উৎকৃষ্ট সময় আজ বয়ে যায়…

তানিয়া কামরুন নাহার:

কোন কোন প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয়
যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায়।
হেলাল হাফিজ

এক সময় মিছিলে যাবার জন্য প্রেমিকার প্রেমকে জলাঞ্জলি দিয়ে প্রেমিকেরা আকাশের দিকে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে গর্জে উঠতো। অধিকারের প্রশ্নেমিছিলের নেশায়, জনতার স্বার্থে খুন হয়ে যেতো ব্যক্তিগত প্রেম।

সত্যিই কি খুন হতো? আমার তো মনে হয় শক্তি রূপান্তরের মতো প্রেম রূপান্তরিত হতো বিদ্রোহ, বিপ্লবে। ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র প্রেম রূপান্তরিত হতো বৃহৎ প্রেমে। কিন্তু এখন প্রেমিক (!!!) এর হাতে  প্রেম আক্ষরিক অর্থেই খুন হচ্ছে।

ইদানিংকালের প্রেমে নিগ্রহ বেশ লক্ষ্যণীয়। সন্দেহ, অবিশ্বাস, পরস্পরের প্রতি অশ্রদ্ধা, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, মত চাপিয়ে দেওয়া, শারীরিক, মানসিক, যৌন অত্যাচার ইত্যাদি সব কারণে প্রেমে যদি অশান্তি সৃষ্টি হয়, তবে মনের বিরুদ্ধে সে সম্পর্ক চালিয়ে যাবার কোন মানে নেই। প্রেমের সম্পর্ক তৈরিতে যেমন সততা থাকা বাঞ্ছনীয়, তেমনি সম্পর্ক ভাংগনেও সততা থাকা দরকার। ম্যাচুরিটিও থাকা দরকার। পরস্পরের গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব ধারণ করা হলো এই ম্যাচুরিটি অর্জনের প্রথম ধাপ

সম্পর্ক ভেংগে গেলে অপর পক্ষের সাথে কোন রকম যোগাযোগ না রাখা উভয়ের জন্যই মংগল
এরপরেও কারো যদি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে যেতে ইচ্ছে হয়, অপর পক্ষের অনিচ্ছা অনাগ্রহ সত্ত্বেও তাকে বারবার বিরক্ত করতে ইচ্ছা হয়, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারে, তবে তার উচিত হবে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং নেওয়া।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তি নিজে বুঝতে অক্ষম হয় যে তার কাউন্সেলিং এর প্রয়োজন রয়েছে। মনে রাখতে হবে, মানসিক রোগী নিজে কখনো চিকিৎসকের কাছে যায় না। কারণ, সে বুঝতেই পারে না, সে অন্যদের জন্য একটা সমস্যা। তার জন্য যার/যাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তাদেরকেই প্রথমে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়।

কিছুদিন আগে একটা ঘটনা বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল এই ফেবুতে এক মেয়ে তার প্রতারক প্রেমিকের দেহ থেকে কলিজা বের করে এনেছিল পরে মেয়েটির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়, কার্যকর হয়েছে কিনা জানি না

এই ঘটনাটা নিয়ে আমিও বেশ একটা গল্প ফেঁদে বসেছিলাম। অবশ্যই মেয়েটির প্রেম আবেগে পক্ষপাতদুষ্টতা আমার ছিল। কিন্তু ইদানিং মনে হচ্ছে পুরো ব্যাপারটা আবার নতুন করে আমার ভাবা উচিত। একটি মেয়ে প্রেমে প্রতারিত হয়ে প্রেমিকের কলিজা কেটে বের করে এনেছে। আবার অন্য ঘটনায় আমরা দেখি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিক এসিড ছুঁড়ে মারছে কিংবা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করছে নিরপরাধ মেয়েটিকে। ঘটনাগুলোর পরিনতি তো শেষ পর্যন্ত একই।

এখন আমাদের প্রেমে সুস্থতা নেই। আর নেই বলেই এরকম নৃশংস ঘটনা আমাদের দেখতে হয়। সুস্থ সুন্দর প্রেমের উদাহরণও দেখি না, তাই একটা সুস্থ গল্পও লিখতে ব্যর্থ হই

কিছুদিন আগে খাদিজাকে ছুরিকাঘাত করে আলোচিত হওয়া বদরুলের নামটি আমরা হয়তো ভুলে যাইনি। বদরুল বা বদরুলের মতো প্রতিশোধপরায়ণ ইভটিজারদের জন্য কাউন্সেলিং বা অন্য কোনভাবে আমরা সচেতন করতে পারতাম তবে খাদিজাদের এভাবে  জীবনমৃত্যুর কঠিন লড়াই করতে হতো না।  

খাদিজা শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হবার পর তার ক্ষতিটা আমরা বুঝতে পারছি। খাদিজার মতো এমন অনেকেই প্রতিদিন মানসিকভাবে আহত হচ্ছে, আমরা জানি না। দু:খজনক হলেও এটাই সত্যি, এখন প্রেমিক দুর্লভ, খুনিরাই বেশি সক্রিয় ক্ষমতাসম্পন্ন

উৎকৃষ্ট সময় আজ আর আমাদের কাছে আসে না

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.