কড়া নির্দেশ, দুই ঈদই শ্বশুর বাড়ি করা চাই

0

রামিছা পারভীন প্রধান:

আমার খুব ইছে করে শাড়ি পড়ে রেললাইনের উপর খালি পায়ে হাঁটতে, সমুদ্রের পানিতে শাড়ি পরে পা উঁচু করে হাঁটতে, কোন নির্জন জায়গাতে পাশাপাশি দুজন হাত ধরে হাঁটতে, এই রকম অনেক ইচ্ছাগুলো অনেকদিন ধরে মনের মধ্যে লালন করছি, মুখ ফুটে বলতে পারি না, কারণ আমার পাশের মানুষটির ইচ্ছাগুলো যে আমার মতো হবে, তা নাও হতে পারে, আবার বলতে পারে, এই বয়সে ভীমরতি ধরেছে। আমার মনে হয় অনেক মেয়ের সৌখিন কিছু স্বপ্ন থাকে, যা সবসময় সুপ্ত থাকে আর বাস্তবায়ন হয় না।

আমার পরিচিত একজন আছেন, আমার বয়সী, উনি চাকুরিজীবী, সবসময় চান যে উনার স্বামীকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসতে, দেশের মধ্যে কিংবা দেশের বাহিরে, সমস্ত খরচ উনি বহন করবেন, তারপরও উনার স্বামী রাজী হচ্ছে না, ইচ্ছে নেই, সময় নেই, ছুটি পাবে না, কত কথা বলে আর যাওয়া হয় না। কিন্তু ওই মেয়েটির মধ্যে সারাক্ষণ ইচ্ছাগুলো ঘুরপাক খায়। এই রকম করতে করতে একদিন সময় চলে যাবে, ইচ্ছাগুলো মরে যাবে, হয়তোবা আশায় আশায় থাকবে।

আর একজন মেয়ে আছেন, যে সকাল থেকে তাঁর স্বামীকে বলতেছে এই চলো না আজকে ছুটির দিনে, বিকেলে একটু বাইরে ঘুরে আসি। স্বামী হ্যাঁ অথবা না কিছুই বলে না, তারপরও মেয়েটি মনের মধ্যে আশা নিয়ে ভাবছে, বিকেলে কোন শাড়িটা পরবে, কোন টিপটা পরলে ভালো লাগবে ইত্যাদি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হচ্ছে, কিন্তু স্বামী ঘুমিয়ে আছে। ডাকলে বলে ছুটির দিনে একটু ঘুমাতে দাওতো। আমার ভালো লাগছে না, আমি যেতে পারবো না। আহারে সব আশা ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল শুধু স্বামীর একটু সময়ের অভাবে।

আজ সারাটা দিন অর্পিতা ( ছদ্মনাম) অনেক রান্নাবান্না করেছে মনের আনন্দে, কারণ আজকে তাঁর জন্মদিন, বিকেলে বা সন্ধ্যায়ে হয়তো তার স্বামী তাকে সারপ্রাইজ  দিয়ে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবে, কিন্তু না বিকেল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে রাত,  তারপর অপেক্ষার পালা শেষ, স্বামী বাসায় ঢুকেই বললো, এই তাড়াতাড়ি খাবার দাও, অনেক ক্ষুধা লেগেছে। তারপর খাবার টেবিলে এতো খাবার দেখে বলে, আজকে কোনো বিশেষ দিন নাকি, তখন মনে পড়ায় বলে সরি, তুমি আগে বললে না।

অধরা (ছদ্মনাম) ও তার স্বামী দুজনই জব করে, তাদের দুটি সন্তান আছে। বিয়ের পর দুজন দুজনকে দিনে কয়েকবার ফোন দেয়াদেয়ি করতো। এখন সারাদিনেও তাদের তেমন কোনো কথা হয় না, খুব প্রয়োজন ছাড়া কথা হয় না। সে সবসময় তাঁর স্বামীকে ফোন দেয়, আক্ষেপ করে যদি বলে ফোন দাও না কেন, বলে অনেক ব্যস্ত থাকি। এখন আর সে ফোনের অপেক্ষায়ে থাকে না, নিজেকে বলে দিয়েছে, শক্ত হও মেয়ে তুমি। তবে সে নিজে ফোন দেয় মাঝে মাঝে, কারণ সংসার জীবনটা একটা গাছের মতো, গাছের পরিচর্যা জন্য যেমন পানি দিতে হয়, তেমনি সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্য তেমনি পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।

আমি বিয়ের পর কয়েকবার বলতে এক ঈদ বাবার বাড়ি আর এক ঈদ শ্বশুর বাড়ি করতাম। অবশ্য এটা সম্ভব হয়েছে আমি চাকুরী করতাম বলে, আর ঈদেই ছুটি পেতাম বলে যাওয়া হতো। আমার এক পরিচিতা বলতো, তার ওপর কড়া নির্দেশ, দুই ঈদই শ্বশুর বাড়ি করা চাই, আমি তো আর আপনার মতো জব করি না যে, ছুটির অছিলায় বাপের বাড়িতে ঈদ করতে যাবো।

বিয়ের পরে সন্তান, সংসার হয়ে গেলে কি মেয়েদের শখ আহ্লাদ বলে কিছু থাকতে নাই? সন্তান যখন বড় হয়ে যায়, বয়সের সাথে সাথে তখন সংসারের প্রতি এমনই মেয়েরা ডুবে যায়, কোনো ইচ্ছাই তাকে আর ছুঁতে পারে না। ভেবে দেখুন একটা মেয়ে তার বাবার বাড়ির সবকিছু ছেড়ে আপনার সংসারে থিতু হয়েছে, আপনি তার সবচেয়ে আপন, আপনার হাত ধরে সে বাকিটা পথ হাঁটতে চায়, তাই সময় থাকতে মেয়েদের এই ছোট ইচ্ছেগুলোকে দাম দেওয়া হলে পরবর্তীতে সংসার জীবনটা আর  অনেক সুন্দর হতে পারে।

লেখাটি ৯,৩৬৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.