রোহতকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সলিডারিটি

নৈরঞ্জনা:

হ্যাঁ আমার ‘কাজের মাঝে মাঝে’, ব্যক্তিগত সব দুঃখ কষ্ট হাসিকান্নার মাঝে রোহতকের দুঃস্বপ্ন ভাসে। কেন চিৎকার করি এই ‘ফিউটাইল ফেসবুকে’? কারণ আমি অসহায় এবং ফেসবুক বারংবার প্রমাণ করেছে সম্পূর্ণ ফিউটাইল নয়। আই হ্যাভ নো হাইরাইজ রুফটপ টু গো এন্ড শাউট। সো আই শাউট হিয়ার। আমার গাম্বাট মন ও মস্তিষ্কে কিছু জিনিস এঁটুলির মতো লেগে থাকে।

কেন কেন কেনই বা এত শত শত ধর্ষণের মাঝে রোহতকের ঘটনা নিয়ে এত উদগ্রীব আমি? কারণ আরেকটা নৃশংস খুন। কারণ অন্তত যে কটা মানুষ আমার পাশে থাকবেন তাঁদের হাত ধরে প্রমাণ করবো ধর্ষণ করে জীবন শেষ করে দেওয়া যায় না। হরিয়ানা রাজ্যের রোহতকে ২০ বছর বয়সী মেয়েটিকে গণধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি তারই প্রেমিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা, নৃশংসভাবে খুন করে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে। 

আমার দিকে হাত বাড়ানো যেকোনো শিশু ও ধর্ষিতার ধর্ষণের ট্রমা কাটানোর দায় আমার। সুস্থভাবে হেসেখেলে ধর্ষণের মুখে থুতু ছুঁড়ে চলেফিরে বেড়ানোর আপ্রাণ আধাসফল আধানিষ্ফল দায় নেব আমি। নেবই। আমরা একে অপরের হাত ধরে এক একটা দোপদী মেঝেন হয়ে হা হা করে এগিয়ে যাব সেনানায়কের দিকে।

তার আগে খুনের বিচার চাই। প্রাণ ছাড়া সব অর্থহীন। সঅঅব। তাই বিচার চাই দ্রুত। চার বছর ধরে ঘষ্টিয়ে ১৬ বছরের কচি ছানাকে দুদু ভাতু খাওয়ানো বিচার না। ফাঁসিও ঠিক না। ফাঁসি দিলে তো শেষ। শরীরের শিরায় শিরায় ব্লেড চালানো বিচার চাই। নির্মম বিচার চাই। হ্যাঁ ভয় পাওয়াতে হবে, কারণ সংশোধনের নেকুপুষু করে ওদের বিচি ও বাড়ায় পড়ে শুধু জাপানী তেল। ১৪ বছর জেল খেটে বেরিয়ে ধর্ষক করে পরেরদিন ধর্ষণ। মুক্তধারার গপ্প পথে ঘাটে ছড়িয়ে পড়ছেনা। পরবর্তী প্রজন্ম কে বদলাবার, সুস্থ গড়ে তোলার চেষ্টা করা যেতে পারে, কিন্তু অলরেডি ধোলাই হয়ে যাওয়া মস্তিষ্ক কে বদলাতে পারবেন না, কিছুতেই না। এখন বেঁচে থাকা নরকের কীটগুলো কেন ভাজা ভাজা হবে না ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে, হে মহান হিন্দুত্ববাদী ভারতবর্ষ?

আমাদের দেশে, হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাদের মহান ভারতবর্ষে, আপনাদের ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়ায় কোন সংহতি নেই। গরু গরু খেলুন। গরুও চাঁট মারে বাঁটে বেকায়দা চাপ পড়লে, কিন্তু আপনারা ময়ূরকান্না কাঁদুন। ছেলে মা’কে, বাপ মেয়েকে, দাদা বোনকে, স্বামী স্ত্রীকে, প্রেমিক প্রেমিকাকে মতামত না নিয়ে সব্বাই সব্বাইকে লাগান লাগান লাগান। কিংবা ক্ষমতা ও আধিপত্যের ডাণ্ডা হাতে মত দিতে বাধ্য করে, তারপরে ভালো খোকাটি সেজে লাগান। সব ফ্রাসট্রেশন উগড়ে দিন সদাউত্থিত যৌনাঙ্গে।

ওহ ইয়াহ ইয়াহ ইয়াহ স্যাডিজম!!! এনার্কি হোক এনার্কি। আর আপনারা বলুন, ‘মাস্টারমশাই আমি কিচু দেকিনি’। সলিডারিটি সলিডারিটি বক্তিমে ঝাড়েন যাঁরা, তাঁরা কই? তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি, না নেই। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সদাবিচরণ করেন এখন যাবতীয় তথাকথিত শিক্ষিত মানুষ। রিয়েল দুনিয়ার চেয়ে কিচ্ছু কম থাকেন না যতই “আই এম সো বিজি এন্ড টু ইন্তেলেকচুয়াল টু বি হিয়ার” ভাবসাব দেখান না কেন। তাঁদের অনেকের কলম ও চলে বেশ।

‘চিৎকার কর মেয়ে’ ইত্যাদি স্লোগান আবদ্ধ থেকে যায় উন্নাসিক ক্যাম্পাস আর পিঠ চাপড়ানো গণ্ডিতে। চিরুনি তল্লাশি করেও এককাঁড়ি ভাষার দেশ ভারতবর্ষে অন্তত লেখনীর প্রতিবাদটুকুও দেখলাম না। ধামাচাপা পড়ছে কি দলিত বলে?

হে আমাদের মহান বর্ণবিদ্বেষ?

ধর্মান্ধ মুসলমানের দেশ বলে খিস্তিয়ে যান বাংলাদেশকে যে আপামর ভারতবাসী, তাদের দেখে শিখতে পারেন না সলিডারিটি? হ্যাঁ, আমার অনেক বাংলাদেশী বন্ধু। দেখেছি আমি তাদের গর্জে উঠতে এক একটা ধর্ষণের প্রতিবাদে একসঙ্গে। বাংলাদেশে ধর্মান্ধতাহীন কিংবা ধর্মপালনকারী সুস্থ মানুষের অভাব নেই। জেনেরালাইজেশন আপনাদের চরম শত্রু, এইটা বুঝুন।

বাংলাদেশ ভীষণ রকম খারাপ আছে, কিন্তু বাংলাদেশের চেয়ে আমরা তেমন কিছু ভালো নেই। বরং এতো বিবিধের মাঝে ছিটকে পড়ছি আরো। আত্মসমালোচনা করুন অন্যের দিকে মধ্যমাঙ্গুলি তোলার আগে। মরুন আপনারা ক্রিকেট-ফিকেট করে। মরুন ঠুনকো আত্মাভিমানে। মরুন একে অপরকে হেয় করে। মরুন আপনার সঙ্গে আমার অন্যান্য বিষয়ে ব্যক্তিগত মতপার্থক্যকে আঁকড়ে ধরে, সহমতের জায়গা টুকুকে ভুলে যেতে যেতে। মরুন আমার কষ্টরাগ এবং অশালীন ভাষাকে আপনাদের সফিস্টিকেশন এর ঘোমটার তলা দিয়ে দেখে। আপনার নৈঃশব্দে ওঠে হিংস্রতার জয়ধ্বনি। আপনার প্রিভিলেজড লাইফ এর পরেও থাকা ভয়, ইগো এবং স্বেচ্ছাকৃত অবজ্ঞার জন্য নিজের মৃত্যুদিনে আফসোস হবে দেখে নেবেন। বোঝেন না এটা চুপ থাকার সময় নয় আর?

অনর্থক কিংবা হীনতা দেখাতে তুলনা আমি করিনা, এখন করছি কারণ দুই প্রতিবেশী দেশ এর মধ্যে দেখি চরম বিদ্বেষ, আর সে খানিক ঘোচানো আমার আরেক লড়াই। ইনফিরিওরিটি আর সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স এর মধ্যে লাইন টা খুব সূক্ষ্ম জানেন তো? আর এইটা জানেন তো আকার ও ক্ষমতায় বড় হলে আপনার কাঁধে দায়িত্ব পড়ে আরো বেশি।

আমার ভাষা ‘অসভ্য’, আমি ‘অসভ্য’; কিন্তু হে নীরবতা, আপনার সভ্যতা, ভয় ও স্বার্থপরতা অনেক বেশী ক্ষতিকারক মিলিয়ে নেবেন। বাইরের আলোর আড়ালে আপনাদের ‘সভ্য’ মিসোজিনিস্টিক ভাষার নমুনা আমার দেখা আছে। বীর্য শব্দে বীরত্ব মিশে থাকে, ঔরসে বিবাহ নামক বাধ্যবাধকতা, তাই সময়, পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী মাল বা ফ্যাদা বলতেও আমি সমান স্বচ্ছন্দ বোধ করি। আপনিও করেন। আপনি পেছন ফিরে, আমার সামনে ও পিছন আলাদা না, অন্তত সর্বতোভাবে না করবার চেষ্টায় রত থাকি। আমি ব্যক্তি বা দুর্বলতাকে আক্রমণ করি না আমার ভাষা দিয়ে, হাত ওঠাই না, কর্ষণ ও ধর্ষণ করি না সুযোগমতো।

আপনারা যারা এইখানে আছেন, বয়েস হয়েছে যথেষ্ট, তাই আপনাদের আতুপুতু করা আমার সাধ্যের অতীত। স্নেহ অতি বিষম বস্তু, এবং যাদের প্রোভাইড করি, কী বেশিমাত্রায় করি তা তারাই জানেন।

হে মাননীয়-মাননীয়া, বিশ্বাস করুন শুধু ‘লাইক’ বা ইনবক্সে আসা আপনার ভীতু নীরব সমর্থন না, আমি একটা সরব সলিডারিটি ভিক্ষা করি, ঘটে যাওয়া অন্যায়ের জন্য ইমিডিয়েট একশন। দেবেন? রাজনীতি নিয়ে আমি তেমন কিছু লিখি না মতামত দেবার মত ধুরন্ধরতা রাখিনা বলে। ধর্ষণ ও খুন খুব কঠিন বিষয় কি? লিখবেন সবাই মিলে? করবেন আপিল? ছড়িয়ে দেবেন একে অপরের চিৎকার? একটু ‘আমরা’ হবেন ‘আমি’ ছেড়ে প্লিজ?

আমাকে নির্বাসিতা বাংলাদেশি তসলিমার কাছে কেন বাড়াতে হয় দুর্বল হাত? আমি আবারো লিখব তসলিমা কে কেউ না লিখলে, না চিৎকার করলে একাই করবো চিৎকার, কারণ মায়ে আমারে অন্যায় দেইখ্যা চুপ থাইকতে শিখায় নাই, না তো আমি শিখসি স্বোপার্জিত বিদ্যা অভিজ্ঞতা ও আইডিওলজি দিয়া।
বাঁচতে চাইছি শুধু।

বাবুরাম সাপুড়ের সাপ হয়ে আর কতকাল রবে বল ভারত রে?
নরক যদি কোথাও থেকে থাকে তো, উ হামিন অস্ত, উ হামিন অস্ত, উ হামিন অস্ত…
কেন চিৎকার করে ওঠেনা তবে গোটা দেশ আমার?
#StandAgainstRohtakBrutalKilling
#JusticeForRohtakRapeAndKilling

~ India’sDaughter নৈরঞ্জনা

রোহতকের ধর্ষণ ও হত্যা খবরের লিংকটি দেখুন:

http://www.hindustantimes.com/india-news/rohtak-gangrape-woman-s-skull-shattered-sharp-objects-inserted-into-private-parts/story-mirOyoS5MyrbIHJgIE5NbK.html

শেয়ার করুন:
  • 138
  •  
  •  
  •  
  •  
    138
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.