সমাজ কি এই নারীদের মেনে নেবে? 

0
তানিয়া কামরুন নাহার:
বাসে চলাচল করি বলেই প্রতিদিন নানা ধরনের মানুষের সাথে দেখা হয়, অনেক সময় গল্প হয়। এই যেমন একবার এক ব্যক্তির সাথে বাসে কথা হলো, তিনি আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছেন। তার নামে মামলা আছে। এমন ভাবে তিনি বললেন, যেন কারো নামে মামলা থাকা খুব গর্বের ব্যাপার, তাতে স্ট্যাটাস বেড়ে যায়। তার কথা শুনে শুনে আমার মনটা দমে গিয়েছিল, আমার নামে ছিঁচকা চুরিরও মামলা নেই, সমাজে তাই আমার কোন দামও নেই। :'( দু চারটা খুনের মামলা না থাকলে কেউ আজকাল সমীহ করে না। 
বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে ৫/৬ বছর আগে একবার এক আপুর সাথে পরিচয় হলো। দুজনের পরিচয় পর্বে একে অন্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে জানার পর কিছু বিষয় কমন পড়ে গেল। যেমন দুজনেই ৩০+ অবিবাহিত এবং এজন্য সমাজ আমাদের মেনে নিচ্ছে না। হাহাহা। 
আপু পেশায় চিকিৎসক শুনে জানতে চেয়েছিলাম, আপনাদের তো অনেক রকম রোগী আসে এবং আপনাদের কাছে অনেক রকম গল্প আছে। দু/একটা শোনান না!
এর মধ্যে বাস চলে এসেছে। বাসে বসেই চলছে আলাপ। আপু একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যেখানে নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে প্রচুর রোগী আসে যারা গর্ভপাত করাতে চায়। আইন অনুযায়ী গর্ভপাত দণ্ডনীয় অপরাধ। নারীর জীবন বাঁচানো, অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে, এরকম কিছু বিশেষ ক্ষেত্রেই কেবল গর্ভপাত করানো সম্ভব, নচেত নয়। তবুও, অনেক সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকের গর্ভপাত ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে করানো হয়। তেমনি একটা ঘটনা। বাস্তব আসলে গল্পকেও হার মানায়। 
গ্রামের এক বিধবা নারী, তার সন্তান বলতে শুধু এক মেয়ে। সেই মেয়েকে সৌদি প্রবাসী একজনের সাথে বিয়ে দিয়েছিল। মেয়ের স্বামী সারা বছর থাকে সৌদিতে। তার সেই মেয়ে হঠাৎ গর্ভবতী, কিভাবে হলো, তা কেউ নাকি জানে না। এমন কি মেয়েটাও না! আচানক ব্যাপার! 
পাড়া পড়শীদের কাছে বেড়াতে যাবার কথা বলে তারা এখন এই প্রতিষ্ঠান বা ক্লিনিকে এসেছে, গোপনে গর্ভপাত করাতে ।
মেয়ের মা কান্দে, মেয়ের জন্য আমি কত কষ্ট করছি, নিজে বিয়াও পর্যন্ত করি নাই, তাড়াতাড়ি মেয়েরে বিয়াও দিয়া দিসি। সেই আমার মেয়ের এমুন ক্যান হইলো? 
ক্লিনিকের বড় ম্যাডাম, সেই মেয়ের সাথে খুব ভাল মত কথা বলে জানতে পারলেন, মেয়েটি এক রাতে তার এক মামার সাথে এক বিছানায় ঘুমিয়েছিল। জাস্ট ঘুমিয়েছিল, কিছুই করে নি।
–কে এই মামা?
–দূর সম্পর্কের মামা, প্রায়ই বাড়িতে আসতো। 
যাহোক, সেই মেয়ের গর্ভপাত বা এ ধরনের কিছু একটা করিয়ে তাকে নিরাপদ করা হয়। বড় ম্যাডাম সেই বিধবা মাকে পরামর্শ দেন, আপনি এখন মেয়েকে হজ্জ করতে পাঠান। 
(হজ্জ করে আসলে সমাজ মেয়েটিকে নিয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন করবে না, সমাদর করে গ্রহণ করবে। বুদ্ধিটা ভালই)
পরে সেই বড় ম্যাডাম চিকিৎসক আপুকে বলেছিলেন, দেখো, এই বিধবা মায়ের দু:খ দুইটা। 
১) সেই দূর সম্পর্কের ভাই আসলে তার সিক্রেট প্রেমিক। 
২) সিক্রেট প্রেমিক তার মেয়েকে গর্ভবতী করেছে।
সমাজ কি এই নারীদের মেনে নেবে?
লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১,২৭৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.