কী সান্ত্বনা দেবো রমা চৌধুরীদের?

Roma chowdhuri
রমা চৌধুরী

উইমেন চ্যাপ্টার: হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শবদেহ পোড়ানোতে বিশ্বাস করেন না রমা চৌধুরী। তাই তিন সন্তানকেই দেয়া হয়েছে মাটিচাপা। মুক্তিযুদ্ধের পর টানা চার বছর জুতো পড়েননি রমা চৌধুরী। এরপর নিকটজনের পীড়াপীড়িতে অনিয়মিতভাবে জুতো পড়া শুরু করলেও তৃতীয় সন্তান মারা যাবার পর আবার ছেড়ে দিয়েছেন জুতো পায়ে দেয়া। এরপর গত ১৫ বছর ধরে জুতো ছাড়াই পথ চলছেন রমা চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রমা চৌধুরী বলেন, `আমার তিন ছেলে মাটির নীচে। তাদের শরীরের উপর দিয়ে জুতা পায়ে আমি হাঁটি কী করে? আমার সন্তানদের কষ্ট হবে না ?`একাত্তরে তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল রাজাকাররা। সেই থেকে নিজেকেই হারাননি কেবল, হারিয়েছেন পেটের সন্তানদেরও। অপুষ্টি-অভাবে ওরা মারা গেছে। মা হয়েছেন সংসারহীন-গৃহহীন। কিন্তু বাংলায় মাস্টার্স করা এই মা তবুও হাল ছাড়েননি জীবনের। গেঁথে চলেছেন জীবনের নতুন শব্দ, নতুন উপাখ্যান।

তিনি এখন বইয়ের ফেরিওয়ালা। রমা চৌধুরী এখন নিজের লেখা বই ফেরি করে বিক্রি করেন। তাকে ভালবাসেন, শ্রদ্ধা করেন এমন কিছু বাঁধা গ্রাহক আছেন। তারাই রমা চৌধুরীর বই প্রথমে কিনে নেন। এ পর্যন্ত ১৮টি বই প্রকাশ করেছেন রমা চৌধুরী।

তিনি বলেন, `আমি বই বিক্রি করি। যেদিন বিক্রি করতে পারি সেদিন খাই, যেদিন পারিনা সেদিন উপোস থাকি।`

কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, `মুক্তিযুদ্ধ আমার কাঁধে ঝোলা দিয়েছে। আমার খালি পা, দু:সহ একাকীত্ব মুক্তিযুদ্ধেরই অবদান। আমার ভিতর অনেক জ্বালা, অনেক দু:খ। আমি মুখে বলতে না পারি, কালি দিয়ে লিখে যাব। আমি নিজেই একাত্তরের জননী।`
রমা চৌধুরীকে নিয়ে এই রিপোর্ট প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অনেকেই তাঁকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু তিনি একটি কথাই বার বার বলেছেন, ‘আমি কারও দয়া চাই না। পারলে আপনারা আমার বই কিনুন, আমি তাতেই চলে যাবো’।
আমরা বার বার নতজানু হয়ে যাই রমা চৌধুরীর মতোন একাত্তরের জননীদের সামনে। তারপরও তাদের সীমাহীন দুর্ভোগের উপশম করতে পারি না। এ দু:খ, এ লজ্জা আমাদের সবার। এই দায় থেকে জাতি কবে মুক্তি পাবে? আদৌ পাবে কী?

(সংগৃহীত)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.