ধর্ষক বান্ধব বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ!

0

চৈতী আহমেদ:

কিশোরী বয়সে ‘রাগ করে আর ফিরবো না, তোমরা মরো খুঁজে খুঁজে’ ভাব নিয়ে কতবার যে বাড়ি থেকে পালিয়েছি! ওই শহরে আমাদের কোনো আত্মীয় ছিলো না। চলে যেতাম বিউটি ক্লথ স্টোরের পাশে দিয়ে বাজার পেরিয়ে রেল লাইনের উপর। স্লিপারে বিছিয়ে দেয়া পাথর থেকে পাঁচগুটি কুড়াতাম পছন্দসই সেপের। বানর খেলা দেখতাম, এক লোক বসতো টিয়া পাখি নিয়ে, সামনে বিছানো থাকতো সারি সারি খাম, টিয়া পাখি সেই খাম ঠোঁট দিয়ে তুলে মানুষের ভাগ্য বলে দিতো।

আমার মনের ভেতর তখন গুড় গুড় করে উঠতো মায়ের কথা মনে করে, ভাবতাম আমার হাতে আট আনা পয়সা থাকলে টিয়া পাখির কাছে জেনে নেয়া যেতো-এখন বাড়ি ফিরে গেলে মা চুলের মুঠি ধরে ছেচা দেবে কিনা! তখনি আবার ফেরার চিন্তা বাতিল করে, পড়ে যেতাম সাপুড়েদের ঘোরে, ইচ্ছে হতো বেদেনীদের সাথে চলে যাই কোনো অচীন দেশে… এমনি সময় কানে এসে বাজতো একটা বাজখাই কন্ঠ- জাদু, জাদু, জাদু….বোহেমিয়ান জাদুকর রেল লাইনের উপর তাদের পসরা সাজিয়ে বসতো।

ভিড় ঠেলে মানুষের বৃত্তের ভেতর ঢুকে মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখতাম ময়লা জামা কাপড় পরা লোকটির জাদু, তার সাথে প্রায় সময় থাকতো আমারই বয়সী একটি কিশোর অথবা কিশোরী জাদুকর। একটা কমন জাদু ছিলো -সেই কিশোরীটিকে মেরে ফেলে আবার বাঁচিয়ে তোলার জাদু। ঐ বয়সে রুদ্ধশ্বাসে সেই জাদু দেখতাম। কিশোরীকে বাঁচিয়ে তোলার পরে একটা মাদুরে আদর করে তাকে বসতে দিতো জাদুকর। এইবার জাদুকর একটা বড় চাদর নিয়ে দুইজন দর্শককে চাঁদরের দুই প্রান্ত ধরিয়ে দিয়ে, রাস্তা থেকে বালুমাটি কুড়িয়ে সেই চাদরে ছিটিয়ে দিলে কিভাবে জানি না, সেই বালুগুলো মুড়ি হয়ে যেতো, জাদুকর সেই মুড়ি বাটিতে ভরে কিশোরীটিকে খেতে দিতো। এই সময় আমারও ক্ষুধা লেগে যেতো।

মনে পড়তো আব্বা কি এখন দুপুরে খেতে বসে বেবি বলে ডাক দিচ্ছে! মা কি ছাদে গিয়ে আমাকে খুঁজে এসেছে? মেজো মামা কি আমাকে খোঁজার জন্য রিক্সায় মাইক বাঁধার ব্যবস্থা করছে? আমাকে খুঁজে না পেয়ে বাবা নিশ্চয় পায়চারী করছে আর মাকে বকছে! মা হয়তো আয়তুল কুরসি পড়তে পড়তে গেটে দাঁড়িয়ে আমার ফেরার রাস্তা দেখছে। বোন হয়তো গেছে প্রতিবেশীদের বাসায় খুঁজতে।

বোনদের কথা মনে করে, পরে কখনও বোনদের সাথে নিয়ে পালাবো মনে স্থির করে, গুটি গুটি পায়ে অগ্রণী ব্যাংকের ছাদে উঠে, প্রতিবেশীর ছাদ পেরিয়ে, আমাদের চিলে কোঠায় ঢুকে অপেক্ষা করতাম, মা’র হাতে চুলের মুঠি ধরে অবধারিত মাইরের।

আজকের বাংলাদেশ হলে, কুমিল্লার দুই কিশোরী/শিশু বোনের মতো আমরাও রাগ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে রেপড হয়ে যেতাম! অথবা ধর্ষণের পরে খুন!

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৬৫৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.