হুমকি-ধমকি দিয়ে কি ধর্মপালন হয়?

শিল্পী জলি:

সুলতানা কামালের কথার পিঠে যৌক্তিক কথায় সারা দেশ উত্তাল– হেফাজতি বক্তা হেসে হেসে ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে চব্বিশ ঘন্টা সময় দিয়েছে, সুলতানা কামালকে গ্রেফতার করে জেলে পুরতে অথবা তসলিমা নাসরীনের মত দেশ থেকে বের করে দিতে। নইলে নাকি তার হাড্ডি গোশত আলাদা করে ফেলবেন। এক কথায় সরাসরি হত্যার হু্মকি, তাও একজন নারীকে। 

ক্ষমতায় যাবার আগেই যদি এভাবে তারা নারীদের হাড্ডি-গোশত আলাদা করে ফেলতে চান, তাহলে ক্ষমতায় যাবার পর দেশের নারীদের কী দশা করবেন, সহজেই অনুমেয়! অথচ সেদিনের সেই টকশোটিতে আলোচনাটি ছিল খুবই সাধারণ এবং শান্তিপূর্ণ কথাবার্তা–কোন ধর্মীয় স্হাপনা আদালত প্রাঙ্গণে থাকবে কিনা সেই সম্পর্কিত! এমনকি হেফাজতের বক্তা লোকটিও কথাগুলো সহজভাবেই নিয়েছিল। অতঃপর তারই দলের লোক রমজানের মধ্যেও সভা ডেকে জমায়েত হয়ে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সুলতানা কামালের গ্রেফতারি পরওয়ানা দাবি করছে।

ফেবুতে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘মুসলিম দেশে সুলতানা কামাল কেন এ ধরনের কথা বললেন? সুলতানা কামাল কেন কপালে চাড়ার মত লাল টিপ পরেন– তাও রোজার দিনে? তিনি কেন রমজানে মাথায় কাপড় দিয়ে বসেন না–একটু হলেও কী সুন্দর দেখাতো না?’

এই বিশ্বজগতের অনেক লোকই বোঝেন না, একটি দেশের কোন ধর্ম নেই, ধর্ম শুধু মানুষের জন্যে। মানুষ না থাকলে কোন দেশ ধর্ম পালন করতে পারে না।

একটি দেশের জন্যে থাকতে হয় নিরপেক্ষ কিছু আইন যেনো তার জনগণ ইহকালে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, যেনো একসাথে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, যেনো মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ জন্মে।

মানুষের ধর্মীয় ভাবনা হলো তার পরকালের ভাবনা– আখেরাতের নিরাপত্তা এবং শান্তি ভাবনা থেকেই মানুষ ধর্ম চর্চায় মগ্ন হয়। সেই সাথে কেউ কেউ হয়তো আবার একটু আশাও করে যে বেশী কান্নাকাটি এবং প্রার্থনা করলে স্রষ্টা অতিরিক্ত খুশী হয়ে তার ইহকালেও বাড়তি কিছু প্রাপ্তি ঘটাবেন–সফলতা, ধনদৌলত, এবং সুখ নেমে আসবে তার জীবনে।

হেফাজতের লোকদের মধ্যেও ধর্মীয় আচারআচরণে ব্যক্তিগত লাভ এবং ইহলৌকিক ভাবনাগুলোই বেশী প্রাধাণ্য পায়। কেননা তাদের রোজগায়-রুজি-ক্ষমতা-জীবনযাপন সবই এই ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের উপর নির্ভর করে– সারাদেশে জনগণের উপর যত বেশী ধর্মীয় প্রভাব বিস্তার করা যাবে তত বেশী তাদের জীবন নিরাপদ হবে, ততই তারা সুখে থাকবে। তারা যদি শুধুমাত্র পরকালের ভাবনা থেকে ধর্ম পালন করতো তাহলে আল্লাহর দরবারের কাজ আল্লাহর উপরই ছেড়ে দিতে সক্ষম হতো।

দুনিয়াতে আল্লাহর নামে তারা যেসব কাজ করে সবই নিজের প্রভাব প্রতিপওি বিস্তার এবং ফায়দা লুটতে।

মনের সংযুক্তি ছাড়া কোনভাবেই যথাযথভাবে কোন ধর্ম পালন হয় না। তাই এখানে বাধ্যবাধকতার কোন অবকাশ নেই। সেখানে একজন মানুষ হয়ে ক্ষণে ক্ষণে অন্য মানুষের হাড়গোশত আলাদা করার হুমকি দিয়ে কীভাবে ধর্ম পালন হয়, বলা মুশকিল!

শেয়ার করুন:
  • 673
  •  
  •  
  •  
  •  
    673
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.