যৌতুকের বলী এবার আইআইটি গ্র্যাজুয়েট 

0
তামান্না ইসলাম:
১.৩ বিলিয়ন লোকের দেশ ভারতের  প্রযুক্তি খ্যাত সবচেয়ে সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয় হলো আইআইটি। বিশ্বের যে কোনো নামী, দামী, শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চোখ বুঁজে পাল্লা দিতে পারে এই আইআইটি। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানে যে সংখ্যক ছাত্রছাত্রী আবেদন করে, তার মধ্যে মাত্র ২% ভাগ আবেদনকারী এখানে ভর্তি হবার সুযোগ পায়। যেখানে আমেরিকার হার্ভার্ডেও ৫% আবেদনকারী ভর্তির সুযোগ পায়।
হাজার হাজার, লাখ লাখ বাবা-মা আর তাদের সন্তানদের স্বপ্ন এই আইআইটি। হাজারো প্রতিযোগীকে ডিঙ্গিয়ে, ক্ষুরধার মেধা আর অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রমাণ দিয়ে আইআইটিতে ভর্তি হয়েছিল মনযুলা দেভাক। তাকে নিয়ে বাবা, মায়ের, পরিবারের চোখে ছিল কতোই না স্বপ্ন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী মনযুলা সেদিন জানতো না ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার কাছে তার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তার নারী পরিচয়। আর এই পরিচয়ই তাকে টেনে নেয় এক  ভয়ানক পরিণতির দিকে। 
সাফল্যের সাথে গ্র্যাজুয়েশন করে পিএইচডি শুরু করে মেয়েটি। ইতিমধ্যে বাবা, মা তার বিয়ে ঠিক করে কোষ্ঠী বিচার করে। গ্রহ, নক্ষত্রের হিসাব অনুযায়ী এক দারুণ সুপাত্রের হাতে মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পেরে বাবা, মা ভীষণ খুশি। কিন্তু তাদের এই খুশি বেশিদিন টিকলো না। পাত্র পক্ষ ২০ লক্ষ রূপী যৌতুক চায় বিয়ের পরে। এবং পাত্রের দাবী মনযুলা চাকরি করতে পারবে না। ভাবা যায়?
একজন আইআইটি গ্র্যাজুয়েট যে পিএইচডি করছে, সে চাকরি করবে না স্বামীর আবদারে? মেয়েটির বাবা-মা যখন তাদের ভুল বুঝতে পারে, তারা মেয়েকে ডিভোর্স দিতে বলে। আশ্চর্যজনকভাবে বেঁকে বসে মনযুলা। ডিভোর্স দিলে সমাজ তাকে কী চোখে দেখবে? তার পরিবারের মান-সম্মান নষ্ট হয়ে যাবে। কেন এতো উচ্চ শিক্ষিত একটি মেয়ে আজও ভাবে যে যৌতুকের দাবিতে, নিজের আত্মসম্মান বাঁচাতে ডিভোর্স দিলে তার পরিবারের মান সম্মান নষ্ট হবে? শেষ পর্যন্ত সে নিজেই পৃথিবী থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক দিন আগে আত্মহত্যা করেছে মনযুলা দেভাক। 
ভারতীয়  হিন্দু প্রধান সমাজ ব্যাবস্থায় যৌতুকের প্রচলন এখনো পুরো দমে  আছে।  আমার আমেরিকার অফিসে প্রচুর ভারতীয় মেয়ে কাজ করে। এরা সবাই অত্যন্ত মেধাবী এবং উচ্চ শিক্ষিত। বলা যায় এই বিপুল ভারতীয় জনগোষ্ঠীর ক্রিম। এই মেয়েগুলোর প্রায় সবার কাছ থেকেই আমি শুনেছি এদের বিয়েতে এদের বাবা, মা বিপুল অঙ্কের টাকা যৌতুক দিয়েছে, এখনো দিচ্ছে। যদিও এদের স্বামীর পরিবারও শিক্ষিত, ধনী এবং স্বামীও ভালো চাকরি করে। এটাই ওদের নিয়ম। যৌতুক, অলঙ্কার এসব ছাড়া কন্যা সম্প্রদান হবে না।
ওদিকে আইবুড়ো মেয়ে থাকলে তাতেও বাবা, মায়ের বদনাম। এই মেয়ে গুলোর দোষ কী? মেধা, পরিশ্রম কোন কিছুর বিনিময়ে এরা আজও মানুষ হিসাবে এদের সার্টিফিকেট পেলো না সমাজের কাছ থেকে। তাই আজও মনযুলারা আত্মহত্যা করে প্রমাণ করে কতো অসহায় তারা।   

লেখাটি ১,৬৭৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.