‘ভিকটিম ব্লেমিং’ নাকি ‘ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিতের ক্ষেত্র প্রস্তুত’ জরুরি?

0

জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা:

যেকোনো একটি অপরাধ সংঘটিত হবার কিছু পরেই দেখা যায়, অপরাধী’র সাথে সাথে ভিক্টিমকেও আমরা দোষ দিতে শুরু করি| কেন?

অনেক ভেবেছি! আসল কারণ বের করতে পারিনি| সম্ভবত হতাশা থেকেই আমরা এমনটা করি! নিশ্চিত নই! তবু এটাই মনে হচ্ছে! স্পেশ্যালি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, এমনটা ভাবাই যায়| যেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আসামিকে পার পাইয়ে দেয় অহর্নিশ, সেখানে ভিকটিমকে দোষ দিতে পারলেই সুবিধা! কেননা, আমরা আগেভাগেই জেনে যাই~ আট বছর ধরে স্টেপ ডটারকে রেইপ করেও আল্টিমেটলি রেপিস্ট এর কিছুই হবে না! হাইয়েস্ট শাস্তি হয়তো কিছুদিন জব থাকবে না ওই রেপিস্ট এর| কিছুদিন হয়তো পালিয়ে বেড়াবে| আরো বেশি কিছু হলে, ২/১ বছর জেল খাটবে!

এই তো! এর বেশি কপাল পুড়বে না তার! তাই হয়তো, আমরা ভিকটিমকে নিয়ে উঠে পড়ে লাগি! বিরক্ত হই, মেয়েটা কেন আট বছর পর এসেছে থানায়? আগে আসতে পারলো না?…অথচ একবারও ভেবে দেখি না, আট বছর আগে মেয়েটির বয়স ছিল মাত্র ১২| তার মাথার উপরে একমাত্র যেই আশ্রয়, তিনিও (নিজের মা) মেয়েটির পক্ষে নেই! পক্ষে তো নেই-ই নেই; উল্টো চেপে যেতে শিখিয়েছেন ক্রমাগত!

আমরা জানি, একটা বাচ্চা ‘প্রতিবাদী হতে’ বা ‘মেনে নিতে’ শেখে মূলত তার মা-বাবা’র কাছ থেকে| আমরা তাহলে কিভাবে তার কাছ থেকে আশা করছি, যে তার উচিত ছিল আগেই গিয়ে থানায় জানানো? বরং আমার তো মনে হয়, তাকে সাধুবাদ জানানো উচিত~ সে তার সৎবাবার (এক বীভৎস নরপশু’র) এহেন অত্যাচার দিনের পর দিন সহ্য করতে গিয়ে আত্মহত্যা করেনি!! যখন মিনিমাম বয়সে পৌঁছেছে, সহ্যের সীমা অতিক্রম করে থানায় জানাতে গিয়েছে!

যেকোনো সিচুয়েশনে নিজেকে ফেলে চিন্তা করলেই তবে বোঝা যায়, ফট করে ‘কি উচিত’ ‘না উচিত’ বলা যায় না! আজ যেটুকু সাহস দেখিয়েছে আটবছর যাবৎ নির্যাতিত হওয়া মেয়েটি;  বলুন, সেটুকুই বা ক’জন দেখিয়েছে? সম্পূর্ণ নিরাশ্রয় হয়েই কিন্তু এই ঝুঁকি সে নিয়েছে| আগামীকাল সে কি খাবে, পরবে কিংবা মাথার উপরে কোনো শেল্টার তার আদৌ থাকবে কি না~ তা কিন্তু জানা নেই! এ অবস্থায় গিয়ে ২০-এ পৌঁছেও ক’জনা থানায় যেতে পারে ~ আমার জানায়, বোঝায় বা দেখাশোনায় নেই!

শুধু এটুকু বুঝতে পারি ~ তাকে দেখে সাহস করে অন্য যে মেয়েটি তার চেপে থাকা কষ্টকে প্রকাশ্যে আনবে ভেবেছিলো, সে আর তা পারবে না! কারণ সে আরো একবার জেনে গেল, ভিকটিম এর সাথে একই পাল্লায় ফেলে তাকেও দোষ দেবে আকাশ, বাতাস কিংবা পাতাল!

আমরা এমনই| আমরা রেপিস্টকে সামান্য কিছুটা দোষ দিয়েই এগিয়ে যাই, রেইপড হওয়া মেয়েটির দিকে| না, মানসিক বা অন্য কোনো সাহায্যের হাত বাড়াতে নয়! এগিয়ে যাই খুঁজে বের করতে, তার কি কি দোষ ছিল~ যে কারণে সে রেইপড হয়েছে!! সেরকম কোনো দোষ (পোশাক পরিচ্ছদের সমস্যা বা আচার আচরণের সমস্যা বা আরো কিছু বানানো সমস্যা) না পেলে, এগিয়ে যাই বলতে~ “আগে না প্রকাশ করে, এখন কেন করছে?”

আমার স্বল্প বুদ্ধিতে এটা বুঝতে পারি না ~ ‘একবার/দুইবার/পাঁচবার  ভুল করেছে বলে, ষষ্ঠবার সে আর ঠিক কাজটি কেন করতে পারবে না?!’

সত্যি কথা কি জানেন~ ভুল করার জন্য তিরস্কারের চাইতে এই মুহূর্তে জরুরি কাজ হলো তাকে পজিটিভ মোটিভেশন দেওয়া| যেন তা দেখে আরেকজন নির্যাতিতা, নির্যাতনের আর্গল ভেঙে বেরিয়ে আসে| নামী ‘শব্দ প্রকৌশলের মুখোশ পরা’ ‘জঘন্য ধর্ষক’দের চিনিয়ে দেয়!

আসুন সেই কাজটি করি…

লেখাটি ৫৫৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.