটি ভালো উদ্দেশ্যকে খারাপ ফলাফল ধরিয়ে দিলেন। 

মনে পড়ে, জাবিতে এক মেয়ে মনে মনে প্রেমে পড়ে প্রেমিকের ছবি এঁকে ছিল। ছবি নিঁখুত না হলেও প্রেম তাদের ঠিকই হয়েছিল। কেননা ছবিটির প্রতিটি দাগই বলছিল, ভালোবাসি ভালোবাসি ! যা বুঝতে ঠিক তেমনই একটি মন লাগে। নইলে হয়তো মানুষরূপী ওরা মামলা ঠুকে দেয়। আর তখনই বন্ধ হয় মানুষের সৃষ্টিশীলতা, এবং কলুষিত হতে থাকে মন এবং সমাজ, পরিশেষে জাতি।

খবরের ছবির মামলার এই রেষটি কাঁটতে না কাঁটতেই পড়লাম ইমতিয়াজ মাহমুদ ভাইয়ের নামেও ৫৭ধারাতে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মামলা ঠুকা হয়েছে। তিনি নাকি পাবর্ত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে লেখালেখি করে মামলায় পড়েছেন।

সব সময়ই তিনি মানবতার আহ্বান করে পোষ্ট দেন। যারা বঞ্চিত তাদের স্ব-পক্ষে কথা বলেন। দেশে এমন লোক থাকলে অনিয়মগুলো নিয়মের আওতায় আসে, পদক্ষেপ নিয়ে শুধরেও নেয়া যায়। কেননা বঞ্চিতদের অধিকার সুরক্ষা করাও জাতির ধর্ম এবং মানবিক দায়। এখানে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলে মামলা ঠুকে দেয়াই আসলে সরকারের বিপক্ষে কাজ করা। কেননা তখন আর মূল সমস্যাটির সমাধান হয় না। 

সমাজে যেসব চামচালোক তালবাজি করতে এসব করে তাদেরকেই আগে চিন্হিত করা জরুরি। নইলে জাতির এমন একদিন আসবে যেদিন এমন পদে পদে দোষ ধরায় অজান্তে পাদু বের হয়ে গেলেও মানুষকে মামলায় পড়তে হবে, ‘Excuse me’ বলে আর রক্ষা হবে না। (পাকিস্তানে এমন একটি ঘটনার জন্য মৃত্যুদণ্ডও নাকি দেয়া হয়েছে একজনকে! শোনা কথা অবশ্য)

আমেরিকাতে অতি ভালো কোম্পানিগুলোও নিয়মিত বৈঠক করে, সমস্যাগুলো চিন্হিত করে, নানা পদক্ষেপ নেয় কী করে আরও ভালো করা যায়, আরও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে…! সরকারও তেমনই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মতোই। 
সমস্যা বলতে মানা বলে ৫৭ ধারায় টুঁটি চেপে ধরলেই কি সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে? 
নাকি, সমস্যা চিন্হিত করে সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে? 
তাছাড়া, মানবতা বাদ দিলে একটি সরকারও কি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে?

এভাবে ৫৭ ধারায় ভুগতে হলে ভুগবো আমরা সবাই, পুরো জাতি, শুধু কিছুদিন আগে আর পরে অতএব এখনই বদলের সঠিক সময়–ক্ষমতা থাকতেই।

লেখাটি ৬৯১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.