…প্রাণের ‘পরে চলে গেল কে

শান্তনু বিশ্বাস:

বন্ধুর সংজ্ঞায় যা যা থাকে, যা যা পালনীয়, যার সবটা দৃশ্যমান নয় বরং বেশির ভাগ আড়ালে, অদৃশ্যে, যেখানে কোন আত্মগত আমি থাকে না, যেখানে আলোড়িত মুহূর্তের পরিবর্তে নির্মিত হতে থাকে আলোকিত মুহূর্ত, মুখরতার সঙ্গে নীরবতার অবাধ বিস্তার।

ঢাকার গ্রাম্যতা ও নাগরিক নৈরাজ্যের ভেতর নিজের জায়গাটুকুকে স্পষ্ট করা এবং অন্যের জন্যও সেখানে যথেষ্ট জায়গা রাখা, কারো ভেতর সম্ভাবনার ধোঁয়া দেখলে তাকে আগুনে রূপান্তর করা, নিজের জন্য তো প্রথমে সবাইকে বাঁচতে হয়, কিন্তু এই বন্ধু্টি থাকতো সবাইকে নিয়ে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর এবং সে-স্বপ্নের বাস্তব রূপায়নেও ছিল ভীষণ সচেষ্ট, একবারও শুনিনি হবে না। হবে, হতে হবে, কেন হবে না, এমনি শক্ত ও সমর্থ ছিল মনের ভিত্তি, সূর্যের মতো শুধু নিজের মুখটা জ্বালিয়ে রাখতো না, ওর কাছের সকলকে নিয়ে উজ্জ্বল হোত সেই আলো।

তার নিকটবৃত্তে আমিও ছিলাম। কিছুটা প্রত্যক্ষবর্তী হবার সুযোগ ঘটেছিল। আজ তার প্রয়াণ দিবস। নির্মম মৃত্যু তাকে হনন করেছিল হলি আর্টিজানে, এই দিনে, আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে, ঈশ্বরের নাম নিয়ে মাতাল হয়ে উঠেছিল রক্তভূক উচ্ছৃংখল অন্ধকার।।

অস্ট্রিয়ান কবি রেইনার মারিয়া রিলকের একটা কথা মনে পড়ে যায় “ Being full of life is actually being full of death”। বেঁচে ছিল যখন সকলের মাঝে ছড়িয়েছিল আনন্দ, আশাবাদ, স্বপ্নের সীমাহীন সঙ্গীত। আর যখন চলে গেল, প্রদোষের ছায়া নামলো এখানে ওখানে, টুকরো টুকরো হয়ে খসে পড়লো তারা অন্ধকার কোন উঠোনে।

ইশরাত, তোমার নিকটবৃত্তে এখনো সবাই আছে, আছে স্বপ্নরচনা ও বিপুল জীবনতরঙ্গ। আর কিছু কিছু মৃত্যু তো এমনি, যা জীবনকে নতুন করে সূচিত করে। ভাল থেকো, যেখানে থাকো।

(হলি আর্টিজানে সেদিন নিহত সবাইকে স্মরণ করছি আজ, এবং সবার প্রতি ভালবাসা রইলো উইমেন চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে । অন্যায়, অবিচার আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবসময় জেগে থাকবে উইমেন চ্যাপ্টার, এই অঙ্গীকারটুকু আবার জানিয়ে যাই।)

শেয়ার করুন:
  • 119
  •  
  •  
  •  
  •  
    119
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.