আমার মাটি আমার মা, পাকিস্তান হবে না!

0

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি:

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার সাথে সাথে শহীদ মিনারটিও গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। নিয়াজী বলেছিল- এই জাতির জন্মপরিচয় বদলে দেবো! রাতের অন্ধকারে পাক বাহিনী ২৫শে মার্চ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারা কি সত্যিই ভাবতে পেরেছিল বাংলাদেশ তাদের হাত থেকে স্বাধীন হয়েও ঠিক ৪৫ বছর পরের কোনো একদিন রাতে নিজের বুক থেকে কোনো এক ন্যায় বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলতে এরকম তস্করের মতন আচরণ শুরু করবে? যদি তারা সেটা জানতো তাহলে সম্ভবত কিছুতেই ২৫শে মার্চ রাতে ঝাঁপিয়ে পড়তো না। তারা ঝাঁপিয়ে পড়তো ২০১৭ সালে ২৬শে মে রাতের জন্য!

আপনি বিশ্বাস করুন আমি যখন এই লেখাটা লিখছি তখন ঘড়িতে রাত ২টা বেজে কিছু মিনিট গিয়েছে। একদিন আগে বসে বসে ব্যাগ গুছিয়েছি সামার ভ্যাকেশানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরবো বলে। আমি বাড়ি যেতে পারছি না। কে যেন আমার পা’টা বেঁধে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে হাওয়া খেতে গিয়েছিলাম। আমাকে কারা যেন জোর করে ধর্ষণ করতে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ওটা গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য না। ওটা ন্যায় বিচারের প্রতীক ছিল। আপনি তাকে সরিয়ে ফেলা মেনে নিচ্ছেন নিন। আমি পারছি না। কারণ আজ বাদে কাল যারা ন্যায় বিচারের প্রতীক সরাচ্ছে সেই তারাই পাকিস্তানী তস্কর বাহিনীর মতন শহীদ মিনার সরাতে চাইবে, অপরাজেয় বাংলা, সাবাশ বাংলাদেশ সরাতে চাইবে। কারা যেন ‘অমর একুশে’ ভাস্কর্যে মৃত ছেলেটি হাতে নিয়ে দুঃখিনী মায়ের যে মূর্তি তাতে ওটা সরানোর দাবী করে গেছে।

মানে কী এর? এদেশে কোনো মা সন্তানের লাশ হাতে কাঁদলেও তাতে যৌন অনুভূতি জাগে? কারা তারা? তারা কি মানুষ? এই অমানুষদের বিরুদ্ধে আপনি দাঁড়াবেন না? প্রতিবাদ করবেন না?

তাই চলে আসুন শাহবাগে, ২৬ তারিখ ঠিক বিকেল ৪টায়। জোরে চেঁচিয়ে বলুন- আমার মাটি আমার মা, পাকিস্তান হবেনা।

আর যদি না আসেন, সেক্ষেত্রে বলবো- আপনি যদি মরার পরেও আপনার মাকে কাঁদতে দেওয়া হবেনা, তাহলেও একদল অমানুষের পাপচিন্তা কাজ করবে আপনার মা’কে দেখে- এই মর্মের বাংলাদেশ দেখতে চান তাহলে আমার কিছু বলার নাই।

আপনি বরং বলুন- সাবাশ পাকিস্তান! দেরীতে হলেও তোমরা সম্ভবত বাংলাদেশের ব্লাড লাইন চেঞ্জ করে দিয়েছ! তারা এখন রাতের আঁধারে তোমাদের মতই হিংস্র হয়ে ওঠে! তাও নিছক এক ভাস্কর্যের ওপর!

লেখাটি ২,০৬৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.