‘ওরা সবাই সুদিনের মুখ দেখলো’

0

এস এম পিয়াল:

দারিদ্র্য আর অনটন কখনও পিছু ছাড়েনি সখিনা বেগমের (৩২)। বাবার বাড়িতে এর মধ্যেই বড় হয়েছেন, স্বামীর বাড়িতে এসেও ভাগ্য খোলেনি, অবশ্য তার মতোন লাখ লাখ সখিনারই ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় না কখনও। কদাচিত যদি কেউ সুবার্তা বয়ে আনে তাদের জন্য!

তেমনই এক উপায় হিসেবে ধরা দেয় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা, এবং তারও পরে প্রযুক্তির ব্যবহার। সখিনা যেখানে আগে গরুর দুধ বিক্রি করতেও হিমশিম খেতেন, ন্যায্য দাম পেতেন না, গরুর সেবাযত্ন সম্পর্কে মান্ধাতার আমলের ধারণাই সম্বল ছিল, সেখানে আজ একটিমাত্র ডিভাইস আমূল পাল্টে দিয়েছে শুধু সখিনারই না, এমন আরও অনেক অনেক নারীর জীবন।

বিয়ের পর সহজ-সরল দিনমজুর স্বামী আসাদের ঘরেও সখিনাকেই প্রতিদিন সংসার কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে মাথা খাটাতে হচ্ছিল।

নিজে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করেছিলেন টেনেটুনে। তাই দুই মেয়েকে পড়াতে কোন কার্পণ্য করেননি। বড় মেয়ে কলেজে এবং ছোট মেয়ে স্কুলে পড়ছে। কিন্তু স্বামীর একার আয়ে আর চলতে পারছিলেন না, আবার  ঘুরে দাঁড়ানোর পথও তিনি সহসা পাচ্ছিলেন না। কোনমতে ধার দেনা করে একটি দেশি জাতের গরু কিনেন। কিন্তু তার গ্রামটি তিস্তা নদীর তীর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় গরুর খাবার জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়।

এদিকে শুধু সখিনারাই নন, তিস্তা নদীর পাদদেশে হওয়ার কারণে বন্যা, নদী ভাংগনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের  অভিঘাতের সংগে লড়াই করে টিকে থাকে এলাকার মানুষেরা। অধিকাংশ লোক দরিদ্র-হতদরিদ্র, কেউ দিনমজুরি করে, কেউ কেউ অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে।

এমনই এক সময়ে কারও কারও সুপরামর্শে এলাকার ৬১ জন দরিদ্র নারী একত্রিত হয়ে তাদের শতাধিক গরু কিভাবে প্রতিপালন করা যায় তার একটি উপায় খুঁজতে থাকেন। ২০১৪ সালে সীড রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের গরু পালনের কাজ সহজ হয়ে যায়।

ক্রমান্বয়ে সংগঠিত নারীদের বিভিন্ন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, যেমন, গাভী পালন ও ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব উন্নয়ন, বিকল্প জীবিকায়ন। পাশাপাশি সদস্যদের কাজের মান উন্নয়নে ডিজিটাল বিশ্বের সাথে খাপ খাওয়াতে পারেন এজন্য অক্সফাম বাংলাদেশের একটি প্রকল্পের অধীনে সীড রি-কল প্রকল্প পক্ষ থেকে দেয়া হয় একটি ট্যাব।

ছোট্ট এই প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার জীবনমান উন্নয়নে যে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে তার অনন্য উদাহরণ সখিনা ও তার দলের বর্তমান কর্মকাণ্ড।

ট্যাবের মাধ্যমে তারা নিয়মিত বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ওয়েব বিশ্বে ঢুকে অর্জন করছেন নানা অজানা জ্ঞান। আবার তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সচিত্র প্রতিবেদন ফেসবুকে আপলোড করছেন নিয়মিত। এরই মধ্যে সখিনাসহ দলের বেশ কয়েকজন সদস্য রংপুর জেলার সফল গাভীর খামার ও জাতীয় পর্যায়ের দুগ্ধ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান (যেমন আরডি, প্রাণ) ভিজিট করেছেন।

উক্ত খামারীদের সঙ্গে কথা বলে গাভীর  যত্ন, বাসস্থান, চিকিৎসা, খাদ্য ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিশদ জানতে পারেন তারা।  কাঁচা ঘাস ও খড় খাওয়ানোর পাশাপাশি দানাদার খাবার, যেমন গমের ভূষি, কালাইয়ের ভূষি, ছোলার ভূষি, খৈল, ফিড, লবন পরিমাণ মতো ও নিয়মিত খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও জানেন।

আরও জানতে পারেন, কীভাবে এবং কেন নিয়মিত গাভীকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হয়, দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি ও গাভীর স্বাস্থ্য ভালো থাকার কারণ।

কিন্তু অভাব যাদের  নিত্যসঙ্গী, নিজের পেটের ভাত জোটাতে অষ্টপ্রহর খাটতে হয়, তারা গরুকে/গাভীকে এসব দানাদার খাবার কীভাবে খাওয়াবে! দলের সদস্যরা কেউ কেউ কাউনিয়া বাজার হতে দানাদার খাদ্য এনে খাওয়াতে শুরু করেন। কিন্তু বাজার দূরে হওয়ায় নিয়মিত সবার পক্ষে আনা সম্ভব হয় না। এছাড়া  টাকা জোগাড় করে একজন নারীর পক্ষে সবসময় বাজারে যাওয়াও সম্ভব হয় না। তাই কাজের সুবিধার্থে  দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়।  

আর এ কারণেই তালুক শাহাবাজ গ্রামে সীড সংস্থার বাস্তবায়নে ফোডার ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এবং বন্যা, খরাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেন এখানে কাজ মজুত থাকে এবং নারীরা যাতে সহজে হাতের কাছে দানাদার খাদ্য পায়, সে লক্ষ্যে ফোডার ব্যাংক পরিচালনার নীতিমালা তৈরি হয়। নীতিমালা  অনুযায়ী একজনকে বিতরণকারী হিসাবে নিয়োগ করা হয়।

সবার সম্মতিতেই সখিনাকে সেই দায়িত্ব দেয়া হয়। আগে গাভী পালন করতেন দেশী জাতের। নদীর চরে প্রাকৃতিক ঘাস ও সামান্য খড় খাওয়ানো হতো। বর্তমানে নদীর  চরগুলো আবাদের আওতায় আসায় সেখানে আর গাভীর ঘাস পাওয়া যায় না। জীর্ণ-শীর্ণ গাভীগুলো যত্নের অভাব, অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান, অপুষ্টিজনিত কারণে দেশী গাভীগুলোর দুধও কমে গিয়েছিল। এক লিটারের বেশি দুধ পাওয়া যেতো না।

প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে উৎপাদক দলের সদস্যরা এখন উন্নত পদ্ধতিতে গাভী পালন শুরু করেছে।

সীড রি-কল প্রকল্পের সমন্বয়কারি মারিয়া সরকার বলেন, ফোডার ব্যাংক ধারণা অনুযায়ী প্রথমত সংস্থা হতে এককালীন ১০ বস্তা কুড়া, খৈল, খুদ, ফিড, ডিজিটাল বাটখারা, এবং নগদ ৩০০০ টাকা দেয়া হয়। যেহেতু প্রাকৃতিক ঘাসের সুযোগগুলো কমে যাচ্ছে, তাই উন্নত হাইব্রিড নেপিয়ার, সুইট জাম্বু ঘাসের বীজ ০৫ কেজি প্রদান করা হয়। হিসাব রাখার জন্য ক্যাশ বই, লেজার বই, ক্যালকুলেটর দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, কাউনিয়া প্রাণী সম্পদ ডিপার্টমেন্টের সার্বিক সহযোগিতায় গাভীর বয়স, উচ্চতা, গর্ভকালীন খাদ্য খাওয়ানোর নিয়ম কানুনগুলো কখনো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, কখনো ফোডার ব্যাংক ভিজিটের মাধ্যমে উৎপাদক দলের সদস্যদের জানানো হয় এবং উক্ত খাদ্যগুলো বাজার দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। সদস্যরা হাতের কাছে স্থাপিত ফোডার ব্যাংক হতে সহজেই খাদ্য কিনে নিয়ে যান। কখনো টাকা না থাকলে দুধ কালেকশন সেন্টারের জমাকৃত টাকা থেকে খাবারের দাম এডজাষ্ট করা হয়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে  দেখা গেছে আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশী গাভীর বদলে ক্রস গাভীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ছোট ছোট খামার গড়ে উঠেছে, খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। দৈনিক ১০০ কেজি কুড়া, ০৫ কেজি খৈল, ২৫কেজি ফিড, ভুষি ৫০কেজি, খুদ ৫ কেজি বিক্রয় হয় বলে  সখিনা জানান। এখন তার ফোডার  ব্যাংক থেকে প্রতি মাসে ৬৬০০ টাকা আয় হচ্ছে।  আয়ের কিছু অংশ জনতা ব্যাংক জমা রাখেন, আর বাকি টাকা দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো পরিবার ও সংসারের জন্য খরচ করেন সখিনা।

শুধু  সখিনা বেগম নয়, পরিকল্পিত গাভী পালন সদস্যদের সকলের ভাগ্যে পরিবর্তন এনেছে।  নিজেদের যা হোক না কেন  তারা সকলে সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে বর্তমানে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।  

মর্জিনা বেগম:

স্বামী হাবিবুর রহমান এবং এক মেয়ে শাপলাকে নিয়ে মর্জিনার (২৮) সংসার। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের শাব্দী গ্রামে তিস্তা নদী সংলগ্ন চরে এক টুকরা জমিতে মর্জিনার বেগমের সংসার । সম্পদ বলতে একটি গাভী আর কয়েকটি হাস মুরগী। মূলতঃ দিনমজুর স্বামীর আয়ে চলে সংসার। কিন্তু প্রায় হাবিবুর  অসুস্থ থাকায় প্রায় অভাব অনটন লেগে থাকে সংসারে। কিন্তু কাজের মাধ্যমে ভাগ্যের উন্নয়ন করবেন তেমন কোন কাজও জানা নেই তার। তাই একমাত্র ভরসা গাভীর দুধ বিক্রি করে টাকা উপার্জন। কিন্তু গ্রামে তার দুধ বিক্রি করার সুযোগ তেমন নেই। যদিও দুধ বিক্রি করা হয় তাহলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সম্ভব হয় না।

কিন্তু এতো সহজে হারতে নারাজ মর্জিনা। তিনি গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখলেন এ ধরনের সমস্যা শুধু একা তার নয়। অনেকে একই সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন। ফলে দুধ বিক্রির টাকায় সংসার খরচ চালানো দূরের কথা দানাদার খাবার কিনে গরুকে খাওয়ানোর টাকা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সীডের রিকল প্রকল্পের অধীনে মর্জিনা বেগম যখন শান্ত  গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের দুগ্ধ উৎপাদক দলের সদস্য হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে এর সুফল পেতে থাকেন।

বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশহগ্রহণ করেন, যেমন: গাভীপালন ও খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা, ব্যবসায় পরিকল্পনা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইত্যাদি। মর্জিনা বেগম যখন তার সিবিওতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমেই তিনি  ওই দলের যাদের গাভী  আছে তাদের সবাইকে নিয়ে একটি গাভী দল গঠন করেন। দলের সদস্য সংখ্যা  ৫০ জন।  

মর্জিনা তখন গাভী  দলের প্রত্যেক সদস্যকে  বিভিন্ন প্রশিক্ষণ করান। এতে সদস্যরা গাভীর জাত উন্নয়ন থেতে শুরু করে দুধ উৎপাদন বাজারজাত করণ বিভিন্ন বিষয়ের উপর জ্ঞান অর্জন করেন।  বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের পর গাভী দলের সদস্যরা শান্ত দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে দুধ দেয়া শুরু করেন।  

২০১৪ সালে ১০ জন সদস্যের দুধ দেয়ার মধ্য দিয়ে এই কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। দুধের  পরিমাণ ছিল ১৩ লিটার। মর্জিনা বেগম  প্রাণী সম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে গরুকে ভ্যাকসিন দেয়া এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়নের বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে অন্য সদস্যদের আগ্রহী করে তুলেন। এরই মধ্যে মর্জিনা বেগম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি দুগ্ধ ব্যবসায়ের ট্রেড লাইসেন্স করিয়েছেন। যখন মর্জিনা বেগম তার ব্যবসা শুরু করেন, তখন তার আয় ছিল মাসিক ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। মর্জিনা বেগমকে সীড রি কল প্রকল্প থেকে কিছু আর্থিক সহোযগিতা করা হয় দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য। প্রতিদিন তার কেন্দ্র সদস্যদের ১৫০ লিটার দুধ এবং প্রতি মাসে ৪৫০০ লিটার দুধ সংগৃহীত হয়। দুধ কালেশন কেন্দ্র থেকে সে প্রতিদিন রংপুর ডেইরী, প্রাণ মিষ্টির দোকান ইত্যাদি জায়গায় বিক্রি করা হয়। প্রতি মাসে সে দুধ বিক্রয় করে ৭৫০০ টাকা আয় করেন।

মর্জিনা বেগম দুধ ব্যবসায় লাভ করার ফলে তার ব্যক্তিগত জীবনযাপনই পাল্টে গেছে। তিনি বলছিলেন, “দুধ কেন্দ্র থেকে আমি আমার নিজের আয় বাড়িয়েছি, আমার সাথে জড়িত নারীরাও দুধের ন্যায্য দাম পেয়ে নিজেদের পছন্দ মতো টাকা খরচ করতে পারছেন।”

সীড রি-কল প্রকল্পের সমন্বয়কারি মারিয়া সরকার বলেন, আগে গাভীর উৎপাদিত দুধের ন্যায্য মূল্য পেত না ওই এলাকার নারীরা। পরে তারা প্রকল্পের মাধ্যমে একজোট হয়ে তাদের উৎপাদিত দুধ বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যবসায়িদের কাছে বিক্রি করা সুযোগ পেয়েছে। এতে দুধের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকায় বিগত পাঁচ বছরের বন্যা বিবেচনা করে যাতে এলাকার গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এজন্য গাভীর আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। যেখানে এক সঙ্গে ২শ গরু রাখা সম্ভব। এ সুবিধা সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার যে কোন গরু পালনকারি বিনামূল্যে ভোগ করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, মোট ৫ টি গ্রুপকে ট্যাব দেয়া হয়েছে। যাতে আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এই গ্রুপের কাছেও একটি ট্যাব আছে। নিয়মিত ট্যাব ব্যবহারের ফলে গ্রুপের বিভিন্ন সদস্যদের আত্মবিশ্বাসও আগের চেয়ে বাড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

মাজেদা বেগম এখন সব জানেন

মাজেদা বেগম  গত বছর ভুট্টার ভালো ফলন পেয়েছেন। ৩০ শতক জমিতে প্রায় ৩৫ মন ভুট্টা বিক্রয় করেছেন ১৫,৭৫০ টাকায়। লাভ হয়েছে ৪৭৪৭ টাকা।  এ বছর ৪০ শতক জমিতে ভূট্টা আবাদ করেছেন। কিন্তু কয়েক বছর আগেও  মাজেদা বেগম জানতেন না অল্প জমিতে কিভাবে বেশী ফসল উৎপাদন করা সম্ভব, কী পরিমাণ সার, কীটনাশক, পানি ব্যবহার করতে হয়,  কিন্তু এখন তিনি এগুলো জানেন।

এদিকে মাজেদার সাফল্য দেখে  অনেকেই এখন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মাজেদা বেগম এখন দলের অন্যান্যদেরকে  হাইব্রিড ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন, এবং সংগঠনের সকলে যাতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর এর সাথে যোগাযোগ করতে পারে সে বিষয়ে পরামর্শও দিচ্ছেন। ফলে অনেকেই সনাতনী প্রথা ছেড়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।

মাজেদা বেগম জানান, রী-কল প্রকল্পের কর্মীর হাত গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের উংপাদক দলের সভাপতি হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন। কারণ উক্ত সংগঠনের মাধ্যমে তিনি চাষাবাদ এর ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে লাভবান হতে পেরেছেন। কৃষি অফিসের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সব ধরনের পরামর্শ পাচ্ছেন। সংসারে আয় বেড়েছে। মাজেদা বেগম এখন আর নিজেকে দুর্বল ভাবেন না, নিজেকে একজন ভাল কৃষক দাবি করেন ।

মাজেদা বেগম বলেন, তাদের সংগঠনও একটি ট্যাব পেয়েছে। এখন তারা নিয়মিত ওয়েব সাইটে প্রবেশ করার কৌশল রপ্ত করেছেন। ফলে দেশ বিদেশের আধুনিক কৃষি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া যে কোন কৃষি তথ্যের জন্য ২৭৬৭৬ এবং ০৯৬১২০০০৭৭৭ নম্বরে ছব্বিশ ঘন্টা মিসড কল দিলেই পাচ্ছেন কৃষি সংক্রান্ত যে কোন তথ্য। #

লেখাটি ২৬৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.