আসুন সুবোধকে ফেরাই, সুবোধ ঘুরে দাঁড়াক

0

সীমান্ত প্রধান:

আমাদের লিস্টে অনেক মেয়ে বন্ধুই আছে। কেউ হয়তো আমাদের রিকোয়েস্ট পঠায়। আবার কাউকে হয়তো আমরা রিকোয়েস্ট পাঠাই। তবে মেয়েরা সচরাচর রিকোয়েস্ট খুব কমই পাঠিয়ে থাকে। ফলে রিকোয়েস্ট পাঠানোর সংখ্যার দিক দিয়ে অগ্রভাগে আমরাই। মেয়েদের রিকোয়েস্ট পাঠানোটা বিশেষ করে দুটো কারণ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য। এক. মেয়েটি সুন্দরী। দুই. সে ভালো লিখে, আঁকে, গায় ইত্যাদি।

তো আমরা রিকোয়েস্ট পাঠালাম। অনেক মেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে প্রোফাইল ঘেটে ভালো লাগলে তবেই রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেন, নয়তো না। আবার কোনো মেয়ে মিউচ্যুয়াল ফ্রেন্ড দেখে রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে। এখন কথা হচ্ছে, একজন মেয়ে আপনাকে বন্ধু লিস্টে আশ্রয় দিয়েছে বলেই আপনার সাথে তার কথা বলতে হবে? এমন কোনো চুক্তিনামায় সে কী স্বাক্ষর করেছিল? আবার কেউ না চাইলেও বারবার তার ইনবক্সে একের পর এক মেসেজ দিয়ে যাবেন, এটা কী আপনার ভদ্রতা?

হ্যাঁ, আপনি আপনার লিস্টে থাকা মেয়ে বন্ধুর সাথে কথা বলতেই পারেন, যদি সে আগ্রহী হয়। শুধু কথা নয়, আপনি তার সাথে সেক্স চ্যাট থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুই করতে পারেন, যদি সে ইচ্ছে পোষণ করে এবং বিরক্ত ও বিব্রত না হন। কিন্তু সে যদি আপনার সাথে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ না করে, তাহলে তার ইনবক্সে একের পর এক মেসেজ কেন দিবেন? আবার সে আপনার সাথে কথা বলতেই আগ্রহী নন, তাহলে তাকে পর্ণগ্রাফি পাঠান কোন যুক্তিতে! আপনাদের কী লজ্জা বলতে কিছু নেই? 

ফেসবুক ব্যবহারকারী মেয়েদের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটি অপশন হচ্ছে ‘আদার্স বক্স’। কেউ কেউ এই বক্স কখনো চেক করেন, কেউ পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে কখনোই খুলেন না, আজীবনের জন্য সীলগালা করে রেখেছেন। তবে কৌতুহলবশত আদার্স বক্স কেউ চেক করতে গিয়ে বাকরূদ্ধ হয়ে যান এখনও। সেখানে দেখা যায় পুরুষের অধঃপতন। নোংরা মেসেজ, ছবিসহ নানা অরুচিকর ব্যাপারগুলো আদার্স বক্সজুড়ে গিজগিজ করে। আদার্স বক্সের অভিজ্ঞতা ফেসবুকের মেয়েদের নেই, এমন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। একশ্রেণির পুরুষ কতটা যৌনবিকৃত, ভাদ্রমাসের কুত্তা, আদার্স বক্স অভিজ্ঞতা থেকে প্রায় প্রতিটি মেয়েই বলতে পারবে।

এখন কেউ বলতে পারেন, আমার লিস্টে থাকা মেয়ে বন্ধুর সাথে তাই বলে কী কথা বলতে পারবো না? আরে ভাই, কেন পারবেন না। অবশ্যই পারবেন। প্রথমে আপনি তাকে ‘হাই’ বলুন। তিনি যদি প্রতিত্যুত্তরে ‘হ্যালো’ বলে, তবে পরবর্তী কথা বলুন। মাঝপথে যদি দেখেন, সে আপনার সাথে কথা বলতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, মানে আপনার শেষ মেসেজের রিপ্লে দিচ্ছে না, তখন ভেবে নিন, তিনি কথা বলতে আগ্রহী নন। এরপরও যদি বুঝতে অসুবিধে থাকে, তবে ভদ্রতার সহিত দ্বিতীয় একটি মেসেজ দিতে পারেন। তারপরও যদি সে রিপ্লাই না দেয়, তাহলে তৃতীয় মেসেজটি সেন্ড করা মানেই আপনি অসভ্য, ইতর।

অনেক মেয়ে বন্ধুদের কাছে থেকে জেনেছি, কিছু কিছু ব্যক্তি ইনবক্সে নক করার পর ভদ্রতার খাতিরে প্রথমে প্রথমে রিপ্লে দিয়েছিল। কিন্তু কন্টিনিউ রিপ্লাই না দিলে একটা পর্যায় পুরুষটি অশ্রাব্য ভাষা প্রয়োগ করে গালাগালসহ নানা ধরনের নোংরা কথা বলতেই থাকে। ব্লক করে দেয়ার পর ভিন্ন নামের আইডি দিয়ে একই অত্যাচার করে। শুধু কথার বানে ভাসিয়েই এরা ক্ষান্ত হয় না। তারা আবার সেক্স করার অফার দিয়ে সেক্সচুয়াল ফটোগ্রাফিও সেন্ড করেন। কতটা নিম্নরুচির মানুষ হলে এহেন কর্ম করতে পারে! ভাবা যায়?

অনেক সময় অনেক মেয়ে সাহস করে কিছু কিছু স্ক্রিনশটসহ কিছু পুরুষের কুকীর্তি পাবলিক করে, যা অসীম সাহসিকতা। তবে অনেক সময় অনেকেই তা পারেন না, পারিবারিক, সামাজিক দিক চিন্তা করে। তবে তাদেরও পারা উচিত। অন্তত কিছু অমানুষকে মানুষ বানাতে হলে তাদের মুখোশ খুলে দেয়া অত্যাবশ্যক বলেই মনে করি।

কেননা, স্বভাবজাত জানোয়ারগুলো কখনোই আপনার ভদ্রতাকে সম্মান করবে না। তারা আপনার ভদ্রতাকে দুর্বলতাই ভাববে। সুতরাং এরা যেমন ‘কুকুর’ তাদের জন্য দরকার তেমন ‘মুগুর’। তা নাহলে এদেশ থেকে সুবোধ ঠিকই পালাবে, কখনোই ঘুরে দাঁড়াবে না। আসুন সুবোধকে ফেরাই। সুবোধ থাকুক। এদেশ সুবোধের হোক।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১,৬৮১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.