লিটন নন্দীরা কাকে খুন করতে গেছিল??

0

বিথী হক:

লিটন নন্দীকে মনে আছে আপনাদের? না না কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, তার আরো পরিচয় আছে। দাঁড়ান মনে করিয়ে দিই। ২০১৫ সালে বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় নারীদের ওপর হওয়া যৌন হয়রানির পর যাকে দলে টানতে দেশের সক্রিয় বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী মোটামুটি কাছা মেরে পথে নেমেছিল। মনে পড়েছে?

গতকাল রাতে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে নন্দনতত্বের বিচারে মৃণাল হকের অনান্দনিক ও অখাদ্য ভাস্কর্য পুন:স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বেশ ভাল সংবাদ। ঘোষণা তো আগেই ছিল, কার্যকর যে এত দ্রুত হবে সেটা বুঝতে আমাদের একটু কষ্টই হয়েছে। তো এর আগে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদ মিছিল থেকে বেছে বেছে ৪ জনের নামে মামলা করলো পুলিশ, সাথে আরো ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা প্রতিবাদী। সে পর্যন্তও ঠিক আছে। কিন্তু মামলা ৩০৭ ধারায়। আ‌ইন সম্পর্কে আমার পড়াশোনা কম। তবুও যতটুকু জানি, এই ধারায় খুনের উদ্যোগ নিলে মামলা হয়। অর্থাৎ এটেম্পট টু মার্ডার মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৪ জন। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে আমার মতোন একজন নাদান সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তারা কাকে খুন করতে গিয়েছিলেন? পুলিশের বয়ামে কি ৩০৭ ছাড়া অন্য কোনো মামলা তলানিতে পড়ে ছিল না? নাকি অধিক উত্তেজনায় কী লিখতে গিয়ে কী লিখে ফেলেছে, বুঝে উঠতেই পারেনি!

ভেবে ভাল লাগছে এদেশের পুলিশ তবে কাজও করে। তারা রাস্তা থেকে যে কাওকে তুলে এনে পকেটে ইয়াবা, গাঁজা ঢুকিয়ে দিয়ে মাদক চোরাচালান মামলা দিয়ে দেন। ধর্ষণের শিকার নারীদের মামলা না নিয়ে বলেন ‘ওদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা করে পাই, তোর মত ফকিন্নীর মামলা নিয়ে সেটা হারাব নাকি!’ বাহ্ বাহ্ বেশ। ঢাকা শহরেরই আরেক থানায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ধর্ষণের শিকার নারীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাইলেন। টাকা ছাড়া যেখানে পুলিশ কোন মামলাই নিতে চায় না সেখানে পুলিশ নিজে উদ্যোগী হয়ে ১৫০ জনের নামে মামলা করছে, এটা বেশ আশাজনকই বটে!

শুধু আমার মতো মানুষরা জানতে চায়, যারা নাস্তিকদের কতল করতে চেয়ে মিছিল বের করলো, যারা বেহায়া নারীদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করতে চেয়ে শ্লোগান দিল, সেই একইদিনে ভাস্কর্য পুন:স্থাপনের দাবিতে করা প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এতোগুলো মানুষের নামে মামলা করলো! তাও আবার এটেম্পট টু মার্ডার! এটাই কি তবে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত? যারা খুন করতে চায়, তাদেরকে রাষ্ট্র মায়ের আঁচলের ছায়ায় মুড়িয়ে যারা যৌক্তিক দাবি নিয়ে সভা-সমাবেশ করে তাদেরকে আততায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করআর সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রেরই নেয়া তবে?

অথচ এইসব হবু খুনীরাই নিজের শরীর মেলে দেয় নারীকে হেনস্তা থেকে বাঁচাতে, নারীদের বাঁচাতে নিজের শরীর ভাংতে এগিয়ে দেয়। অথচ যারা খুন করতে চায় তারা এ দেশে বুক টান টান করে হেঁটে বেড়ায়, মিছিল বের করে, খুনের নেশা মাথায় নিয়ে দিনমান নিশ্চিন্তে যাপন করে। আমরা কি তবে ভুল সময়ে এসে পড়েছি? নাকি সময় আমাদের ভুল করে ভুল জায়গায় নিয়ে এসেছে? আমি জানতে চায়, রাষ্ট্রের কাছে খুনের সংজ্ঞা কী? খুনীর সংজ্ঞা কী? কেনই বা কারো নামে এটেম্পট টু মার্ডার মামলা করা যায়? কেউ আছেন, যিনি এর উত্তরগুলো আমাকে দেবেন? আছেন কেউ?

লেখাটি ৪,১৬১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.