সন্তান বড় হোক আপন মহিমায়

0

শিরিন ওসমান:

আপনার সন্তান আপনার সবচেয়ে আদরের ধন। ও হাসলে আপনি হাসেন। ওর কষ্ট হলে আপনি কষ্ট পান। :সন্তানের মঙ্গল চিন্তায় আপনি অধীর থাকেন। এই অপত্য স্নেহের বন্ধনে আপনার জীবন আবর্তিত হয়। মায়েদের বলছি, আপনার শিশুকে লালন করার দায়িত্ব আপনাকেই করতে হয় বেশী। আপনি চাকুজীবী মা কিংবা গৃহিনী মা যাই হোন।

সন্তান বড় করার দায়িত্ব সব থেকে কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। শিশু অবস্থায় থেকেই বোঝা যায় অনেকটা আপনার সন্তানটি কেমন হবে? শিশুরা দুষ্টুমি করবে এটা স্বাভাবিক। বদ্ধ ঘরে শিশু হাতের কাছে যা পায় তা নিয়েই খেলতে থাকে। আপনার সাধের অনেক জিনিষ, যেগুলো আপনি অনেক যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছেন, দেখবেন আপনার শিশু খেলতে গিয়ে সেটি চুরমার করে ফেলেছে।

আমাদের শহরের বদ্ধ পরিবেশে শিশুরা বেশী দুরন্ত হয়। আমি দেখেছি গ্রামের শিশুরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করে। নাওয়ার সময় নায়। খাওয়ার সময় খায়। মা তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মা এক হাতে গেরস্তালি কাজ করে যান। রান্নার কাজ তো মামুলি। ধান সেদ্ধ করা, শুকাতে দেয়া, ভুট্টা ছাড়ানো ইত্যাদি অনেক কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ওই সময় হয়তো একজন সাহায্যকারী থাকে। এর মাঝেও সন্তানের দিকে মায়ের নজরদারি থেমে থাকে না।

শহরের বদ্ধ পরিবেশ। খেলতে পাঠাবেন, তার উপায় নাই। আপনাকে সাথে যেতে হবে। কিন্তু আপনি তখন কাজে বন্দি। শিশুর কাছে ঘরটি খেলার মাঠ হয়ে উঠে। ঘরে শিশুকে খেলার সুযোগ করে দিন। কম আসবাব ব্যবহার করুন। ঘরে ডেকোরেশন ডিসপ্লে নাইবা করলেন। ওরা দেখবেন নিজ থেকে খেলা বানিয়ে নেয়। পাশের বাড়ির শিশুদের আমন্ত্রণ করুন। ওরা হল্লা করুক। মনে রাখবেন শিশুদের সঙ্গী শিশুই হয়। সময় করে শিশুকে পার্কে নিয়ে যান। ওরা ছুটাছুটি করুক।

আপনি যখন বাজারে যান শিশুকেও সাথে নিন। ও তখন অবাক হয়ে বাজারের দৃশ্য দেখবে। একটু বড় শিশুর হাতে বাজারের ট্রলি ধরিয়ে দিন। সে খুশী মনে কাজটি করবে। শিশুরা যখন পয়সা চিনে ফেলে, তখন তাকে অল্প টাকা দিন এবং বলুন, এই তোমার বাজেট। এর মাঝে যেটা তোমার ভাল লাগে সেটা কিনো। খাবার জিনিষ হলে date over কিনা সেই বিষয়ে সতর্ক থেকে যেন কিনে। কখনো শিশু বায়না ধরে দামী গাড়ী, দামী পুতুল কিংবা অন্য কিছুর। আপনার সাধ্য নাই কেনার। কিন্তু দিতে মন চাইছে। সেক্ষেত্রে বাচ্চাকে বলুন, তোমার জন্মদিন কিংবা তোমার স্কুল ছুটি হোক, কিনে দিবো। কথামতো কিনে দিবেন। শিশু অপেক্ষা করা ও সেই সাথে ধৈর্য ধরার অভ্যাস শিখে যাবে। সবসময় শিশুকে নিরাশ করবেন না। মনে রাখবেন আপনিই শিশুর আশ্রয়স্থল।

আরো বড় হবে যখন, তখন আপনার ছেলে কিংবা মেয়ে আরো দামী কিছু চেয়ে বসবে। যেমন প্লে-ষ্টেশন,বা এজাতীয় ইলেকট্রনিক খেলনা। বন্ধুদের আছে তার নাই। আপনার সম্ভব না কিনে দেয়া। কিংবা আপনি চাইছেন না এসব নিয়ে বসে বসে গেইম খেলুক। আপনি আপনার সন্তানকে সেক্ষেত্রে না বলে দিন। না মানে না। বাজারে আকর্ষণীয় খেলনার হাতছানি। কিন্তু আপনার শিশুকে লোভ সংবরণ করা শেখাতে হবে।

শিশুকে ছোটবেলা থেকে গল্পের বই পড়ে শোনাবেন তাদের ঘুমানোর সময়। বড় হলে বই পড়তে দিন। তারপরেও যখন দেখবেন আপনার সন্তান বই পড়ায় আগ্রহী নয়, তখন তাকে নিয়ে সপ্তাহে একদিন হলে গিয়ে সিনেমা দেখুন। অবশ্যই ইংরেজী সিনেমা, যেগুলো শিশুতোষ। বাডিতে সিডি নিয়ে আসুন একসাথে বসে সিনেমা দেখুন। তবে কখনো ল্যাপটপে একা সিনেমা দেখতে দিবেন না। পরিবারের সবাই মিলে সিনেমা, নয়তো খেলা দেখা উপভোগ করুন। বয়োজ্যাষ্ঠদের ডাকুন, তারাও উপভোগ করুক একসাথে।

দাদু কিংবা নানুর কাজে সাহায্য করতে শেখান। নিজেও তাদের সম্মান করুন। তারা যদি কোন কটু বাক্য বলেন, সহ্য করুন, না-শোনার ভান করুন। বৃদ্ধ বয়সে সবার মন খিটখিটে হয়। শিশু খুশী হয় তাদের দাদু কিংবা নানুর সাথে বাবা মাকে ধৈর্যশীল দেখলে। কারণ তারা তাদের দাদু, নানুকে ভীষণ ভালবাসে।

সন্তানের সামনে পরচর্চা করবেন না। ওদেরকে নিজ থেকে জগত বুঝতে দিন। আপনি আপনার সন্তানকে স্বনির্ভর হয়ে বড় হতে দিন। সে যেন বুঝে নিতে পারে কোনটি তাকে গ্রহণ করতে হবে এবং কোনটি তাকে বর্জন করতে হবে। আপনার সন্তান যেন বড় হয় আপন মহিমার।

২৯।০৫।২০১৭

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 140
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    140
    Shares

লেখাটি ৫৭০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.