সৎ মেয়েকে ধর্ষণ- এমন ঘটনা কি বিরল?

0

ডানা বড়ুয়া:

সিমন দ্য বোভোয়ারের মতে সন্তান হচ্ছে নিঃসঙ্গতা বা একাকিত্ব কাটানোর একটা অনুষঙ্গ মাত্র। উনার বক্তব্য অনুযায়ী, বেশীরভাগ দম্পতিই সন্তান নিয়ে থাকেন অনেকাংশে সামাজিক চাপে কিংবা বৃদ্ধ বয়সে দেখভালের জন্য অথবা অবসর সময়গুলো কাটানোর জন্য। উনার এই বক্তব্যগুলোকে পুরোপুরি সমর্থন করতে না পারলেও একেবারে অস্বীকার করবো না।

লন্ডনে এমন অনেক পরিবারকে আমি দেখি একের পর এক সন্তান জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে করে সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি রকম সুযোগ-সুবিধা আদায় করা যায়। এই যেমন- খুব দ্রুত একটা বাড়ি, বেকার ভাতা, বাচ্চাদের জন্য নির্দিষ্ট একটা খরচ প্রতিমাসে ইত্যাদি। যেন আরামসে দিন পার করে দেওয়া যায়।

কিছুদিন আগে একটা খবর পড়েছিলাম এক নৃশংস পিতাকে নিয়ে কোন এক পত্রিকায়। একজন অসভ্য পিতা নিজের একমাত্র মেয়েকে বন্দী করে রেখেছিল ২৫টি বছর নিজের বাড়ির বেসমেন্টে। শুধু বন্দী করেই রেখেই ক্ষান্ত হননি নিজের ঔরষজাত মেয়েকে ধর্ষন করেছিল উপর্যপুরি এবং বাধ্য করেছিল চারটি সন্তানের জন্ম দিতে। একজন বাবা কীভাবে এমন আচরণ করতে পারে আমি সেই তর্কে যাবো না। তবে এক্ষেত্রে সিমন দ্য বোভোয়ার-এর মতামত আমাকে মানসিক ধাক্কা দেয়। উনার বক্তব্যের সত্যতা চোখের সামনে ভেসে উঠে।

আট বছর ধরে মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন তারই সৎ বাবা ধর্ষক আরমান হোসেন সুমন, এই খবরটি ভেসে বেড়াচ্ছে নিউজফিডে গতকাল থেকেই। মেয়েটির মা সবকিছু জেনেও মেয়েকে কোনো ধরনের সহায়তা করেননি। অনেকেই হয়তো বলে বসবেন এসব ঘটনা সচরাচর ঘটে না, এই ধরনের ঘটনাগুলো গুনে দেখার প্রয়োজন নেই। এসব মানুষের বিকৃত চিন্তা-চেতনার একটা বিচ্ছিন্ন রূপ।

নাহ, আপনি আপনার চোখগুলোকে ভালোভাবে খুলে রাখলেই দেখবেন, এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে আমাদের চারপাশে। একটা-দুটো নয় অনেক এবং অনেক। আগে আমাদের নৈতিকতার স্খলন, রুচির অধঃপতন দেখে একসময় ভয় পেতাম। এখন গা গুলিয়ে উঠে।

আচ্ছা ধরুন, যে অভিভাবকেরা অল্প বয়সে নিজেদের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বসে, তাদের সম্পর্কে আপনার মতামত কী? ওই ধর্ষক পুরুষটির চেয়ে অবশ্যই অনেকাংশে ভালো, তাই না? ২৫ বছর বন্দী করে রাখেনি, নিজের মেয়ের সাথে শারীরিক কোন সম্পর্ক স্থাপন করেনি। শুধু মেয়ে কিছু বোঝার আগেই বিয়ে দিয়ে ফেলেছে অন্য একজন পুরুষের সাথে। যে মেয়েকে হয়তো অনিচ্ছাতেই শুতে হবে স্বামী নামের সেই মানুষটির সাথে। এই ব্যাপারটিকে ধর্ষণের চাইতে কোনো অংশেই কম বলে আমার মনে হয় না।

সিমনের সন্তান নেওয়া প্রসঙ্গে বক্তব্যটির সাথে একমত পোষণ করবো, নাকি দ্বিমত হবো সেটা নিয়ে আরও জানার আরও পড়াশোনা করার প্রয়োজন আছে বৈকি! কিন্তু অনুরণনের স্পর্শটুকু লেগে থাকবে সবসময় আমার ভাবনায়।

আমি জানি এমন অনেক মা বাবা-ও আছেন যাঁরা আমার লেখা উপরোক্ত ঘটনাগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত। নিজেদের সন্তানদের সঠিকভাবে মানুষ করার জন্য পরিশ্রম করে চলেছেন নিরলসভাবে। সন্তানদের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছেন হাসিমুখে নিজের সবটুকু স্বাদ আহ্লাদকে অপূর্ণ রেখে। 

এমন পিতামাতাদের কাছেই হয়তো হেরে যায় সকল যুক্তি, থেমে যায় ক্ষণিকের জন্য সকল ভাবনা। বাবা শব্দটি প্রচণ্ড ভালো লাগার একটি শব্দ আমার কাছে। এই শব্দের আগে ধর্ষক শব্দটি প্রচণ্ড বেদনার, শঙ্কার এবং অনিরাপত্তার।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৩,০৬০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.