কর্মব্যস্ত নারীদের বিনোদন কোথায়!

0

অনন্যা মুমু:

ঘটনা: ১

তুলি একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করে। কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা’র মতো বাজে। যদিও তার অফিস ছুটি হয় বিকেল পাঁচটা নাগাদ। অফিসের পরে সারাদিনের সব কাজ গুছিয়ে অফিস থেকে বের হতেই ছ’টা বেজে যায়।অসহনীয় যানজট কাটিয়ে বাসায় ফিরতে সাতটা। বাসায় ঢুকতেই শুরু হয় কৈফিয়ত দেয়া। প্রায় প্রতিদিনই এই অতিরিক্ত দু’ ঘন্টার জন্য তাকে কৈফিয়ত দিতে হয় শ্বশুরবাড়িতে।
তার স্বামী দীপেনও একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করে। সে বাসায় ফিরে অফিস শেষ হওয়ার কখনও তিন ঘন্টা, কখনও চার ঘন্টা পরে। কিন্তু তাকে কখনও কৈফিয়ৎ দিতে হয় না। দীপেন অাসা মাত্রই তুলির শাশুড়ি রান্নাঘরে ঢুকে ছেলের জন্য চা-নাশতা নিয়ে অাসে। তুলি বিয়ের পর তিন, চারবার তার স্বামীর কাছে দেরিতে অাসার কারণ জিজ্ঞ্যেস করাতে তার শাশুড়ি ক্ষেপে বলেছিল, “বৌমা তোমার কোনো অাক্কেল নেই? অামার ছেলেটা এতো কষ্ট করে এলো, অার তুমি অাসা মাত্র ঝগড়া শুরু করলে!”
ঘটনা: ২
মিসেস রাহেলা এবং তার স্বামী সিফাত যথেষ্ট স্বাধীনচেতা মানুষ। সিফাত কখনও রাহেলার বন্ধুমহল, সংসার, শপিং এসব ব্যাপারে মাথা ঘামায় না। স্বামীর এই মনোভাবের কারণে রাহেলা তার বান্ধবীদের কাছে ঈর্ষার কারণ। কিন্তু স্বামীর দেয়া এই স্বাধীনতা সে হয়তো বছরে দু’বার, তিনবারের চাইতে বেশি ব্যবহার করতে পারেই না। তিন বাচ্চার মা সে। বাচ্চাদের স্কুলে অানা-নেওয়া করা, খাওয়ানো, হোমওয়ার্ক করানো সব তার দায়িত্ব।
অন্যদিকে রাহেলাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে সিফাত একেবারে নিশ্চিন্ত হয়ে অামোদ-ফূর্তিতে দিন কাটায়। রাহেলা কিছু বললেই রেগে গিয়ে বলে, “তোমাকেও তো বান্ধবীদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ দিয়েছি। তুমি যাও না কেন?”
এই হলো অামাদের সমাজের একজন বিবাহিত মেয়ের জীবন।
উপরোক্ত দুই ঘটনা এখন এই সমাজের প্রতি ঘরের দৃশ্য। ঘরের বৌ মানে এই সমাজে সারাদিন অফিস করো তারপর বাসায় এসে সংসার সামলাও। একজন ঘরের বৌ অফিস শেষে তার কলিগদের নিয়ে অাড্ডা দিতে পারবে না, অফিস শেষে রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য তার বান্ধনীদের সাথে অাইসক্রিম খেতে যেতে পারবে না। যদি কখনও যায়, তাহলে শাশুড়ির অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।
অাবার শাশুড়ি’র বেঁধে দেয়া সময় এর মধ্যে না এলে জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিবাদ করলেই বয়ে যাবে সংসারে অশান্তির ঝড়। সব দায়িত্ব পালন শেষে যদি একজন বৌ চাকরি করতে পারে তাহলেই সে হবে অাদর্শ বৌ।
এই সমাজ ছেলেদের দিয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। ছেলেরা অফিসে যাই করুক অাবার অফিস শেষে অাড্ডা দিক, মদ খেতে বারে যাক, অথবা ক্লাবে গিয়ে জুয়া খেলুক, তার সবকিছুই পরিবারের কাছে পরিশ্রম। অার একই কাজ ঘরের বৌ-ঝিয়েরা করলে তাদের কপালে সেইদিন ভাত জোটে নাকি তার কোনো নিশ্চয়তা নাই। যুগের পর যুগ চলে যাচ্ছে কিন্তু এই নিয়মগুলো কেন জানি বদলাচ্ছে না।কর্মব্যস্ত নারীদের জীবনেও যে হালকা বিনোদন দরকার, এই সমাজ কবে তা বুঝতে শিখবে!!!!!!
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৫,৯৭৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.