পাহাড়কে ‘ভালবাসা’র প্রমাণ দিন এবার

0

তনয়া দেওয়ান:

কোন পাহাড়ি বা বাঙালি হিসেবে নয়,  আপনি যদি নিজে বাংলাদেশের সচেতন ও বিবেকবান নাগরিক হিসেবে লংগদু ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্যায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চান, তাহলে ১৬ই জুন, ২০১৭ ইং শান্তিপূর্ণ নাগরিক সমাবেশে দেখা হচ্ছে আপনারই সাথে রাঙামাটিতে।

পাহাড়ের সৌন্দর্য্যে অনেক তো মাতোয়ারা হয়েছেন, পাহাড়ে এসে সেলফি তুলে ফেসবুকে অনেক তো আপলোড দিলেন, ‘লাভ ইউ’ বা ‘ভালোবাসি পাহাড়’কে বলে অনেক তো গলা ফাটিয়েছেন,  এবার তাহলে দেখা যাক হাতে গোনা কয়জন আছে,  যারা শুধু পাহাড়ের সৌন্দর্য্যকে নয়, পাহাড়ের জলবায়ু, মা ও মাটিকে ভালোবেসেছেন,  এই পাহাড়কে আঁকড়ে ধরে বেচেঁ থাকা মানুষগুলোকে কজন ভালোবেসেছেন, লোক দেখানো পিরীতি ছাড়া যারা পাহাড়কে সত্যিকারের ভালোবেসেছেন, আশা করি তাদের সাথেই দেখা হবে।

আমার সাথে পাশে অনেক বাঙালি বন্ধু-বান্ধবী আছেন, যারা পাহাড়ের অনেক গুনগান গান, আজ পাহাড়ের নির্যাতিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরও একবার সুযোগ দিন আপনাদের গুনগান গাওয়ার।

পাহাড়ে গিয়ে নিশ্চয়ই অনেক দিদি-দাদার আমন্ত্রণে তাদের বাসার আতিথেয়তা পেয়েছেন, হয়তো ভেবেছেন একদিন সময় সুযোগ বুঝে তার আতিথেয়তার প্রতিদান দেবেন, সময় এসেছে তাদের আতিথেয়তার প্রতিদান দেওয়ার, না…. , আতিথেয়তা দিয়ে নয়,  তাদের উপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদ করে, 
যদি প্রতিদান দিতে চান তাহলে চাকমা রানী ইয়ান ইয়ান এর এই ডাক আপনারই জন্য ( রানী ইয়ান ইয়ান এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত)

 “স্থানঃ রাজবাড়ি রোড-এর সামনের মার্কেট এর ডানে বাঁয়ে সবখানে
সময়: সকাল ৮-৩০

এটি পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর সিস্টেম্যাটিক নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ, এটি অন্যায় এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান, এটি মানবতার চেতনার পক্ষে আমাদের ন্যায়সঙ্গত দাবী।

এই সমাবেশের কোন অরগানাইজার নাই। আমি আহ্বায়ক মাত্র। তাই শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের যার যার নিজের।

কোন মঞ্চ থাকবে না যেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বসবেন/ দাঁড়াবেন, তাই মঞ্চের সামনের দিকে থাকার চিরাচরিত প্রচেষ্টা করে লাভ হবে না। রাঙ্গামাটির রাস্তা আমাদের মঞ্চ। আমরা, আপনারা প্রত্যেকেই সেই মঞ্চে উপবিষ্ট বিশিষ্ট নাগরিক।

তবে খেয়াল রাখবেন, যানবাহন চলাচলে যেন বিশেষ ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়।   

কোন উগ্র জাতীয়তাবাদী শ্লোগান ও সহিংসতার আহ্বান চলবে না। প্রতিরোধের, প্রতিবাদের, চেতনার আওয়াজ তুলুন।

প্রত্যেকে আলাদা আলাদা করে প্ল্যাকার্ড ধরার চেয়ে কয়েকজন/অনেকজন মিলে লম্বা কাপড়ে যা বলতে চান লিখে আনতে পারেন।

ইংলিশ-এ লেখা প্ল্যাকার্ড/ব্যানার-ও অনেক পরিমাণে আশা করছি।

আমার ব্যক্তিগত একটি ইচ্ছে আপনারা চাইলে পূরণ করতে পারেন। কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে, দেয়ালে আমি  বেশ কয়েক হাত লম্বা ব্ল্যাঙ্ক সাদা ব্যানার/কাপড় টাঙিয়ে রেখে যাবো। লেখা থাকবে- জনতার ক্যানভাস। আপনারা লিখবেন আপনারা যা বলতে চান। কোনো গ্রামার মেইনটেইন করার প্রয়োজন নেই- ডানে, বাঁয়ে, সোজা, কোণাকুণি যে যেভাবে খুশি মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবেন।
 
যারা লিখতে চান, পার্মানেন্ট মার্কার সাথে করে নিয়ে আসবেন। যারা যারা লিখতে চান, তাদের সবাইকে লেখার সুযোগ করে দিবেন আশা করি। 

যদি আজকের কোনো সময় হতে অথবা আগামীকাল আমাকে খুঁজে না পান, বিচলিত হবেন না।

সংহতি।”

বি:দ্র: ইহা কোন রাজনৈতিক সমাবেশ নয়,  ইহা একটি সম্পূর্ণ নাগরিক সমাবেশ। তারপরও ১৬ তারিখ রাঙামাটিতে কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে যারা ভয় পাচ্ছেন, তাদের উদ্দশ্যে বলবো, একবার ভাবুন এবং অনুভব করুন, এই শান্তিপূর্ণ নাগরিক সমাবেশে যদি আপনি ভয় পান, তাহলে লংগদুতে যাদের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়েছে, প্রাণভয়ে যারা পালিয়েছে, তারা কী পরিমাণ ভয় আর আতংকে ছিলেন…..  এরপরও যদি আপনার বিবেকের দরজা না খুলে তাহলে কবিগুরুর ভাষায় বলতে হবে,
 
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে “

লেখাটি ৬,৭২৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.