অর্চনা রানীর অনাগত সন্তান আলোর মুখ দেখুক

0

শাশ্বতী বিপ্লব:

অর্চনা রানী কোথায় আছেন? পাতিপাতি করে খুঁজেও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোন নিউজ পেলাম না। ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় অর্চনা নামে যে নারী গত ৯ জুলাই মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, তার সম্পর্কে আর কোন আপডেট কোথাও নেই।

ফরহাদ মজহারেরর পক্ষে বিপক্ষে অনেক রকম লেখা হলেও, অর্চনা রানীর কথা কেউ বলছেন না। বলছেন না তার প্রান্তিকতার কথা। এখানে সুশীল সমাজ এবং বিপ্লবীরা আশ্চর্যজনকভাবে নীরব!

অর্চনা রানীর কপাল খারাপ।

এ কারণে নয় যে, সে একজন একা তরুণী এবং বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে জড়িত। এ কারণেও নয় যে, সে সংখ্যালঘু এবং দরিদ্র এবং সম্ভবত তেমন শিক্ষিতও নয়। এবং একারণেও নয় যে,  আর্থসামাজিক বিবেচনায় সে প্রান্তিক অবস্থানের একজন মানুষ এবং তাকে এক্সপ্লয়েট করা সহজ।

বরং অর্চনা রানীর কপাল খারাপ একারণে যে, তার এই প্রান্তিকতা নিয়ে, তার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় ব্যাভিচার নিয়ে কথা বলার, প্রতিবাদ করার কেউ নেই।

কেউ তার হয়ে দু’লাইন লিখছে না বা বলছে না। প্রান্তিক মানুষ নিয়ে চিৎকার করা মানুষেরা অর্চনা রানীর বেলায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন!

অর্চনা রানীর কপাল খারাপ একারণে যে, তাকে এক্সপ্লয়েট করা পুরুষটি সরকারী দলের কেউ নয়।

আজ যদি এর সাথে কোনভাবে সরকারী দলের কোন নেতা বা কর্মী জড়িত থাকতো তবে দিকে দিকে বিচারে রব উঠতো। ঘৃণাপূর্ণ বাক্যে, শব্দে নিউজফিড ভরে যেতো। তখন সবাই তার নারী হিসেবে অসহায়ত্ব দেখতো পেতো, দেখতে পেতো সংখ্যালঘু হিসেবে প্রান্তিকতাও।

আমরা বারবার বলার চেষ্টা করেছি, আবার বলছি, ধর্ষক বা যৌন নির্যাতক বা ব্যাভিচারীর রাজনৈতিক পরিচয়কে মুখ্য করে তুলবেন না। অপরাধকে গৌণ করে যখনই আপনারা ধর্ষকের বা নির্যাতনকারীর রাজনৈতিক পরিচয়কে ক্যাপিটালাইজ করতে চান, তখনই মূল অপরাধটা চাপা পড়ে যায়। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় যখন চুপ থাকেন তখনও একই ঘটনা ঘটে।

অপরাধের প্রতিবাদ করুন। সে আপনার দলের, আপনার মতাদর্শের বা আপনার নেতা হলেও, না হলেও। একজন ধর্ষক বা যৌন নির্যাতনকারী বা ব্যাভিচারীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করুন। তার রাজনৈতিক পরিচয়কে নয়। দলদাস বা গুরুর দাস হবেন না দয়া করে।

একদিনে হঠাৎ কেউ ধর্ষক বা যৌন নিপীড়ক হয়ে ওঠে না। পুরুষ হিসেবে পরিবারে কাছে, সমাজের কাছে সে যে বাড়তি সুবিধা ভোগ করে, সেটা তাকে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন বা ব্যাভিচার করতে উৎসাহিত করে। এবং সেটা করতে গিয়ে, অস্ত্র বা অর্থ বা ক্ষমতার দাপট বা জ্ঞানী জ্ঞানী কথার যাদু, যার যেটা আছে, সে সেটাই ব্যাবহার করে। 

অর্চনা রানী যদি সত্যি সত্যিই দ্বিতীয়বারের মতো গর্ভধারণ করে থাকে এবং এখনও যদি তাকে গর্ভপাত করানো না হয়ে থাকে, তবে অর্চনা রানীর পক্ষে, তার অনাগত সন্তানের পক্ষে জোরেশোরে আওয়াজ তুলুন।

ফরহাদ মাজহারের অন্তর্ধান নাটকের সমাধান পুলিশ করছে, করুক। আসুন আমরা অর্চনা রানীর পাশে দাঁড়াই। তার নিরাপত্তা, তার গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তা এবং অধিকারের দাবি জানাই। অর্চনা রানীকে তার প্রাপ্য সম্মান এবং আইনী অধিকার দেয়া হোক। বৈধতা পাক অনাগত সন্তানটি। যথাযোগ্য পরিচয় নিয়ে এই পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পাক।

বারবার অর্চনা রানীদের কেন ভ্রুণ হত্যা করতে বাধ্য করা হবে? গর্ভের শিশুটিরই বা কী দোষ? সে কেন আলোর মুখ দেখবে না?

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৪,৮১৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.