অতীত মনে রাখুন প্লিজ!

0
মালবিকা লাবণি শীলা:
আচ্ছা বলুন তো, বিখ্যাত লোকেদের ব্যক্তিগত কেচ্ছা কাহিনী এতো জনপ্রিয় হওয়ার কারণ কী? একই ঘটনা অথবা তার চেয়েও চমকপ্রদ ঘটনা কি সাধারণ মানুষের জীবনে ঘটে না? অবশ্যই ঘটে, কিন্তু রাম-শ্যাম-যদু-মধুর কাহিনী কে শুনতে চায়!
কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো রুচি আমার হয়ে ওঠেনি। কিন্তু কারো কোনো ঘটনা যদি খবরের কাগজ পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে সেটা নিয়ে তো যে কেউ কথা বলতে পারে।

আমাদের দেশের যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন মানুষেরা একত্রিত হোন শাহবাগে। কে সেখানে গাঁজা খেলো সেটা নিয়ে একজন সাংসদের কি দলের ছেলেদের উস্কানি দিয়ে কথা বলা মানায়? আচ্ছা বুঝলাম, গাঁজার প্রতি তাঁর বিপুল ঘৃণা! কিন্তু একজন নারী হয়ে তিনি যখন অন্য একজন নারীকে পাবলিক পোস্টে হেয় করতে থাকেন, সেটা কি মেনে নেয়া যায়? মাননীয়া সাংসদ সম্ভবত তাঁর নিজের জীবনের সেই চরম দুঃসময়ের কথা ভুলে গেছেন, যেদিন তাঁর পাশে শুধুমাত্র নারীবাদী সংগঠনগুলোই দাঁড়িয়েছিলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নব্বইয়ের শুরুর দিকে ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপ ছিলো,
১) গোপালগঞ্জ
২) বরিশাল
৩) থার্ড ওয়ার্ল্ড (মন্টু গ্রুপ)

আলোচ্য সাংসদ ছিলেন থার্ড ওয়ার্ল্ডের সদস্যা। ১৯৯২ সালের ৯ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্যাম্পাসে আসেন। টিএসসি চত্বরে (এখন যেখানে রাজু ভাস্কর্য) তিনি ভাষণ দেন। সেই সময় থার্ড ওয়ার্ল্ডের কিছু ক্যাডার মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাদলকে শামসুন্নাহার হলের সামনে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যার কারণে মন্টুকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরে বিএনপি থেকে এসে অভি যোগ দেয় ছাত্রলীগে। সেই অভি গ্রুপের ছেলে সজলের বিরুদ্ধে আমাদের আজকের সাংসদ শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন। ধর্ষকদের সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে ছাত্রলীগের অবস্থা তখন শোচনীয় হয়ে যায়, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এটা নিয়ে নিউজ হয়। এই সাংসদের পক্ষে সমস্ত নারীবাদী সংগঠন তখন সোচ্চার হয়ে ওঠে।

কাল খুব বেদনার সাথে আমি দেখলাম, এই সাংসদই আর একটি মেয়েকে কীভাবে তাঁর পাবলিক পোস্টে অসভ্য লোকজনের হাতে ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ মজা নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি কটুক্তিসহ মেয়েটির ছবি নিয়ে কমেন্ট বক্সে হায়েনাদের সামনে ছেড়ে দেন।

মাননীয়া সাংসদ, আজ আপনি যে সচেতন মানুষদের দেখলেই পুলিশে খবর দিতে বলেছেন, যে মেয়েটিকে এভাবে অপমান করেছেন, আপনি কিভাবে ভুলে গেলেন, আপনার দুঃসময়ে এরাই আপনার পাশে দাঁড়িয়েছিলো! কমেন্টের বহর দেখে তো বুঝতেই পারছি মানুষের রুচি আর নৈতিক চরিত্র কোথায় গিয়ে নেমেছে!
আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি কাল যে কোনো মেয়ে অপমানিত হলে তার পাশে আপনার কথা মতো এই গাঁজাখোরেরাই কিন্তু দাঁড়াবে। আপনারা দাঁড়াবেন না। মেয়েদের পোশাক নিয়ে আপনার নিজের মন্তব্যই এটা স্পষ্ট বলে দেয়।
লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৯৮৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.